আবরার হত্যা: জড়িতদের ফাঁসিসহ ৮ দফা দাবিতে উত্তাল বুয়েট

  • ৮-Oct-২০১৯ ১২:১৪ অপরাহ্ন
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার দাবিতে উত্তাল বুয়েট ক্যাম্পাস। সোমবার রাতে বুয়েট কেন্দ্রীয় মসজিদে আবরারের জানাজার পর বিক্ষোভ শেষে আন্দোলন করার ঘোষণা দেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (০৮ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলনে নেমেছেন বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ফাহাদ হত্যার বিচারে আট দফা দাবি জানিয়েছেন তারা।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো—

১. ক্যাম্পাসে নোংরা ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে।

২. খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতকরণ।

৩. ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নিশ্চিতভাবে শনাক্তকৃত খুনিদের সকলের ছাত্রত্ব আজীবন বহিষ্কার।

৪. দায়েরকৃত মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের অধীনে স্বল্পতম সময়ে নিষ্পত্তি।

৫. বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি কেন ৩০ ঘণ্টা অতিবাহিত হবার পরও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়নি তার জবাব সশরীরে ক্যাম্পাসে এসে আজ বিকেল ৫টার মধ্যে দিতে হবে এবং ডিএসডব্লিউ স্যার কেন ঘটনাস্থল থেকে পলায়ন করেছেন তার কারণ বিকেল ৫টার তাকে দিতে হবে।

৬. আবাসিক হলগুলোতে র‌্যাগিংয়ের নামে নির্যাতন এবং ভিন্ন মতাবলম্বীদের ওপর সকল প্রকার শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন বন্ধে প্রশাসনকে জড়িত সকলের ছাত্রত্ব বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে আহসানউল্লাহ হল এবং সোহরাওয়ার্দী হলের পূর্বের ঘটনাগুলোতে জড়িত সকলের ছাত্রত্ব বাতিল ১১ নভেম্বর, বিকেল ৫টার মধ্যে নিশ্চিত করতে হবে।

৭. রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে আবাসিক হল থেকে ছাত্র উৎখাতের ব্যাপারে অজ্ঞ থাকা এবং ছাত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হওয়ায় শেরে বাংলা হলের প্রভোস্টকে ১১ নভেম্বর, বিকেল ৫টার মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে।

৮. মামলা চলাকালীন সকল খরচ এবং আবরারের পরিবারের সকল ক্ষতিপূরণ বুয়েট প্রশাসনকে বহন করতে হবে।

ফাহাদ হত্যার বিচার দাবিতে আজ সকাল থেকে ক্যাম্পাসে জড়ো হন আবরারের সহপাঠীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সকাল সাড়ে ১০টায় বুয়েট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে ‘বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে একটি মিছিল শুরু করেন তারা।

এসময় ‘খুনীদের ঠিকানা, এই বুয়েটে হবে না’, ‘ফাঁসি ফাঁসি, ফাঁসি চাই’, ‘প্রশাসনের দুই গালে, জুতা মারো তালে তালে’, ‘ভিসি তুই নীরব কেন, জবাব চাই, দিতে হবে’ এসব স্লোগান দিতে শোনা যায় শিক্ষার্থীদের।

এর আগে সোমবার রাতে ঢাকা মেডিকেল থেকে আবরারের লাশ বুয়েট ক্যাম্পাসে আনা হয়। এরপর রাত ১০টার দিকে পরিবারের স্বজন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সহপাঠীদের উপস্থিতিতে বুয়েট কেন্দ্রীয় মসজিতে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বুয়েটের অ্যাম্বুলেন্সে স্বজনরা আবরারের মরদেহ কুষ্টিয়াতে দাফন করাতে নিয়ে যান।

শিক্ষার্থীরা জানান, আবরারের জানাজায় পরিবারের সদস্যরা শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সহপাঠীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রায় দুই হাজার মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

জানাজার পর বুয়েটের শেরে বাংলা হলের সামনে শিক্ষার্থীরা সমাবেত হয়ে খুনিদের ফাঁসি চেয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। এরপর সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহীদ সৃতি হল, কেন্দ্রীয় মসজিদ, তিতুমীর হল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলসহ কয়েকটি হল প্রদক্ষিণ করে তারা বুয়েট শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান নেন।

ওই সমাবেশ থেকে আজকের বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা করা হয়েছে। সেখান থেকে পরবর্তী কর্মসূচির ঘোষণা করা হবে বলেও জানান আন্দোলনকারীরা। এরপর সমাবেশ শেষ করে তারা নিজ নিজ হলে ফিরে যান।

 

/কে 

Ads
Ads