তথ্যমন্ত্রীর সামনে এফডিসির দুর্নীতি ফাঁস করলেন অমিতাভ!

  • ৬-Oct-২০১৯ ০৭:৫৪ অপরাহ্ন
Ads

:: বিনোদন প্রতিবেদক ::

গতকাল ৫ অক্টোবর শনিবার সকালে চট্টগ্রামের প্রথম সিনেপ্লেঙ সিলভার স্ক্রিন-এর বর্ষপূর্তিতে ‘বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্প এবং বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। সেখানে বক্তব্য রাখেন আয়নাবাজী খ্যাত পরিচালক অমিতাভ রেজা চোধুরী। তিনি বক্তব্যর তুলে ধরেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের দুর্নীতির বাস্তবতা।

সেমিনারে চলচ্চিত্র নির্মাণে সরকারি অনুদান দেওয়ার ক্ষেত্রে ঘুষ দাবির অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্ত এই নির্মাতা। তিনি বলেন, আমি গত তিন বছর ধরে অনুদানের জন্য জমা দিয়ে রাখলাম। যদিও পাই নাই। আমাকে বলা হয়েছিল যে, পাঁচ লক্ষ টাকা দেন অনুদানের টাকা পেয়ে যাবেন। আমি বলেছি, লাগবে না মাফ করেন। এর চেয়ে বিজ্ঞাপন বানাই, অনেক ভালো আছি।

অমিতাভ রেজা বলেন, সরকার সিনেমার পেছনে যে পরিমাণ টাকা দিচ্ছে এটা কল্পনাতীত। আমাদের মতো গরিব দেশে ৬০ লক্ষ টাকা করে সিনেমার অনুদান দেওয়া হয়। বছরে তিনটা করে ছবি যদি দেওয়া হয় তাহলে গত পাঁচ বছরে ১৫টা সিনেমা হয়। কই এই ১৫টা সিনেমা? কথা হচ্ছে এই ছবিগুলো কিউরেট করা হয় না। এ ছবিগুলো কোথায়? কেন আমরা এগুলো দেখি না? এ ছবিগুলোতে তো ব্যবসা করার কোনো উদ্দেশ্য নাই। তাহলে কেন ছবিগুলোকে ঠিকমতো কিউরেট করা হচ্ছে না? প্রবলেম ইজ কিউরেটিং।

‘অদ্ভুত ন্যারেটিভ ও দুর্নীতির’ কারণে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্প দাঁড়াচ্ছে না মন্তব্য করে অমিতাভ রেজা বলেন, আমরা একটা অদ্ভুত ন্যারেটিভ তৈরি করছি। ওই ন্যারেটিভের কারণে আমরা মনে করছি, আমাদের কোন কালচার নাই, কোন গল্প নাই। আমাদের টেলিভিশন প্রডাকশনের গল্পও ভারতীয় চলচ্চিত্রের চেয়ে অনেক শক্তিশালী। আমাদের ভয় কিসের? আমাদের পায়ের নিচের যে মাটি সেটা আমরা দেখি না। পাশের বাসার বউকে ভাল্লাগে বেশি। এই পরকীয়াটা বাদ দিয়ে আমরা যদি নিজের গল্পটা হাজির করতে পারি তাহলে আমাদের সিনেমা দাঁড়িয়ে যাবে।

দুর্নীতির উদাহরণ দিয়ে অমিতাভ রেজা বলেন, এফডিসিতে ক্যামেরা আনা হয়, ট্রাইপডটা আনা হয় না। এফডিসিতে যে কালার কালেকশন দ্যা ভিঞ্চি আনা হয়েছে- অসাধারণ, মনিটর লাগানো হয়েছে স্যামসাংয়ের। ভাই এত চুরি করলে তো প্রবলেম! বুঝতে পারি অদ্ভুত কোনো করাপশন চলছে। সরকার প্রচুর টাকা বিনিয়োগ করছে। সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও মাঝখানের কিছু চোর-ছ্যাঁচড়ের কারণে সিনেমা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমাদের অসম্ভব মেধাবী ছেলেরা আছে ছবি বানানোর জন্য।

Ads
Ads