দিন শেষ রাজনীতির গডফাদারদের

  • ৬-Oct-২০১৯ ০৩:০৭ অপরাহ্ন
Ads

:: নঈম নিজাম ::

সৈয়দ আশরাফ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক থেকে বাদ পড়লেন। এর পরই একদিন আমন্ত্রণ জানালাম বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে। ভাবলাম তিনি আসবেন না। কারণ আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে আমাদের কাগজের একচেটিয়া সমর্থন ছিল ওবায়দুল কাদেরের প্রতি। সৈয়দ আশরাফের বিপক্ষে। আমাদের রাজনীতির প্রচলিত রীতি অনুযায়ী না আসারই কথা। আমার সব ধারণাকে বদলে দিলেন তিনি। এলেন অনুষ্ঠানে। দীর্ঘ সময় থাকলেন। গল্প করলেন আমার সঙ্গে। আগত অন্যসব অতিথির সঙ্গে। হাসিখুশি-প্রাণবন্ত, সবাইকে মাতিয়ে রাখলেন। আসলেই সব কিছুতেই ব্যতিক্রম ছিলেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। ছিলেন লোভ-লালসার বাইরে। সহনশীল, পরমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। অহমিকা, দাম্ভিকতা ছিল না। আড্ডায় আসরে দেখা হতো মাঝে মাঝে। কথা হতো। চলনে বলনে বিশ্বাসে ছিলেন দেশপ্রেমিক। বাংলাদেশের স্বার্থের প্রশ্নে আপসহীন। বিদেশি দূতাবাসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে দেশের স্বার্থে সমালোচনা করে ফেলতেন। সৈয়দ আশরাফ চলে গেছেন অনেক দিন হলো। দেশের বর্তমান রাজনীতি দেখে তার কথা মনে পড়ছে।

মনে হচ্ছে আমাদের রাজনীতিতে শেখ হাসিনার পাশে একজন সৈয়দ আশরাফের বড় অভাব। চারদিকে আগাছা আর পরগাছা। সততা নিষ্ঠা নিয়ে দেখার কেউ নেই। সব শেখ হাসিনাকেই সামাল দিতে হচ্ছে। এত মাননীয়ের কী কাজ জানি না। তবে অনেক মাননীয়ের হাত ধরেই নষ্ট হয়েছে রাজনীতি। অনেক মন্ত্রী, এমপি সাহেব গডফাদার হতে ভালোবাসেন। আর তাদের হাত ধরেই এত আগাছা আওয়ামী লীগে। জামায়াত-বিএনপিকে কারা আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছেন, দলে এনেছেন সেই তালিকা কি আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কাছে নেই? উপকমিটিতে রাস্তাঘাটের লোকজন কী করে আসে? শেখ হাসিনা সবই জানেন। ক্যাপ্টেন তাজের বাসায় একবার সৈয়দ আশরাফকে জীবিত থাকাকালে প্রশ্নও করেছি এসব নিয়ে। জবাবে তিনি বলেছিলেন, আওয়ামী লীগকে ভালো করেই জানেন। এখানে নেতার অভাব নেই। তারাই নিজের অনুসারী বাড়াতে গিয়ে এ কাজগুলো করেন। আশরাফ ভাই চলে যাওয়ার পর আগাছাদের উপদ্রব শতগুণ বেড়েছে। টাকায় মেলে কেন্দ্রের উপকমিটি আর ছাত্রলীগ, যুবলীগ, কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগের পদ-পদবি। আমাকে কেউ বলতে পারেন ইউরোপ আমেরিকায় কেন শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগের কমিটি থাকবে? ওখানে তাদের কী কাজ? কেন এসব কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়? এই আওয়ামী লীগ আমাদের বড্ড অচেনা। এই সংগঠন বঙ্গবন্ধুর হতে পারে না।

গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামের নেত্রী শেখ হাসিনার হতে পারে না। আর হতে পারে না বলেই বিলম্বে হলেও শেখ হাসিনা অ্যাকশন শুরু করেছেন। আমি অ্যাকশনকে সমর্থন করছি। মানুষ এই কঠোরতাকে সমর্থন দিচ্ছে। প্রশংসা করছে। এ অ্যাকশনে মানুষ ভুলে গেছে রাতের ভোটের কাহিনি। বিভিন্ন অসংগতির কথা। এ অ্যাকশন ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। অ্যাকশন অব্যাহত রাখতে হবে। এরই মধ্যে সুফল ঘরে আসতে শুরু করেছে। সাধারণ মানুষের মাঝে ফিরে আসছে স্বস্তি। শেখ হাসিনা মানুষের মন জয় করেছেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা কোনো অন্যায়কে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিতে পারেন না। আগামীর বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতেই শক্ত হাতে এভাবে সব অন্যায়কে তছনছ করে দিতে হবে। মানুষ দুষ্টচক্রের উচ্ছেদ দেখতে চায়। পার্টি বিক্রি করে অর্থ আদায়কারীদের পতন চায়। এ অ্যাকশন ধরে রাখতে হবে। দল ও সরকারে অব্যাহত রাখতে হবে শুদ্ধি অভিযান। শুধু রাজনীতিবিদ নন, নজর দিতে হবে আমলাদের ওপরও। দুর্নীতির অভিযোগ আমলাদের বিরুদ্ধেও রয়েছে। তাদের আড়াল করলে চলবে না। রাজনীতির নামে অপরাধ দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে পারে না। আর রাজনৈতিক দল চলতে পারে না করপোরেট বাণিজ্যের মতো বেচাকেনায়।

আনিসুল হকের কথা কারও মনে আছে? ব্যবসায়ী ছিলেন। রাজনীতিতে এলেন। মেয়র হলেন। ব্যবসা ছেড়ে দিলেন। কাজ শুরু করলেন মানুষের জন্য। স্বপ্নবাজ আনিসুল হক কাজ শুরু করলেন এই নগরীকে বদলে দিতে। মানুষ চাইলেই পারে। ঢাকার চেহারা বদলে দিতে থাকেন আনিস। বদল করলেন টেন্ডার ও উন্নয়নের নিয়ম-নীতিও। লড়াই করে উদ্ধার করলেন তেজগাঁও এলাকার সড়কগুলো। ফুটপাথ ও সড়ক নির্মাণে আলাদা ধাঁচ আনলেন। ঠিকাদারিতে আনলেন পরিবর্তন। ঢাকাকে ঢেলে সাজাতে নিলেন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। বিভিন্ন প্রকল্পে লেখা থাকত ব্যয়ের মোট অর্থের পরিমাণ, কাজ শুরু ও শেষ করার তারিখ এবং একই সঙ্গে ঠিকাদারের নাম-ঠিকানা। বাংলাদেশের সব প্রকল্প বাস্তবায়ন কি এভাবে করা যায় না? কেন করা যাবে না? কঠোর নির্দেশ ও নীতিমালার দরকার। এ নীতি তৈরি করে দিতে হবে। স্বপ্নবাজ আনিস, সততার প্রতীক সৈয়দ আশরাফরা অনেক বিষয়ে পথ দেখিয়ে গেছেন। সেই পথ হারিয়ে যেতে পারে না। স্বপ্নবাজ মানুষেরা বেশি দিন থাকেন না। কিন্তু তাদের দেখানো পথগুলো রেখে দেওয়া যায়। সেই পথ ধরে সামনে গেলেই হয়। মানুষ ইতিবাচক একটা অবস্থা দেখতে চায়। রাজনীতিতে সততা ও নিষ্ঠা না থাকলে কিছুই করা সম্ভব নয়। রাজনীতিবিদ সৎ হলে আমলারা সৎ থাকতে বাধ্য। ইতিহাস তা-ই বলে। রাজনীতিবিদ সৎ ও দক্ষ না হলে  আমলারা সুযোগ নেবে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ দুর্নীতিবাজ আর অদক্ষদের দিয়ে তৈরি সম্ভব নয়। আগাছা বেছে ফেলতে হবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বিকল্প নেই। বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে। আরও এগিয়ে যাবে।

রাজনৈতিক সততা জাদুঘরে চলে যেতে পারে না। এ সততাকে ফিরিয়ে আনতে হবে ফিনিক্স পাখির মতো। প্রাচীন মিসরের এই পাখির নাম ছিল বেনু। হরেক রঙের মিশেল এই পাখিকে নিয়ে আছে অনেক মিথ বা প্রবাদ। হাজার বছর বাঁচে ফিনিক্স। এক পর্যায়ে বেঁচে থাকার ক্লান্তি নিয়ে নিজেরা নিজেদের ধ্বংস করতে এক ধরনের আগুন সৃষ্টি করে। সেই আগুনে ঝাঁপিয়ে পড়ে নিজেকে শেষ করতে। কিন্তু শেষ হয় না কোনো কিছুই। ছাই থেকে আবার জন্ম হয় শিশু ফিনিক্সের। অমরত্ব নিয়ে সেই পাখির ছানা বেরিয়ে আসে দুনিয়ায়। তারপর বেঁচে থাকে হাজার বছর। প্রাচীন আমল থেকেই চালু এই মিথ এখনো আছে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর অনেকের ধারণা ছিল আওয়ামী লীগ আর রাজনীতিতে ফিরে আসবে না। কিন্তু শেখ হাসিনা সেই অসাধ্য সাধন করেছেন। ফিনিক্স পাখির মতো আওয়ামী লীগকে আবার নতুন করে জাগিয়ে দিয়েছেন। সেই রাজনীতি গত ১১ বছরে উইপোকা নীরবে খেয়ে ফেলছে। অতিলোভীরা সর্বনাশ করে ছাড়ছে। আওয়ামী লীগের ভিতরে ঢুকে গেছে, জামায়াত, ফ্রীডম পার্টি, বিএনপি। তারা আওয়ামী লীগের সুবিধাবাদীদের সঙ্গে ভাগবাটোয়ারা করছে। সবাই মিলেমিশে ভালো আছে। কিন্তু ক্ষতি হচ্ছে দেশ ও আওয়ামী লীগের। এ অবস্থা চলতে পারে না। বর্তমান কঠিন বাস্তবতা থেকে শিখতে হবে।

দেশের অনেক বড় রাজনীতিবিদ যখন মাফিজমে জড়িয়ে পড়ে তখন আর বলার কিছু থাকে না। আমরা রাজনীতিবিদদের কাছে ন্যূনতম একটা ভালো কিছু আশা করতেই পারি। সেই আশাকে নষ্ট করার অধিকার তাদের নেই। মোগল সাম্রাজ্যের দীর্ঘ শাসনকালও ক্ষয় হয়েছিল। কোনো ক্ষমতাই চিরস্থায়ী নয়। ভালোকে ভালো বলতে হবে। খারাপকে খারাপ। কিছু মানুষ অর্থবিত্তে দৃষ্টিকটুভাবে বড় হয়েছে ১১ বছরে। এ বাস্তবতা দৃশ্যমান। হঠাৎ করে কোন আলাদিনের প্রদীপ পেয়েছে তারা কেউ জানে না। শুধু ঢাকা শহরে নয়, গ্রামে গঞ্জে একই চিত্র। অনেক পিয়ন-দারোয়ানের বিত্তবৈভব নিয়েও গল্প শুনি। তাদের সম্পদ ও বাড়ির ছবি দেখি। কীভাবে তারা বিশাল রাজত্ব সৃষ্টি করলেন? জবাব কারও কাছে নেই। আবার অনেক এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান ও তাদের আত্মীয়-পরিজনের বিত্তবৈভবও বেড়েছে। মাঠে তারা গডফাদার ভাব ধরেছেন। গডফাদার সেজে রাজনীতির দিন শেষ। মাঠে থাকা গডফাদাররা ঠিক হয়ে যান। বঙ্গবন্ধুর মেয়ে মাঠে নেমেছেন। কাউকে ছাড় দেবেন না। তিনি এখন শুধু আওয়ামী লীগের নেত্রী নন, সাধারণ মানুষের শেষ ঠিকানা। এভাবে আর চলে না। আবারও বলছি, বঙ্গবন্ধুকন্যা সঠিক পথে রয়েছেন। তিনি সঠিক সময়ে আঘাত হেনেছেন। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে হবে। লুটেরাদের ধরতে হবে। সমাজের ভিতরে লুকিয়ে থাকা অপরাধী চক্রকে বের করে দিতে হবে রাজনৈতিক পরিমন্ডল থেকে। কোনো অন্যায় দীর্ঘমেয়াদে চলতে পারে না।

চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে বসে ক্ষমতার অপব্যবহারের অধিকার কারও নেই। রাষ্ট্রের থেকে বেতন নিয়ে নিজের পদকে ব্যবসায় ব্যবহার করবেন না। মানুষ আপনাদের ক্ষমা করবে না। আজ হোক কাল সবকিছুর জবাব দিতে হবে। ক্ষমতায় থাকতে হয় মানুষের মন জয় করে। উন্নয়ন ব্যাহত হয় আইনের শাসনের অভাবে। তাজমহল নির্মাণ করেও স্বস্তিতে ছিলেন না সম্রাট শাহজাহান। তার পুত্রই প্রশ্নবিদ্ধ করেছিলেন পিতাকে। একপর্যায়ে রাষ্ট্রের অর্থ সম্পদের অপচয়ের অভিযোগ এনে পিতাকে আটকও করেন। ইতিহাস থেকে শিখতে হবে। হুমায়ূন আহমেদ বলেছেন, ‘অধিকাংশ মানুষ কল্পনায় সুন্দর, অথবা সুন্দর দূর থেকে। কাছে এলেই আকর্ষণ কমে যায়। সব মানুষ একই। কারও সম্পর্কে যত কম জানা যায়, সে তত ভালো মানুষ।’ মানুষকে খুব সহজে খুশিও করা যায় না। একজনের একবার উপকার করবেন, দ্বিতীয়বার করবেন, তৃতীয়বার না পারলে তিনি আজীবন আপনার বিপক্ষে চলে যাবেন। আপনার জীবন অতিষ্ঠ করে তুলবেন। মানুষকে সারা দুনিয়া দিয়েও খুশি করা যায় না। বড় জটিল এই দুনিয়াদারি।

খান আতার কথায় কলিম শরাফীর একটি গান রয়েছে- ‘পথে পথে দিলাম ছড়াইয়া রে/সে দুঃখের চোখেরও পানি/ ও আমার চক্ষু নাই/পাড় নাই কিনার নাইরে/ও আমার চক্ষু নাই...’। অসাধারণ দরাজ গলা কলিম শরাফীর। মানুষের জীবনে অনেক সময় আমরাও দুঃখকে ছড়িয়ে দিয়ে হেঁটে যাই অজানার পথে। জানি না গন্তব্যের শেষ। অশান্তির অনল আমাদের মাঝে দহন তৈরি করে। বাস্তব জীবনে আমাদের চোখ সরানোর সুযোগ নেই। শর্টকাট পথে বিত্তশালী বনার প্রতিযোগিতা আজ সমাজে অশান্তি তৈরি করছে। এই বাজে প্রতিযোগিতা থেকে এ সমাজকে বের করে আনতে হবে। চিন্তার পরিশীলতা তৈরি করতে হবে। তারুণ্যকে বাঁচাতে হবে মাদকের কবল থেকে। ইতিবাচক স্বপ্নচারিতা ছড়িয়ে দিতে হবে সবার মাঝে। দেখাতে হবে সুন্দর আগামীর পথ। সেই পথে বাধা সৃষ্টিকারী দানবদের প্রতিরোধ করতে হবে সবাইকে মিলিতভাবেই। এ চেষ্টা যত কঠিন হোক না কেন বাস্তবায়ন করতে হবে। বাংলাদেশ আমাদের। ৩০ লাখ শহীদের রক্তে অর্জিত এই দেশটাকে ভালোবাসতে হবে। দেশের প্রতি মায়া-দরদ তৈরি হলে সমস্যা থাকে না। প্রতিবেশী ভারতেও রাজনীতিবিদদের দেশপ্রেম নিয়ে আমরা আলোচনা করি।

বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী পড়ার পর কোনো রাজনৈতিক কর্মী আর অন্যায় করতে পারে না। বঙ্গবন্ধুর সত্যিকারের আদর্শের কথাই আগামীর প্রজন্মকে জানাতে হবে। তাহলে এত সমস্যা আর থাকে না। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী কোনো নির্দেশ দিলে বাস্তবায়নের দায়িত্ব দলের নেতাদের। আর প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিলে বাস্তবায়নের দায়িত্ব সরকারের নীতিনির্ধারকদের। এখানে কোনো গাফিলতি আর গল্পবাজি-বক্তৃতার সুযোগ নেই। আজ হোক কাল অনেককে জবাব দিতে হবে- পিয়ন, দারোয়ানরা কী করে দলীয় পদ পায়? রাস্তার টোকাই, ফ্রীডম পার্টি, বিএনপি-জামায়াত কী করে দলীয় পদে বসে? যাদের উত্তর দেওয়ার কথা তারা প্রশ্ন করে বক্তৃতা দিলে এই জবাব কে দেবে? দিনের পর দিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখের সামনে কী করে অপরাধ সাম্রাজ্যের বিকাশ হয়? হাজারো প্রশ্ন মানুষের মনে। দল ও সরকার চালানো একজনের দায়িত্ব নয়। যার যা দায়িত্ব পালন করতে হবে। মনে রাখুন, সময়কে জোর করে আটকে রাখা যায় না। নদী বয়ে যায় আপন মহিমায়। খোলা আকাশটা অনেক সময় মেঘে ঢেকে যায়। বাগানের জঙ্গলও পরিষ্কার করতে হয় মালীকে। না হলে ফুল ফুটবে না। পরিবেশ না হলে পাখিও গান গায় না। মানুষেরও বুকের ভিতরে জমে থাকা কষ্টগুলো একটা সময় বেরিয়ে আসে নিজের অজান্তে। তখন আর কিছু লুকোনো যায় না।

লেখক: সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন।

Ads
Ads