উন্নয়ন ধ্বংসের উঁইপোকারা সাবধান

  • ৩-Oct-২০১৯ ১০:১০ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশকে পিছিয়ে রেখেছে স্বাধীনতার শত্রুরা। পাকিস্তানি দোসরশক্তি মুখোশের আড়ালে চালিয়েছেন এসব কর্মকাণ্ড। সুবিধাভোগী রক্তচোষারা তাদের খোলস বদলে যুবলীগসহ বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনে ঠাঁই করে নিয়েছেন। আওয়ামী লীগেও অনুপ্রবেশ করে কালিমা লেপনে চেষ্টা করেছেন। অনুপ্রবেশকারীরা বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া নৈতিকতার প্রতিচ্ছবি ছাত্ররাজনীতির রোল মড়েল ছাত্রলীগকেও করতে চেয়েছেন প্রশ্নবিদ্ধ। তারা মুখোশে আবৃত থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে দেশে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ প্রতিষ্ঠা করতে ব্যস্ত। দুর্নীতি করতে করতে তাকে পেশা বানিয়ে নিয়েছেন। গুজব ছড়িয়ে ভীতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেও বর্তমান সরকারকে দুর্বল করার চেষ্টা করেছেন। এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি দেশ থেকে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে গত বুধবার বলেছেন, ‘তার সরকার দেশের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ উঁইপোকায় ধ্বংস করা থেকে রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’ 

চলতি বাজেটে ১৭৩ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার। অবকাঠামোগত উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তির উল্লেখযোগ্য উন্নয়নও ঘটেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হয়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দেখে বিশ্বাসী অভিভূত। দেশে সামগ্রীক শান্তি প্রতিষ্ঠা ও আইনের বিশুদ্ধ অনুশাসন বিশ্বদরবারে প্রশংসিত হয়েছে। পাশাপাশি এসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে রুখে দিতে ষড়যন্ত্রকারী উঁইপোকারা ওঁৎ পেতে আছে। তারা উৎকোচের বিনিময়ে স্বজনপ্রীতি করে ব্যাহত করছে প্রকল্পের কাজ। দেশ উন্নয়নের পথে বাধা এসব উঁইপোকাদের সাবধান করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের প্রথম কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১-এর মাধ্যমে দেশীয় সব টেলিভিশন চ্যানেলের বাণিজ্যিক ট্রান্সমিশনের উদ্বোধনকালে তিনি বলেছেন, ‘দুর্নীতিবাজ উঁইপোকারা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নকালে অর্থ লুটে নিচ্ছে। দেশের উন্নয়নের জন্য জনগণের কষ্টার্জিত অর্থের প্রতিটি পয়সার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতের জন্য আমাদের ওই সব উঁইপোকাকে আটক করতে হবে।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘আমরা জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত রাখব। এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকলে দল-পরিবার নির্বিশেষে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। আমি দেশের দরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন পূরণ করতে চাই।’

প্রধানমন্ত্রীর এই অঙ্গিকারের স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি আমাদের সামনে উদাহরণ হিসেবে রয়েছে। বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির দায়ে সম্প্রতি ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কয়েকজন নেতার বিষয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারপরই ছাত্রলীগের পদ হারান শোভন-রাব্বানী। এরপর আটক হন যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। বেরিয়ে আসে কয়েকশ কোটি টাকার ক্যাসিনো ব্যবসার নেপথ্যের কাহিনি। যুবলীগে মিশে থাকা আরেক উঁইপোকা ক্ষমতাধর সাপ কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক এসএম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জিকে শামীমকেও গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। রিমান্ডে নিলে বেরিয়ে আসে আসল খবর। দেখা যায়, মূলত ক্যাসিনোর হোতা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদার পুত্র তারেক জিয়া। জুয়ার টাকা বস্তায় বস্তায় যেতো তার কাছেই।  আর রাজধানীর সবুজবাগ, বাসাবো, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালী ঠিকাদার হিসেবে পরিচিত শামীম বিএনপি-জামায়াত শাসনামলে গণপূর্তে এই শামীমই ছিলেন, যিনি বিএনপির পরিচয়ে ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তি। ধরা পড়ার সময় ছেড়ে দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তিনি প্রস্তাব দেনÑ ‘দশ কোটি দিচ্ছি, প্রয়োজনে আরও দেবো।’ তবুও পার পাননি তিনি। সুতরাং সাবধান সব উঁইপোকারা।

Ads
Ads