শুধু যুবলীগের নয়, যুবদলের নিরব-জাহাঙ্গীরের রমরমা ক্যাসিনো ব্যবসা

  • ২৯-Sep-২০১৯ ০৩:৪০ অপরাহ্ন
Ads

:: সিনিয়র প্রতিবেদক ::

চলমান অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসায়ে শুধু ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের নেতারাই জড়িত নন। বিএনপির অঙ্গ সংগঠন যুবদলের দুই নেতারও এই ব্যবসায় জড়িত বলে জানা গেছে।

ঢাকায় যুবদলের দুই শীর্ষ নেতার ছত্রছায়ায় ক্যাসিনোর অর্থ লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব ও ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ক্যাসিনো ক্লাবে বসিয়ে দেদারছে ব্যবসা করেছেন।

জানা যায়, কাকরাইলের রাজমনি ঈশা খা হোটেল সংলগ্ন এলাকায় সাইফুল আলম নীরবের যে অফিস সেটাই ছিল ক্যাসিনোর চাঁদা সংগ্রহ করার স্থান। যুবদলের এই দুইজন মাফিয়া সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও নেপালের মতো ক্যাসিনো বসিয়ে নিয়মিত হাতিয়ে নিয়েছেন বিপুল পরিমাণ অর্থ। অল্পদিনে হয়েছেন বিত্ত বৈভবের মালিক। তারা মোটা অংকের অর্থ বিভিন্ন কৌশলে বিদেশে পাচার করেছেন।

এই দুজনের একজন এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন যিনি নীরবের হয়ে প্রতিদিন তার এজেন্ট দিয়ে চাঁদার টাকা সংগ্রহ করতেন। ইতিমধ্যে জাহাঙ্গীর গা ঢাকা দিতে লন্ডন পালালেও সাইফুল আলম নীরব এখনও দেশেই আছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজধানীর কাকরাইলে রাজমনি ঈশা খা হোটেলে প্রতিদিন সন্ধ্যায় মিলিত হতেন যুবদল নেতা সাইফুল আলম নীরবসহ তার ক্যাডার বাহিনী। সেখানে তারা মদ্যপান ও নারী নিয়ে রঙ্গ তামাশাসহ ক্যাসিনোর চাঁদার টাকা ভাগাভাগি করতেন। এসএম জাহাঙ্গীর তার দুজন বিশ্বস্ত কর্মী দিয়ে এই টাকা আনা নেয়ার কাজ করাতেন।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে আরও বেশ কিছু তথ্য। সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া জি কে শামীমের সাথে নীরবের ছিল গভীর সখ্যতা। সরকারী বিভিন্ন কাজের টেন্ডার নিরব সমর্থিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে পাইয়ে দিতেন জি কে শামীম। শামীমের অফিসের বেশ কয়েকজন স্টাফের সাথে কথা বলে এর সত্যতা পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য, যুবদলের সভাপতি সাইফুল নিরবের বিরুদ্ধে তিন শতাধিক মামলা থাকলে তিনি আঁতাত করে গত ১০ বছরের মধ্যে একবারও জেল খাটেননি। এছাড়া টেন্ডার কিং জি কে শামীমের সাথে বিশেষ গোননীয় সম্পর্কের কারণে গণপূর্ত ভবন থেকে কোটি কোটি টাকার কাজ ভাগিয়ে নিয়েছেন।

Ads
Ads