জি কে শামীমের লোপাটের অংশীদার গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল দে! 

  • ২৩-Sep-২০১৯ ০৭:০৫ অপরাহ্ন
Ads

::উৎপল দাস::

টানা তিনবার ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের মধ্যে অনুপ্রবেশকারীরা দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করেই চলেছে। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে এ্যাকশনে গিয়েছেন। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতিমধ্যে যুবলীগে অনুপ্রবেশকারী দুই নেতাকে আটক করেছে। তাদের মধ্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ ভূইয়াকে অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসার অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এছাড়া শুক্রবার যুবদলের নেতা থেকে প্রায় ৫০ কোটি টাকা খরচ করে আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতার আর্শিবাদে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায় সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বনে যান জি কে শামীম। ভোরের পাতার অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য। সরকারের উন্নয়ন ধারা অব্যাহত রাখতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ অধিদপ্তরটিকে গিলে ফেলেছিলেন। তার মাধ্যমেই সব ধরণের বড় অংকের দরপত্র/ টেন্ডার বাণিজ্য চলতো। বিএনপি জামায়াতের অনুসারী হিসাবে জিকে শামীমের সঙ্গে মিলেমিশে গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম এবং বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী সাহাদাত হোসেন কমপক্ষে সাতশ কোটি টাকার কমিশন বাণিজ্য করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। রাজাকার শিরোমনি গোলাম আজমের ভাগিনা রফিকুল ইসলামের আমলেই সবচে বেশি লুটপাট হয়েছে। বর্তমানে গণপূর্ত অধিদপ্তরের আরো ২ জন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীদের সাথেও বিতর্কিত ব্যবসায়ী জিকে শামীমের রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা। গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ঢাকা মেট্রোপলিটানের দায়িত্বে থাকা উৎপল কুমার দে'র সঙ্গে জিকে শামীমের কমিশন বাণিজ্যেরও অভিযোগ উঠেছে। সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনগুলোতে অনুপ্রবেশকারীদের দুর্নীতি নিয়ে ভোরের পাতার অনুসন্ধানী ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ থাকছে দ্বিতীয় পর্ব।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জি কে শামীমের হস্তক্ষেপ ছাড়া গণপূর্ত অধিদপ্তরে বৃহৎ কোনো প্রকল্প অনুমোদনই হতো না গত ৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে। সাবেক প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামের সাথে বিশেষ গোপনীয় সখ্যতার কারণে এক চেটিয়া ব্যবসা করে টেন্ডার মাফিয়া বনে যান জি কে শামীম। তবে আগামী দিনে গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী হওয়ার দৌঁড়ে এগিয়ে থাকার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন 
প্রমাণিত দুর্নীতিবাজ ও বিএনপি-জামায়াতের এজেন্ট হিসাবে কাজ করা রংপুরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলম। এমনকি আরেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে। তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি আওয়ামী লীগ পন্থী হলেও তিনি জি কে শামীমের সঙ্গে গোপন সখ্যতা করে প্রায় সব কাজই বিএনপি-জামায়াতের পৃষ্ঠপোষকদের কাজ দিয়ে দিয়েছেন। ফলে সাবেক প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামের পথ ধরে যেমন বর্তমান সাহাদাত হোসেন কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, তেমনি অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে একই পথে হেঁটে নিজেদের আখের গুছিয়ে নিচ্ছেন। গণপূর্ত ভবনেরই নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র ভোরের পাতাকে নিশ্চিত করেছে, জি কে শামীমের লোকজনকে কাজ দিতে কমিশন বাণিজ্য হিসাবে উৎপল কুমার দে কমপক্ষে শতাধিক কোটি অবৈধ টাকার মালিক বনে গেছেন। সূত্রটি আরো দাবি করেন, দুর্নীতিবাজ উৎপল কুমার দে বিশেষ পন্থায় এই বিপুল পরিমাণ টাকা বিদেশে পাচার করেছে। সুষ্ঠু ও অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে তার দুর্নীতির সব খতিয়ান বের করে শাস্তির মুখোমুখি করার দাবিও জানান গণপূর্ত বিভাগের মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিটি। 

এদিকে, গত কয়েকমাস আগে প্রাথমিকভাবে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ৫ জন শীর্ষ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার নাম সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে তাদের অতীত ও বর্তমান দুর্নীতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ঢাকা মেট্রো) উৎপল কুমার দে'র নাম ছিল তালিকার উপরের দিকেই। বর্তমানে জিকে শামীমের অন্যতম দোসর হিসাবে তিনি ৫০০ কোটি টাকার একটি কাজ কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে দিয়েছেন বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। 

সূত্র আরো জানিয়েছে, গণপূর্ত বিভাগের সবচে সুযোগ সন্ধানী ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা হিসাবে পরিচিত উৎপল কুমার দে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের মানুষ হলেও তার ব্যাক্তিগত রাজনৈতিক আদর্শ নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলার সুযোগ কম।  তবে তিনি জি কে শামীমের সঙ্গে আঁতাত করে বিএনপি-জামায়াতের লোকজনকেই কাজ দিয়েছেন নিয়মিত। যদিও তার হাত দিয়ে বরাদ্দকৃত কাজগুলো কোনটাই সময় মতো, নির্দিষ্ট বাজেটের মধ্যে শেষ করা সম্ভব হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। 

এছাড়া বর্তমান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প কেরানিগঞ্জের কারাগার নির্মাণের কেলেংকারিতে ফেঁসে যাওয়া কর্মকর্তা উৎপল কুমার দে নিজেই কৌশলে তার বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত প্রতিবেদনটি সমঝোতার মাধ্যমে আটকে রেখেছেন বলে জানা গেছে। দুর্নীতির তদন্ত ফাইল ধামাচাপা দেয়ার বিষয়ে গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমকেও অবহিত করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, দুর্নীতিবাজ যেই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া মাত্রই ব্যবস্থা নেয়া হবে। দুর্নীতিবাজদের কোনো ঠাঁই গণপূর্তে হবে না। কেননা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করার জন্যই তিনি এখানে বসেছেন।

এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ঢাকা মেট্রো.) উৎপল কুমার দে নিজেকে পরবর্তী প্রধান প্রকৌশলী হিসাবে নিয়োগ পেতে বিভিন্ন জায়গাতে তদবির শুরু করেছেন। এমনকি সরকারের সর্বোচ্চ মহলের দুয়ারেও গিয়েছিলেন। কিন্তু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা হিসাবে সেখানে তেমন কোনো পাত্তাই পাননি। এছাড়া প্রতিবেশি ও প্রভাবশালী একটি রাষ্ট্রে গিয়েও লবিং করছেন বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র। 

এসব বিষয়ে মন্তব্য জানার জন্য উৎপল কুমার দে'র সঙ্গে দেখা করতে গেলেও তিনি সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদককে পরেরদিন দেখা করতে বলেন। কিন্তু পরের দিন গেলে তিনি বৈঠকের ব্যস্ততার কারণে দেখা করতে রাজি হননি। এমনকি ফোন করলে অন্য আরেকজনকে দিয়ে ফোন ধরিয়েছিলেন এবং তিনি হাসপাতালে আছেন বলে জানান। 

(চলবে...)
আগামী পর্বে: জি কে শামীমের কথায় বিএনপি জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেন গণপূর্তের অতি. প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলম!
 

Ads
Ads