নবজাতকসহ প্রসূতি মৃত্যু, ভুক্তভোগীরা রহস্যজনক ভাবে অভিযোগ নেই বলে লিখিত দেন

  • ২২-Sep-২০১৯ ০৭:৪২ অপরাহ্ন
Ads

:: দশমিনা প্রতিনিধি ::

পটুয়াখালীর দশমিনায় নার্সের লোভের বসবর্তী হয়ে প্রসূতীসহ শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠলেও রহস্যজনক কারণে সে চিত্র পাল্টে যায়। ভুক্তভোগীর অভিযোগ নেই মর্মে দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে লিখিত দিলে স্থানীয় সচেতন মহলে সৃষ্টি হয় ক্ষোভের।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: গোলাম মোস্তফা বলছেন ভুক্তভোগীদের অভিযোগ নেই অথচ গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটি। অভিযোগ রয়েছে ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্য টাকা লেনদেনের। 

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় উপজেলার সদর ইউনিয়নের লক্ষিপুর গ্রামের ইউনুচ বেপারীর গর্ভবতী স্ত্রী আফানুর বেগম (২৫) কে ডেলিভারীর জন্য দশমিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রুগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা উন্নত চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পরে স্বজনরা ওই প্রসূতিকে পটুয়াখালী নেয়ার জন্য এ্যাম্বুলেন্সে উঠাতে গেলে দশমিনা হাসপাতালের নার্স কৃষ্ণ রানী তাকে বাধা দিয়ে পরিচ্ছন্নতা কর্মীর সহায়তায় ডেলিভারী রুমে নিয়ে গিয়ে ডেভিভারী করেন। এতে ওই প্রসূতির অতিরিক্তর রক্তক্ষরণ শুরু হলে আসংঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে পটুয়াখালী নেয়ার পথে মৃত্যু হয়। পরে শনিবার প্রসূতি মায়ের নবজাতক শিশুটির মৃত্যু হয়।

এদিকে প্রথমদিকে দশমিনা হাসপাতালের নার্স কৃষ্ণ রানীর ডেলিভারী করলে টাকা পাবেন এমন খামখেয়ালী পনায় প্রসূতি মায়ের মৃত্যু হয়েছে মর্মে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করলেও একদিনের ব্যবধানে সে চিত্র পাল্টে যায়। অভিযোগ রয়েছে মোটা অংকের লেনদেনের হওয়ায় ভুক্তভোগীদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হওয়ার কারণ। অপরদিকে ঘটনার দিন গভীর রাত পর্যন্ত ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্য একটি মহলের সাথে মোটা অংকের টাকার লেনদেন হয় হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের।

এ ঘটনায় স্থানীয় মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: গোলাম মোস্তফা ভাষ্য অনুযায়ী ভুক্তভোগীদের কোন অভিযোগ নেই। অথচ তিনি হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের দিয়ে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে তা ৫ কর্মদিবসের মধ্যে দাখিলে নির্দেশ দেন।

এ নিয়ে রোববার দুপুরে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অভিযোগ নেই মর্মে লিখিত রাখেন। এতে ধু¤্রজালের সৃষ্টি হয়। স্বাস্থ্য কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা স্থানীয় এক সংবাদ কর্মীকে বলেন, নার্সের কর্মের দায়ভার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নেবেনা।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: গোলাম মোস্তফা জানান, এ ঘটনায় ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

পটুয়াখালী সিভিল সার্জন ডা: শাহ মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, তদন্ত কমিটি রিপোর্ট দাখিলের পর আমি ব্যবস্থা নেবো।

 

/কে 

Ads
Ads