ছাত্রলীগের অভিভাবক বঙ্গবন্ধুকন্যার সিদ্ধান্ত শিরোধার্য

  • ১৫-Sep-২০১৯ ০৯:৩০ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান :: 

উপমহাদেশের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া এই সংগঠন স্বাধীনতার চেতনায় উদ্ভাসিত বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারীদের প্রেরণার উচ্ছ্বাস। এই সংগঠনের গর্বের তাজ পরেছেন অনেকেই। ইতিহাস বলে গৌরবের এই তাজধারণকারীরাই পরবর্তীতে দেশ পরিচালনায় বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া এই সংগঠনের মুকুট মাথায় ধারণ করে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন ছাত্রলীগ থেকে সম্প্রতি পদচ্যুত সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অভিভাবক হিসেবে কোনো অন্যায়কেই প্রশ্রয় দেননি। শোভন-রাব্বানীর স্থলে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দিয়েছেন আল নাহিয়ান খান জয় ও লেখক ভট্টাচার্যের ওপর। অভিভাবকের এই রায় শিরোধার্য। আগামীর ভবিষ্যৎ আলোকিত পথে এগিয়ে যাক ছাত্রলীগের নতুন এই কাণ্ডারির পরিচালনায়। 

১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠা হওয়া এই ছাত্রলীগের বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রামের উন্মেষকাল মাতৃভাষা রক্ষার আন্দোলন ‘মহান ভাষা আন্দোলন’-এ নেতৃত্ব দেওয়ার মাধ্যমে রক্তাক্ত ও সংগ্রামী যাত্রাপথের সূচনা হয়। এরপর থেকে সংঘটিত প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্রলীগ তার এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সফল হয়। আইয়ুব খানের সামরিক শাসনবিরোধী, শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ৬ দফা আন্দোলন, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাবিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে ছাত্রলীগের গৌরবদীপ্ত ও অবিস্মরণীয় ভূমিকা আজ সর্বজনস্বীকৃত ইতিহাসের অংশ। ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের অবদান ছাত্রলীগের ইতিহাসকে দান করেছে অনন্য বৈশিষ্ট্য। জাতির স্বাধিকার ও স্বাধীনতা আন্দোলনে ছাত্রলীগ একটি সংগঠিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেকে ওৎপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত করতে অত্যন্ত সফলভাবে সমর্থ হয়। ছাত্রলীগ সংগঠন হিসেবে দুর্জয়ী কাফেলায় পরিণত হয়েছে। এ জন্য হারাতে হয়েছে অসংখ্য নেতাকর্মী।

সংগঠনের অসংখ্য শহীদ, অগণিত নেতাকর্মীর জেল-জুলুম-কারাবরণ, নির্যাতন-নিপীড়ন ভোগ, আর নেতাকর্মীদের এক নদী রক্তের বিনিময়ে রচিত হয়েছে এক সফল রক্তাক্ত ইতিহাস ও  স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। স্বাধীনতা-পরবর্তীতে ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের পরে প্রথমে খুনি মোশতাক সরকার ও পরে সামরিক স্বৈরাচার খুনি জিয়াউর রহমান, এরশাদ ও খালেদা জিয়ার শাসনামলেও জেল-জুলুম-হুলিয়ার শিকার হয়ে অগণিত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে কারাবরণ, দেশত্যাগ, অমানবিক নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছে। তারুণ্যের উচ্ছ্বল প্রাণবন্যায় ভরপুর বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা দেশের ইতিহাসকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন, লড়াই করেছেন প্রতিটি অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে। ঠিক এই কারণেই বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘ছাত্রলীগের ইতিহাস বাঙালি জাতির ইতিহাস-বাংলাদেশের ইতিহাস’।

আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের সাবেক নেত্রী ছিলেন। তিনিসহ বিভিন্ন সময়ে ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকর্মীরা তাদের নিজস্ব মেধা ও কর্মের মাধ্যমে আজকে সমাজের বিভিন্ন স্তর সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। বাংলাদেশ এখন মধ্যমআয়ের দেশে উন্নীত। দেশ থেকে অপরাজনীতি, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ এখন প্রায় দূরীভূত। জনগণের নেত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করছেন বিশ্বনেতারা। তারা বিস্ময়ে অভিভূত হয়েছেন। জানতে চেয়েছেন দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মিরাকলটা কী? কী চমক আছে জননেত্রীর নেতৃত্বে? বঙ্গবন্ধুকন্যার সেসব দিন আঁধারিত হবে, সেটা কখনোই মেনে নিতে পারেন না তিনি। তিনি অভিভাবক। অভিভাবক হিসেবে এর আগেও ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে ভুলপথ থেকে সরে আসতে ছাত্রলীগকে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। দেশ গড়ার কাজে মনোনিবেশ করতে নির্দেশ দিয়েছেন বারবার। সবসময় তিনি চান, তার সন্তানতুল্য ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আদর্শের ঝাণ্ডা হাতে গৌরবের সঙ্গে দেশ থেকে দেশে মাথা উঁচু করে থাকবে। সেই নেতৃত্বে সামান্য কালিমা লাগলেও তিনি তা হৃদয় থেকে মেনে নিতে পারেন না। 

এদিকে ছাত্রলীগে নতুন নেতৃত্বে সভাপতি পদে ভারপ্রাপ্ত হয়েছেন সহ-সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক পদে ভারপ্রাপ্ত হয়েছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য। তারা আজ ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে সংগঠনের দায়িত্ব নেবেন। এর আগে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে আল নাহিয়ান খান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘ছাত্রলীগ কোনো অন্যায়কারী, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজকে প্রশ্রয় দেবে না। কেউ চাঁদাবাজি করে ছাত্রলীগের দুর্নাম করছেন, এমন প্রমাণ পাওয়া গেলে তারা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেবেন।’ বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে কাজ করে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন লেখক ভট্টাচার্যও। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অভিভাবকত্বে ছাত্রলীগের আলোকবর্তিকারা যুগ-যুগের গৌরবকে সঙ্গে করে হেঁটে যাবে। তার সিদ্ধান্ত আমাদের সবার জন্য শিরোধার্য।

Ads
Ads