বোধদয়ের পর নেত্রী শোভন রাব্বানীর প্রতি ক্ষমাশীল হবেন

  • ১৩-Sep-২০১৯ ০৬:৫২ অপরাহ্ন
Ads

::ড. কাজী এরতেজা হাসান:: 

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতাত্তোর সময়ে বলেছিলেন, ছাত্রলীগের ইতিহাস মানেই বাংলাদেশের ইতিহাস।  জাতির মহান নায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিজ হাতে গড়া ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের একমাত্র ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। ইতিহাস এত্যিহের গৌরব নিয়ে দীর্ঘ সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে পথহাঁটা বাংলাদেশ ছাত্রলীগই আওয়ামী লীগ রাজনীতির আঁতুড়ঘর। আওয়ামী লীগের আরো যে কয়েকটি বৈধ সহযোগী সংগঠন রয়েছে সেগুলো নিয়ে তেমন কোনো আলোচনা সমালোচনা থাকলেও ছাত্রলীগ নিয়ে সারাবছরই কিছু ত্রুটির দেখা মিললে সমালোচনার টর্নেডো বইতে শুরু করে। এটা কখনোই কাম্য হতে পারে না। বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, তাঁতী লীগ, যুব মহিলা লীগ থেকে শুরু করে শ্রমিক লীগ নিয়ে তেমন কোনো আলোচনা সমালোচনা দেখা যায় না। দলগুলোর রাজনৈতিক ভুলগুলো নিয়েও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে গণমাধ্যমও পিছিয়ে থাকে। সব সময়ই দেখা যায়, ছাত্রলীগের কট্টর সমালোচনা। 

এক্ষেত্রে একটি কথা বলতেই হয়, আওয়ামী লীগেরই অনেক শীর্ষ নেতা যারা এখন আগুনে ঘি ঢেলে দিচ্ছেন। এক সময় এই ছাত্রলীগের রাজনীতি করে আজকের অবস্থানে আসা নেতারা নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে না পেরে সংগঠনটির সর্বোচ্চ অভিভাবক, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার কাছে কান ভারী করছেন। একটি অশুভ চক্র বহু বছর ধরেই ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রক ছিল, তাই এবার রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানীর নেতৃত্বাধীন কমিটি নিজেই যাচাই বাছাই করে মনোনীত করেন শেখ হাসিনা। তারপর তার এই কমিটিকে বিতর্কিত করতে পুরোনো সেই মহলটি নানা কৌশলে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে বলেও বারবার খবর বেরিয়েছে। 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী হিসাবে নয়, ছাত্রলীগের পরিপূর্ণ গঠনতন্ত্রের নাম যেখানে শেখ হাসিনা তখন আপনার কাছে নিবেদন এই যে, আপনি নিজেও ছাত্রলীগের রাজনীতি করেই আজকের বিশ্বনেত্রী হয়েছেন। গণতন্ত্রের মানসকন্যা হিসাবে, মমতাময়ী মা হিসাবে আপনিই এখন বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের পরিচয়ের নাম। আপনার একক নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশ যে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে, সে ক্ষেত্রে ছাত্রলীগেরও অবদান রয়েছে। মাঠে নেমে রাজনীতি ছাত্রলীগই করে। রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানীর নেতৃত্বাধীন ছাত্রলীগের কমিটি অনেকগুলো ভালো কাজও করেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা আপনার কাছে যেসব অভিযোগ তুলেছেন, সেগুলো সম্পর্কে একটু আলোকপাত করতে চাই। 

মাননীয় নেত্রী, আপনি প্রচুর শ্রম আর মেধা দিয়ে, কঠোর মনোভাব নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। হয়তো সব সময় ছাত্রলীগের সব ধরণের কাজের খোঁজ খবর নিতে পারেন না। তবে সর্বশেষ যে বৈঠকে ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতার ঘুম থেকে দেরিতে উঠা এবং একজন সিনিয়র নেতাকে অনুষ্ঠানে বসিয়ে রাখার যে অভিযোগ উঠেছে; তা মোটেও সত্যি নয়। গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সকাল ৭ টা থেকে ৯ টা পর্যন্ত কমপক্ষে ৪০ টা অনুষ্ঠান ছিল। সেসব অনুষ্ঠানেই উপস্থিত ছিল শোভন রাব্বানী। এমনকি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের অনুষ্ঠানের কোনো অনুষ্ঠানে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদকে অতিথি করা হয়নি। ডাকসু নির্বাচনের আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একটি অনুষ্ঠানে তাকে প্রধান অতিথি করা হয়েছিল। সেখানে আপনার মনোনীত ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস এবং সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন সময় মতোই তোফায়েল আহমেদকে শ্রদ্ধার সঙ্গে অনুষ্ঠানস্থলে নিয়ে গিয়েছিল। তারপরও আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষ নেতাকে সম্মান জানাতে শোভন রাব্বানী ডাকসু নির্বাচনী প্রচারণার ফাঁকে অনুষ্ঠানে গিয়ে সালাম বিনিময় করে এসেছিল। 
তবে হ্যাঁ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলনে যথাসময়ে উপস্থিত হতে পারেননি শোভন রাব্বানী। এ ভুলটি তারা স্বীকার করেছেন এবং এরপর আর কোনো অনুষ্ঠানে তাদের দেরিতে আসতে দেখা যায়নি। 
এছাড়া চাঁদাবাজির যে অভিযোগগুলো এসেছে সেগুলো আরো খতিয়ে দেখলে কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাব বেরিয়ে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিজেদের দুর্নীতি আর অপকর্ম লুকাতে শোভন রাব্বানীকে কোনো একটি মহল ফাঁসিয়ে দিচ্ছে কিনা, সে বিষয়ে অধিকতর তদন্ত প্রয়োজন বলেও মনে করি। 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আপনি প্রজ্ঞাবান এবং ধার্মিক। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন। হাজার হাজার ফুট আকাশেও বিমানযাত্রার সময় আপনি নামাজ আদায় করেন; সেটা আমি নিজে দেখেছি। ছাত্রলীগের প্রতিটি নেতাকর্মীই মুখে মুখে আপনার কর্মী বললেও তারা আপনার জীবনাচরণ দেখে তেমনভাবে কিছু শিক্ষা নিচ্ছে না বলেই হয়তো এত সমালোচনা। তবে আমি এটা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ওয়ান ইলেভেনের দুঃসময়ে আওয়ামী লীগের বিশ্বাসঘাতকদের যদি আপনি ক্ষমা করে দিয়ে থাকেন; তবে আপনার মনোনীত ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ভুল ক্ষমা করে নতুন করে চলার প্রেরণাও দিবেন। এটা আমাদের অধিকারের জায়গা থেকে বিনম্র অনুরোধ। কেননা এই কমিটি ভেঙে দিলে নতুন করে যারা ক্ষমতায় আসবে তাদের নিয়েও ওই মহলটি নানামুখী ষড়যন্ত্র করবে। 

মমতাময়ী মা হিসাবে শোভন-রাব্বানীর বোধদয়ের পর ক্ষমাশীল হয়ে ছাত্রলীগের ঐতিহ্য ধরে রাখতে সহায়তা করবেন এমনটাই কামনা করছি। জয় হোক শেখ হাসিনার মনোনীত ছাত্রলীগের। শোভন ও রব্বানীর প্রতি বিশেষ অনুরোধ থাকবে, নেত্রীর মনে কষ্ট লাগে এমন কোনো কাজের সাথে জড়িত না হওয়ার জন্য। মা হিসাবে নেত্রী আপনাদের শাসন করার অধিকার রাখেন, ক্ষমা করারও দয়া দেখাতে পারেন। তাই ভুল শুধরে ছাত্রলীগের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে ঐক্যবদ্ধ ছাত্রলীগ উপহার দিবেন। এমনকি নেত্রী বলার পর বিতর্কিতদের বাদ দেয়ার যে বিষয়টি এখনো ঝুলে আছে, সেটির সুষ্ঠু সমাধান প্রয়োজন। যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ প্রমাণ হয়েছে তাদের বাদ দিয়ে যোগ্যদের পদায়ন করা হলেই ছাত্রলীগের চলমান সংকট দূরীভূত হতে পারে বলে মনে করি। 
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয় হোক শেখ হাসিনার মনোনীত ছাত্রলীগের। 

লেখক: আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় শিল্প বাণিজ্য ও ধর্ম বিষয়ক উপ কমিটির সদস্য


 

Ads
Ads