ব্রেক্সিট ইস্যুতে ব্রিটিশ সংসদের নিয়ন্ত্রণ হারালেন বরিস জনসন

  • ৪-Sep-২০১৯ ১২:৪৩ অপরাহ্ন
Ads

:: আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ব্রেক্সিট নিয়ে এক ভোটাভুটিতে হেরে গেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। এর ফলে বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) পার্লামেন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিটের বিরোধী এমপিরা। এখন তাদের জন্য চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিট ঠেকাতে আরেকটি বিল আনার সুযোগও তৈরি হয়েছে।

ভোটাভুটিতে হেরে যাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন আগাম নির্বাচনের প্রস্তাব আনার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

কী হলো ভোটাভুটিতে?

আগামী ৩১শে অক্টোবর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদ, যেটি ব্রেক্সিট হিসেবে পরিচিত তা কার্যকর হওয়ার কথা। কীভাবে, কোন চুক্তিতে সেই বিচ্ছেদ হবে, এ নিয়েই চলছে এখন আলোচনা।

তবে এই বিচ্ছেদ নিয়ে কোন চুক্তি হোক বা না হোক, নির্ধারিত তারিখেই ব্রেক্সিট কার্যকর করার ব্যাপারে অনড় থাকার কথা বলেছিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। এ নিয়ে গত কিছুদিন ধরেই বেশ উত্তপ্ত ব্রিটেনের রাজনৈতিক অঙ্গন। এর মধ্যে ছুটি শেষে মঙ্গলবার বৈঠকে বসে ব্রিটেনের পার্লামেন্ট।

আগেই এক সভায় বরিস জনসন জানিয়েছিলেন, ব্রেক্সিট নিয়ে নিজ দলের যারা বিরোধিতা করবেন তাদের বহিষ্কার করা হবে। কিন্তু বিরোধী দলের পাশাপাশি নিজ দলের বিদ্রোহী এমপিদের কাছে হাউজ অফ কমন্সে ৩২৮-৩০১ ভোটে হেরে গেলেন তিনি।

জনসনের নিজ দলের ২১ জন এমপি যাদের মধ্যে কয়েকজন সাবেক মন্ত্রীও আছেন তারা এই ভোটাভুটিতে সরকারকে হারাতে বিরোধীদের সাথে যোগ দিয়েছেন। ভোটে জয়ের ফলে বুধবার থেকে পার্লামেন্টের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছেন বিরোধী ও বিদ্রোহী এমপিরা। এই ভোটের ফলে চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিটের বিরোধীরা ব্রেক্সিট বিলম্বিত করতে পার্লামেন্টে বিল আনতে পারবেন।

ভোটের পর প্রধানমন্ত্রীর বাসভাবন ১০নং ডাউনিং স্ট্রীট থেকে বলা হয়েছে, যেসব টোরি এমপি বিদ্রোহ করেছে তাদের পার্লামেন্টারি পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হবে। বরিস জনসন বলেছেন, তিনি আগাম নির্বাচনের প্রস্তাব আনবেন।

প্রধানমন্ত্রীর দফতরের আশা, বহিষ্কার হুমকি ও আগাম নির্বাচনের কথায় বিদ্রোহী এমপিরা হয়ত অবস্থান বদলাবেন। জনসন বলেছেন, অক্টোবরে নির্বাচনের প্রচেষ্টা চালানো ছাড়া তার কিছু করার নেই। কারণ তিনি বলছেন, দেশের জনগণকেই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

যদিও এটিও তার জন্য খুব একটা সহজ হবে না। কারণ, ব্রিটেনে ২০১১ সালের একটি আইনে পার্লামেন্টকে পাঁচ বছরের মেয়াদ দেয়া হয়েছে। এখন সেটি পরিবর্তন করতে হলে সংসদে বরিস জনসনের দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন লাগবে। এটি পেতে হলে তার বিরোধী দল লেবার পার্টির সমর্থন দরকার হবে। সেটি জনসনের জন্য খুব একটা সহজ হবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এমপিরা যদি চুক্তি ছাড়াই ব্রেক্সিটের বিরুদ্ধে বিল এনে সেটি পাশ করাতে সক্ষম হয় তাহলে কী হবে? ভোটের ফলের কারণে বুধবার এমপিরা হাউস অফ কমন্স নিয়ন্ত্রণ করবেন। এর ফলে তারা ব্রেক্সিট ৩১শে জানুয়ারি পর্যন্ত বিলম্বিত করার প্রস্তাব দিতে প্রধানমন্ত্রীকে বাধ্য করতে বিল আনার সুযোগ পাবেন।

তবে সেটি তখনি ঘটবে যদি এমপিরা ১৯শে অক্টোবরের মধ্যে ব্রেক্সিটের জন্য একটি নতুন চুক্তি অনুমোদন বা চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোট না দেন। ধারণা করা হচ্ছে, সরকার ১৫ই অক্টোবর একটি সাধারণ নির্বাচন করতে চান। তার দুদিন পরেই ব্রাসেলসে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

লেবার নেতা জেরেমি করবিন বলেছেন, চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিটের পক্ষে দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠতা আর নেই। তিনি মন্তব্য করেন, ভোটাভুটি হওয়ার আগেই এই বিল পাশ হওয়া উচিত ছিল।

বিরোধীদের এখন দাবি, ‘নো ডিল ব্রেক্সিট’ বা চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিট যেন না হয় সেটি আগে নিশ্চিত করা, তারপর যত দ্রুত সম্ভব সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতি।

Ads
Ads