বিজয়টা আমার না বাংলাদেশের: মেহেদী হাসান পলাশ

  • ৬-Jul-২০১৯ ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: আবু ইউসুফ রাসেল ::

কুরিয়ার শহরের সিউলে অনুষ্ঠিত এশিয়া মডেল ফেস্টিভ্যালে ‘ফেস অব এশিয়া’ বাংলাদেশ থেকে মেল মডেল অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন বাংলাদেশের মডেল মেহেদী হাসান পলাশ। গালা অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে ৬ জুন মডেলদের নিয়ে একটি ওয়েলকাম পার্টির আয়োজন করা হয়। পরের দিন থেকে সিউলের অলিম্পিক হলে শুরু হয় গালা রাউন্ড। অন দ্য স্টেজেই রিহার্সাল হয়েছে।

সেদিনই ফলাফল হাতে পান মডেলরা। ফার্স্ট রাউন্ডে ২০ জন মডেলকে স্পন্সর প্রাইজবন্ড দেওয়া হয়। বাংলাদেশের মেহেদী হাসান পলাশ পান কোরিয়ান ওশিয়া ব্র্যান্ডের প্রাইজবন্ড। দ্বিতীয় রাউন্ডে সেরা দশ মডেলের নাম ঘোষণা করা হয়। সেরা দশে নিজের নাম শুনে উৎফুল্ল হয়ে ওঠেন মেহেদী হাসান পলাশ। কিন্তু চমকের শেষ এখানেই নয়। সেরা দশ থেকে ‘ফেস অব এশিয়া মেল মডেল’ নির্বাচিত হয়ে তিনি অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। গালায় ফেস অব এশিয়া ফিমেল মডেল অ্যাওয়ার্ড এবং গ্র্যান্ড প্রাইজ অ্যাওয়ার্ডও দেওয়া হয়।

বিজয়ী মেহেদী হাসান পলাশ বলেন, ‘ফেস অফ বাংলাদেশ’ এর অডিশন জন্য অনলাইনে রেজিষ্ট্রেশন করতে করতে বলেন সেখানে আমি  রেজিষ্ট্রেশন করি। অনলাইনে রেজিষ্ট্রেশন করে ৫ হাজার জনের মতো। সেখান থেকে ৩০ জন ছেলে ও ৩০ জন মেয়ে প্রতিযোগি সিলেক্টেড হয় পরে আমরা এক মাস (২৭ মার্চ – ২১ এপ্রিল) অনেক পরিশ্রম করি। ডাকা হয় ইন্টারভিউতে। দুদিন ধরে ইন্টারভিউ চলে। ২১ ও ২২ মার্চ। নগরীর সীমান্ত স্কয়ারে। সেখানে চারটি সেগমেন্টে মডেলদের জাজ করা হয়। ওভারঅল লুক অ্যান্ড ফিটনেস, ফটোজেনিসিটি, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ ও ইন্টেলিজেন্সি। শেষে ১০ জন মেয়ে ও ১০ ছেলে প্রতিযোগি নির্বাচিত হয় ফাইনাল রাউন্ডের জন্য। ২৩ এপ্রিল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নগরীর লা মেরিডিয়ানে হয়েছে ‘ফেস অব বাংলাদেশ ২০১৯’-এর গ্র্যান্ড ফিনালে। বিচারক তারা আমাদের ডিসিপ্লিন, কথা বলার ধরন সব কিছু মিলিয়ে আমাকে ও শায়লা মজুমদার মিদিকে রানারআপ। চ্যাম্পিয়ন হয় শিরিন শিলা ও মারুফ রহমান।

তারপর আমরা ৪ জন ‘ফেস অফ বাংলাদেশ’ থেকে ‘ফেস অফ এসিয়া’র জন্য কোরিয়াতে পা রাখি আমাদের মনে হয়েছে আমরা ভালো কিছু করতে যাচ্ছি। তারপর সেখানে ২৬ টি দেশের মডেলদের মধ্যে গ্রুপ করে দেওয়া হয়েছিলো। সেখানেও অনেক কষ্ট করতে হয়েছে তারপর অনেক গুলো রাউন্ড পার হবার পর আমি উইনার। ‘আমাকে যে উইনার করা হয়েছে, এটা মূলত বাংলাদেশের জন্য একটা পাওয়া। কারণ, ফেস অব বাংলাদেশ থেকে ফেস অব এশিয়া হওয়ার পেছনে বাংলাদেশের অনেক ভূমিকা আছে। আমার এই প্রাপ্তি আমার নয়, এটা বাংলাদেশের প্রাপ্তি।

এতজন ইন্টারন্যাশনাল মডেলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে আমি ফেস অব এশিয়া হয়েছি। আমি মনে করি, এটি আমার ক্যারিয়ারে অনেক বড় প্রভাব ফেলবে। আমি ভালো কিছু করতে পারব। আমার মধ্যে এই আত্মবিশ্বাস আছে যে আমি সামনে অনেক ভালো কিছু করতে পারব।’

৯ জুন স্টার মডেলদের নিয়ে একটি অনুষ্ঠান হয় সিউলে। বাংলাদেশ থেকে স্টার মডেল হিসেবে গিয়েছিলেন তানজিয়া জামান মিথিলা। গালা শেষে ১০ জুন একটি নাইট পার্টিতে অংশগ্রহণ করেন মডেলরা। পার্টি শেষে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হন। 

মেহেদী হাসান পলাশ আরও বলেন, ফেস অফ এশিয়া মেল মডেল উইনার হয়ে বাংলাদেশ আশার পর থেকে বিভিন্ন কোম্পানির টিভির জন্য ডাকছে। সাথে অনেক কাজের সাড়া পাচ্ছি। আর আমার জন্য দোয়া করবেন জেনো আরও ভালো কিছু করতে পারি।

‘ফেস অফ বাংলাদেশ’ ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করেন ‘ক্রসওয়াক’ এমএ মারুফ এবং মুন্তাসির রহমান। নাগরিক টিভি টেলিকাস্ট তুষার। মেকওভার সহ স্কিন কেয়ার পারসোনা। স্পনসর করেছেন স্যান্ডেলিনা। গ্রমিং এএমজিসিএস। এবং ফেস অফ এশিয়া মডেল এসোসিয়েশন সভাপতি মিস্টার ইয়াং, চেয়ারম্যান  মিস্টার কিম। সহযোগী ছিলেন মিস্টার পার্ক ও সালাউদ্দিন।

Ads
Ads