টাঙ্গাইলে শিশু সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন এক পুলিশ সদস্যের স্ত্রী

  • ২৩-Jun-২০১৯ ০৬:০৬ অপরাহ্ন
Ads

 

:: আব্দুস সাত্তার,টাঙ্গাইল প্রতিনিধ ::

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার হাতিয়া গ্রামের ছানোয়ার হোসেনের মেয়ে দুই সন্তানের জননী পুলিশ সদস্য রেজাউল করিম মঞ্জুর স্ত্রী ছালেহা শিশু সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। রোববার দুপুরে (২৩ জুন) এলেঙ্গায় এক সংবাদ সম্মেলনে ছালেহা খাতুন তার শিশু সন্তান নিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ২০০৪ সালে ভুয়াপুর উপজেলার খুদে নিকলা গ্রামের মৃত আকতার হোসেনের ছেলে মোঃ রেজাউল করিম (মঞ্জু), সঙ্গে পারিবারিকভাবে পুলিশের চাকরি শর্তে ৩/ ০৯/ ২০০৪ ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক আমার মেয়ের বিবাহ হয়।

এক আত্মীয় মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীতে কনেষ্টবল নং- ৪০৫১ চাকরি দেওয়া হয়। ১২/০৩/২০০৬ তারিখে তাদের বাড়িতে আমাকে উঠাইয়া নেয়। পরে আমার স্বামীর বাড়ির লোকজন মিলে একাধিক কাগজে রেশন কার্ড করার কথা বলে আমার স্বাক্ষর ও টিপসহি নেয়। ওই স্বাক্ষর ও টিপসহিকৃত কাগজ ব্যবহার করে পূনরায় গত ১২/০৩/২০০৬ তারিখে ১ লক্ষ টাকা দেন মোহর ধার্য্য করে জাল কাবিন নামা তৈরী করে গোপন রাখে। পরবর্তীতে বিষয়টি আমি জানতে পেরে ১০/১০.২০১৬ তারিখে জাল কাবিন নামাটি কপি সংগ্রহ করি।

পরবর্তীতে নিকাহ রেজিষ্ট্রার বিরুদ্ধে জাল কাবিন করার অভিযোগে আদালতে একটি মামলা করি। আমার স্বামী রেজাউল করিম মঞ্জু ও নিকাহ রেজিষ্ট্রারের যোগসাজসে আমার ২০০৪ সালের বিয়ের কাবিন নামায় অসিত্বহীন গোপালপুর উপজেলা হাদিরা গ্রামের লিয়াকত আলী মেয়ে আজমেরী,মধুপুর উপজেলা পিরোজপুর গ্রামের আমীর আলী ছেলে অসিত্বহীন হারন-অর রশিদকে বর হিসাবে কাবিন নামায় লিপি বদ্ধ করেন। বাস্তবে ওই নামের কোনো ছেলে এবং মেয়ে কোন ঠিকানায় নাই বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান। তিনি আরো জানান, চাকুরীর পূর্বে আমার স্বামী আমাকে বাবার বাড়িতে রেখে ট্রেনিংয়ে যায়। ট্রেনিং শেষে আমাকে ঢাকায় বাসা ভাড়া করে দেয়।

আমাদের দাম্পত্য জীবনে এক ছেলে এক মেয় জন্ম গ্রহণ করে। বিয়ের সময় চাকুরীর সময় সমস্ত খরচ বহন করেন আমার বাবা। প্রায় দুই বছর আগে আমার শ্বাশুরি,ভাসুর,ননদ, সাড়ে ৩ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা না দেয়ায় আমার মেয়ে নুরে-জান্নাত (১২)কে রেখে ছেলে ইব্রাহিমকে(১০)সহ আমাকে আমার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। তারপর থেকে আমার ভরন পোষন ও কোন প্রকার খোজ খবর নেয় না।

এব্যাপারে ছালেহা খাতুন পুলিশের বিভিন্ন দপ্তরে ধর্না দিয়েও কোন সুফল না পাওয়ায় টাঙ্গাইল বিজ্ঞ সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রেজাউল করিম (মঞ্জু), ভুয়াপুর উপজেলা অলোয়া ইউনিয়নের নিকাহ রেজিষ্ট্রার মোঃ আফছার উদ্দিন, মোঃ জাহাঙ্গীর খান, শহিদুল ইসলাম, শ্বাশুরি মনোয়াররা বেগম (৫৩), মধুপুর আউশনারা ইউনিয়নের নিকাহ রেজিষ্ট্রার রুহুল আমিন ভূইয়াকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে।

উল্লেখ্য রেজাউল করিম মুঞ্জুর পুলিশ হেডকোয়ার্টাস্ নোটিফিকেশন নম্বর- আর এল্ডএম/০৪-২০০৪/৫৯৫(১০) তারিখঃ ১৬/০৭/২০০৫, এবং পুলিশ একাডেমী আদেশ নং ১১৮১ তারিখ ২৭/০৫/২০০৫খ্রি: মোতাবেক সে জানুয়ারির ০৫ ব্যাচ ৬ (ছয়) নোটিফিকেশন অনুযায়ী ১০ দিন যোগদান কালীন ছুটি ভোগ করে গত ১৫/০৮/২০০৫ নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেন। তার টিআরসি পিএ- নং ৩০৩।

এবিষয়ে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য ও ছালেহার স্বামী রেজাউল করিম মঞ্জু ২০০৪ সালে ছালেহার সাথে বিয়ের কাবিন নামা অস্বীকার করে বলেন আমি ২০০৬ সালে ছালেহার সাথে আমার বিয়ে হয়। কিন্তু তার সাথে বনিবনা না হওয়ায় তাকে আমি সম্প্রতি তালাক দিয়েছি।

Ads
Ads