সমবেদনা জানাতে নিহত দিয়ার বাসায় শাজাহান খান, ক্ষমা চাইলেন হাসির জন্য

  • ১-Aug-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

দুই বাসের রেষারেষিতে বিমানবন্দর সড়কে দুর্ঘটনায় নিহত দুই শিক্ষার্থীর একজন দিয়া খানম মিমের বাসায় গিয়েছিলেন নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান।

বুধবার (০১ আগস্ট) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে নৌমন্ত্রী মহাখালীর দক্ষিণপাড়ায় দিয়াদের বাসায় যান। সেখানে প্রায় ২০ মিনিট অবস্থান করে দিয়ার বাবা জাহাঙ্গীর ফকির এবং অন্য স্বজনদের সান্ত্বনা দেন তিনি। এ সময় সেখানে নিহত দিয়ার বন্ধু-বান্ধবীসহ স্কুলের শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।

দিয়ার বাবা-মাকে সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি শাজাহান খান বলেছেন, “আমি হয়ত হেসে কথা বলেছি বলে আপনারা কষ্ট পেয়েছেন। আমি অন্য একটি কথা বলেছিলাম, কিন্তু এ্যাক্সিডেন্টের বিষয়টিতে কথা হচ্ছে আমি জানতাম না। এর জন্য আমি দুঃখিত, আমাকে আপনারা ক্ষমা করে দেন।”

গত রোববার ঢাকার রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী দিয়া ও আরেক শিক্ষার্থী আবদুল করিমের মৃত্যুর পর সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নে শাজাহান খান হেসে অন্য দেশেও এমন দুর্ঘটনা ঘটার কথা বলেছিলেন।

ওই হাসি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে মঙ্গলবার তার ‘অনিচ্ছাকৃত ভুল’ ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার আহ্বান জানিয়েছিলেন শাজাহান খান। পরদিন গেলেন দিয়ার বাসায়।

দিয়ার বাবা জাহাঙ্গীর আলমও নৌমন্ত্রীর ওই হাসিতে ব্যথিত হয়েছিলেন।

দিয়ার বাবা জাহাঙ্গীর গণমাধ্যমকে বলেন, নৌপরিবহনমন্ত্রী বাসায় এসে আমাদের সান্ত্বনা দেন। আমি তাকে বলেছি, রাস্তায় যেসব অদক্ষ ড্রাইভার আছে তাদের লাইসেন্স বাতিল করেন। এসময় মন্ত্রী এসব করবেন বলে আশ্বাস দেন।

তিনি বলেন, ঘটনার পরদিন তার হাসি নিয়েও ব্যাখ্যা দেন তিনি। মন্ত্রী বলেছেন, দুর্ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করায় উত্তর দেওয়ার সময় আমি (মন্ত্রী শাজাহান খান) হাসছিলাম। আমি তখনো জানতাম না ঘটনাটা, বুঝতেও পারিনি। তারপরও আমি আপনাদের কাছে ক্ষমা চাই। সকল শিক্ষার্থীদের কাছেও ক্ষমা চাই।

এর আগে মঙ্গলবার (৩১ জুলাই) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালও নিহত দিয়ার বাসায় গিয়ে তার স্বজনদের সমবেদনা জানান। তখন এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, চালক বা পরিবহনকর্মীদের বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়ায় নৌমন্ত্রী শাজাহান খান কোনো প্রভাব খাটাতে পারবেন না।

মন্ত্রীকে কাছে পেয়ে দিয়ার পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। মন্ত্রীর সান্ত্বনার জবাবে দিয়ার মা, বাবা, ভাই-বোনেরা শুধুই অপরাধীদের শাস্তি চান। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তারা বলেন, মিমকে তো আর পাওয়া যাবে না। যদি অপরাধীদের শাস্তি হয়, তাহলে অন্তত সান্ত্বনাটা পাওয়া যাবে।

উল্লেখ্য, গত রোববার (২৯ জুলাই) দুপুরে কালশী ফ্লাইওভার থেকে নামার মুখে এমইএস বাস স্ট্যান্ডে ১৫/২০ জন শিক্ষার্থী দাঁড়িয়ে ছিলেন। জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস ফ্লাইওভার থেকে নামার সময় মুখেই দাঁড়িয়ে যায়। এ সময় পেছন থেকে আরেকটি দ্রুতগতি সম্পন্ন জাবালে নূরের বাস ওভারটেক করে সামনে আসতেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। নিমিষেই ওঠে পড়ে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর। চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায় দুইজন। এছাড়া আহত হন আরও ১৫/২০ জন শিক্ষার্থী। ওই দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া দুইজন হলেন- শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম ও বিজ্ঞান বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আব্দুল করিম রাজিব।

এদিকে দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর থেকেই রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় তারা শতাধিক গাড়িও ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই দিয়ার বাবা জাহাঙ্গীর বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পরদিন এবং গতকাল মঙ্গলবার র‌্যাব পৃথক অভিযানে তিন বাসের চালক এবং তাদের দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করে।

অপরদিকে, আজ বুধবার চতুর্থ দিনের মতো রাজধানীকে প্রায় অচল করে দিয়ে বিক্ষোভ এবং অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার উত্তরায় একাধিক বাস ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটলেও বুধবার কোথাও ভাঙচুরের খবর পাওয়া যায়নি। শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ অবরোধের মধ্য দিয়ে মন্ত্রী শাজাহান খানের পদত্যাগ, সড়কে শৃঙ্খলার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়াসহ ৯ দফা দাবি জানিয়ে আসছে।

/ই

Ads
Ads