'ওভারঅল বাজারের যে অবস্থা তাতে আমরা মোটামুটি স্যাটিসফাইড'

  • ৩০-Apr-২০১৯ ০৭:৩০ অপরাহ্ন
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, ওভারঅল বাজারের যে অবস্থা, তাতে কিন্তু আমরা মোটামুটি স্যাটিসফাইড, মানুষের ওপর চাপ পড়বে না।

মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) ঢাকায় সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব ভোক্তা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সরক্ষণ অধিদফতর এর আয়োজন করে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, তবে কোথাও কোথাও কিছু কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। কেউ কেউ হয়ত সুযোগ নিতে পারেন। টিসিবিও তাদের পণ্য ছাড়তে শুরু করেছে। ওভারঅল বলতে পারি, আমরা যে রকম চেষ্টা করেছিলাম, বাজার পরিস্থিতি সে রকম সহনীয় মাত্রায় রয়েছে।

ছোলা, তেল, চিনি, ডালসহ রোজায় যেসব পণ্য বেশি লাগে সেগুলোর দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই জানিয়ে টিপু মুনশি বলেন, এসব পণ্য যথেষ্ট পরিমাণ বাজারে রয়েছে। রোজাকে সামনে রেখে আমরা যথেষ্ট সচেতন। ভ্রাম্যমাণ আদালত ব্যবস্থা নিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। পণ্যের মজুত চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি রয়েছে। বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। কোনও পণ্যের সংকট হবে না। বিগত দুই বছরের তুলনায় এবার অনেক পণ্যের মূল্য কম আছে। সারা বছর পণ্যের মূল্য স্বাভাবিক থাকবে।

টিপু মুনশি বলেন, পণ্য পরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে বিশেষ বিশেষ সময়ে পণ্য পরিবহনে চাঁদাবাজির কারণে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পায়। নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি বিভাগীয় কমিশনারকে এ বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। যাতে রমজান মাসকে সামনে রেখে কেউ চাঁদাবাজি বা পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করার সুযোগ না পায়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা সবাই ভোক্তা। ভোক্তার অধিকার রক্ষায় আমাদের সচেতন হতে হবে। সবাই সতর্ক হলে প্রতিরোধ করা সম্ভব। আমরা কাউকেই চাঁদাবাজি বা কোনও পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির সুযোগ দিতে চাই না। ভোক্তা যাতে ন্যায্য মূল্যে নিরাপদ ও মানসম্পন্ন পণ্য পান, সে জন্য সরকার জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর প্রতিষ্ঠা করেছে।

তিনি বলেন, ভোক্তার অধিকার সুরক্ষায় সরকার কাজ করছে। দেশের সব জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়নে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কমিটি গঠন করা হয়েছে। নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। ভোক্তার অধিকার রক্ষায় সরকার আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে মনিটরিং সেল খোলা হয়েছে। ভোক্তাকে অধিক সচেতন করা আমাদের দায়িত্ব। কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, কোনও ভোক্তা অধিকার বঞ্চিত হয়ে অভিযোগ করলে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযোগকারীকে জরিমানার ২৫ শতাংশ নগদ দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন অভিযোগে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর গত ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত ৪৬ কোটি ৭৪ লাখ ৫৩ হাজার ৬৫০ টাকা জরিমানা আদায় করেছে। এর মধ্যে অভিযোগকারীকে ৮১ লাখ ৩০ হাজার ৩০২ টাকা দেওয়া হয়েছে।

চালের দাম কমার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এখন কৃষকদের কাছ থেকে উল্টো চাপ আসছে। তারা বলছেন, এক মণ ধান বিক্রি করে এক কেজি মাংস কিনতেই টাকা শেষ হয়ে যাচ্ছে।

রোজায় মাংসের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নির্ধারিত দামেই যেন গরু-খাসির মাংস বিক্রি হয়, সেই চেষ্টা চলছে। তাছাড়া বাইরে থেকে গরু আমদানি বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে করে আমাদের খামারিরা সুবিধা পাচ্ছে।

Ads
Ads