সিনেমা নিয়ে অনন্য ভাবনায় জুবায়ের জুলহাজ

  • ২৯-Apr-২০১৯ ০৮:৫৪ অপরাহ্ন
Ads

:: বিনোদন প্রতিবেদক ::

দুই বাংলার সীমান্তে কাঁটাতার আছে। তবে সিনেমায় নেই। সিনেমার ভাব বিনিময়ে বাংলাদেশ আর পশ্চিমবঙ্গ কাঁটাতার উপড়ে ফেলেছে বহু আগে। সেকারণে বহুকাল ধরে দুই বাংলার অভিনয়শিল্পীরা কাজ করছেন দুই বাংলার ছবিতে।

সেই ধারাবাহিকতায় পশ্চিমবঙ্গের একটি ফিচার ছবিতে অভিনয় করলেন জুবায়ের জুলহাজ। ছবির নাম ‘মিস্টিক মেমোয়্যার’। ছবিটি পরিচালনা করেছেন অপরাজিতা ঘোষ। ছবির চিত্রনাট্য লিখেছেন পরিচালক নিজেই। এটি এই পরিচালকের প্রথম ছবি। এর আগে তিনি রবীন্দ্রনৃত্য নিয়ে ‘ড্যান্স অব জয়’ তথ্যচিত্র নির্মাণ করে হাত পাকিয়েছেন।

প্রথম ছবিতেই বাংলাদেশের অভিনেতা। তাও আবার একদম নতুন মুখ। অপরাজিতা কি একটু বেশি ঝুঁকি নিয়ে ফেললেন? উত্তরে এই নির্মাতা বলেন, ‘জুবায়েরের সাথে আমার ঢাকাতে আলাপ। ওর একটি অনুষ্ঠানে আমি অতিথি হয়ে গিয়েছিলাম। যখন ওকে আমি প্রথম দেখি তখন মনে হয়ে ওর মধ্যে প্রচুর সম্ভাবনা আছে। আমি যখন ছবির চিত্রনাট্য লিখি তখন জুবায়েরের কথা মাথায় এসেছে। শুধু জুবায়ের না, পাশাপাশি কলকাতারও কয়েকজন অভিনেতার নাম মাথায় ঘুরছিল। তারপর যখন আমি চিত্রনাট্যের চরিত্রটি নিয়ে আরও ভাবতে লাগলাম তখন কেনো জানিনা জুবায়েররে চেহারাটাই ভাসছিল। কেবলই মনে হয়ে তিনি এই চরিত্রটির জন্য উপযোগি। আমার চরিত্রের সাথে মানিয়ে গিয়েছে তাই জুবায়েরকে কাস্টিং করেছি। ঝুঁকির কথা মাথায় আসেনি।’

যে প্রত্যাশা নিয়ে জুবায়েরকে বাংলাদেশ থেকে উড়িয়ে নেয়া হলো সেই প্রত্যাশা পূরন হয়েছে কিনা—জানতে চাইলে অপরাজিতা বলেন, ‘এটা জুবায়েরের প্রথম ছবি। ব্যক্তিগতভাবে তিনি আমার খুব ভালো বন্ধু। তাই কাজের ক্ষেত্রে খুব সুবিধা হয়েছে। খুব পরিশ্রমী ছেলে জুবায়ের। কাজের প্রতি ডেডিকেশনটা চোখে পড়ার মতো। আমি অভিনয়টা বের করে নিতে পেরেছি।’

এদিকে শুটিং শেষ করে বাংলাদেশে চলে এসেছেন জুলহাজ জুবায়ের।  জুবায়ের পেশায় একজন উপস্থাপক। কর্মরত আছেন দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে। এটি তার প্রথম ছবি। প্রথম ছবিতে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা হলো তার সঙ্গেও। জুবায়ের জানান, ছবির কাজটা তার জন্য চ্যালেঞ্জের ছিল।

‘কতোটুক কি করতে পারবো সেটা নিয়ে কিছুটা ভয় ছিল আমার মধ্যে। তবে ওখানে কাজের পরিবেশ এতো সুন্দর ছিল যে, আমি অভিনয়টা নির্ভয়ে করতে পেরেছি। তাছাড়া ছবির পরিচালক অপরাজিতা আমার কাছ থেকে অভিনয় বের করে নিয়েছেন।’

ছবিতে জুবায়ের অভিনয় করেছেন জ্যোতি চরিত্রে। চরিত্রের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলে জুবায়ের বলেন, ‘ছবিতে আমি মজার একটি চরিত্রে অভিনয় করছি। এই চরিত্রটি আমার, আপনার সবার মাঝে বিরাজমান। আমাদের চারপাশে সবার মাঝে এক ধরনের প্রতিযোগিতা কাজ করে। সোশ্যাল মিডিয়া হোক কিংবা বাস্তবে–লোক দেখানোর প্রবণতা থাকে অনেকের। কিন্তু দিনশেষে মানুষ যখন এসবের বাইরে চলে আসে তখন কিন্তু সে একা হয়ে যায়। সে সময় মানুষ নিজেকে নিয়ে ভাবে। ওসব প্রতিযোগিতার বাইরে একটি চরিত্রে দেখা যাবে আমাকে। যার খোলা মাঠ ভালো লাগে। খালি পায়ে হাঁটা উপভোগ করে।’
চরিত্রটি অনেকাংশে হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় হিমু চরিত্রের সাথে মিলে যায়। এমনকি ছবিতে জুবায়েরকে হিমুর সেই হলুদ পাঞ্জাবি পরানো হয়েছে। তাহলে ছবিটি কি হিমু চরিত্র থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে করা?

কেবলমাত্র আবেগ আর মূল্যবোধের জায়গা থেকে হিমুর সাথে জ্যোতি চরিত্রের সাথে মিলে যাবে। এছাড়া আর কোনো মিল পাওয়া যাবে না।’ জানান অপরাজিতা।

কিন্তু হলুদ পাঞ্জাবি? অপরাজিতার মতে, হলুদ বসন্তের প্রতীক। আর এই ছবি জীবনের বসন্তের কথা বলবে। অপরাজিতা বলেন, ‘বসন্ত বলতে কঠিন সময়ের পর, আশা নিয়ে বেঁচে থাকা জীবনটা বোঝাতে হলুদ পাঞ্জাবি ব্যবহার করেছি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বসন্তের রঙ হিসেবে হলুদকেই বেছে নিয়েছিলেন।’

ছবির কাজ এরইমধ্যে শেষ। ছবির চিত্রগ্রহণ করেছেন অমিত মজুমদার। এখন চলছে সম্পাদনার কাজ। সম্পাদনার গুরুদায়িত্ব সামলাচ্ছেন সৌভিক দাশগুপ্ত। তিনি এই ছবির ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টরেরও কাজ করছেন। আর ছবির সংগীত পরিচালনা করেছেন নবারুণ বোস।

অপরাজিতা ঘোষ ছবিটিকে দুই বাংলায় মুক্তি দিতে চান। তবে তার আগে ছবিটি বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্র উৎসবগুলোতে ঘুরবে বলে জানান তিনি।

Ads
Ads