শনিবার ২৫ মে ২০২৪ ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

শিরোনাম: চিকিৎসকরা অপ্রয়োজনীয় ওষুধ লিখছেন কিনা খতিয়ে দেখবে অধিদফতর    আনার হত্যাকাণ্ড তদন্তে কলকাতা যাচ্ছে ডিবির একটি টিম    সমুদ্রবন্দর সমূহে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত    শাহাদাত নামে নতুন জঙ্গি সংগঠনের খোঁজ পেয়েছে র‌্যাব    রেমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে শনিবার রাত থেকেই মহাবিপদ সংকেত দেখানো হতে পারে    আইপিএল ফাইনালে নেই ভারতের বিশ্বকাপ দলের কোনো ক্রিকেটার    বঙ্গবাজার মার্কেটসহ ৪ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন প্রধানমন্ত্রীর   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
মেট্রোরেলের যুগে বাংলাদেশ : স্বস্তির আরেক নাম
সেবীকা রানী
প্রকাশ: রোববার, ২১ এপ্রিল, ২০২৪, ৭:৫৫ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

অসহ্য যানজটে নাকাল হওয়া বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার একটি চির চেনা চিত্র। তা থেকে মুক্তি মেলার আশায় কত কিছু করা হলো কিন্তু মুক্তি মিলেছে কি? সোজা উত্তর - না। মুক্তি কীভাবে তাও এক রকম অজানা। সেই পরিস্থিতিতে স্বস্তির একটি যায়গা হয়েছে মেট্রোরেল। এটা যে রুটে চলাচল করে সে রুটে অনেকখানি অবসান হয়েছে যানজটের পুরনো যন্ত্রনার। এই স্বপ্ন কল্প বাস্তবায়নে এগিয়ে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মূলত তার আগ্রহ আর ঐকান্তিক ইচ্ছেতেই বাস্তবায়ন হতে পেরেছ এ ধরনের একটি মেগা প্রকল্প। ঢাকা মেট্রোরেল হলো বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার একটি দ্রæতগামী গণপরিবহন ব্যবস্থা। ২৮ ডিসেম্বর, ২০২২ সালে এমআরটি লাইন ৬-এর উত্তরা উত্তর থেকে আগারগাঁও অংশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্বোধনের মাধ্যমে ঢাকায় মেট্রোরেল আংশিক চালু হয় এবং তিনি মেট্রোরেলের প্রথম আনুষ্ঠানিক যাত্রার অংশ ছিলেন যা ২৯ ডিসেম্বর, ২০২২ থেকে জনসাধারণের চলাচলের জন্য এটি খুলে দেওয়া হয়। ৫ নভেম্বর, ২০২৩ এমআরটি লাইন-৬ এর আগারগাও থেকে মতিঝিল অংশে যাত্রী চলাচল শুরু হয়। এর মাধ্যমে ৬০তম দেশ হিসেবে বাংলাদেশে মেট্রোরেলে যুক্ত হয়।
অতি জনবহুল ঢাকা মহানগরীর ক্রমবর্ধমান যানবাহন সমস্যা ও পথের দুঃসহ যানজট কমিয়ে আনার লক্ষ্যে ২০০৫ সালে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ঢাকায় স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান (এসটিপি) তৈরি করে মেট্রোরেল নির্মাণের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়। উক্ত এসটিপি প্রণয়ন, অনুমোদন এবং শহরের পরিবহন নেটওয়ার্কের জন্য কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিলো। এ পরিকল্পনায় ৩টি এমআরটি ও ৩ টি বিআরটি লাইন নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ২০১৩ সালে কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনার অধীনে ঢাকায় মেট্রো রেল স্থাপনের চূড়ান্ত কাজ শুরু হয়। ২০১৬ সালে সংশোধিত "কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা অনুসারে ঢাকায় নির্মিতব্য মেট্রো রেলের লাইনের সংখ্যা ৩টি থেকে বাড়িয়ে ৫টি করা হয়। প্রথম পর্যায়ে নির্মাণের জন্য উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২১.২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন ৬-কে নির্বাচন করা হয়। এ রুটের ১৭টি স্টেশন হচ্ছে- উত্তরা উত্তর, উত্তরা সেন্টার, উত্তরা দক্ষিণ, পল্লবী, মিরপুর ১১, মিরপুর ১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সচিবালয়, মতিঝিল ও কমলাপুর। ট্রেন চালানোর জন্য ঘণ্টায় দরকার হবে ১৩.৪৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যা নেওয়া হবে জাতীয় গ্রিড থেকে। এর জন্য উত্তরা, পল্লবী, তালতলা, সোনারগাঁ ও বাংলা একাডেমি এলাকায় পাঁচটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র থাকবে। ২০১৬ সালের ২৬ জুন এমআরটি-৬ প্রকল্পের নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মাধ্যমে শুরু হয় ঢাকা মেট্রোর নির্মাণকাজের সূচনা।



এমআরটি-৬ এর স্টেশন ও উড়ালপথ নির্মাণের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয় ২০১৭ সালের ২ আগস্ট। এদিন উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ১২ কিলোমিটারের উড়ালপথ ও স্টেশন নির্মাণ শুরু হয়। ২৫ ফেব্রæয়ারি ২০১৯, আগারগাঁও থেকে মতিঝিল অংশের স্টেশন ও উড়ালপথ নির্মাণ শুরু হয়। এর আগে ২০১২ সালের ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট তথা মেট্রো রেল প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন লাভ করে। ২০১২ সাল থেকে একটি দীর্ঘ কর্মযজ্ঞ চলার পর মেট্রোরেল দৃশ্যমান হয়েছে। এটা ছিল বাংলাদেশের একটি স্বপ্ন পূরণের মতো। বিশ্রে জনবহুল দেশগুলোতে মেট্রোরেল চালু রয়েছে। কোনটা পাতাল রেল কোনটা হয় ওভারহেড। বাংলাদেশ বিশে^র ষাটতম দেশ যেখানে মেট্রোরেল চালু হলো। এটা আমাদের মতো দেশের জন্য অভাবনীয় সাফল্য এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই।  বর্তমানে আগারগাঁও-মতিঝিল অংশে যাত্রী পরিবহন চলমান রয়েছে এবং ২০২৫ সাল নাগাদ কমলাপুর পর্যন্ত চালু হতে পারে।

একটু পেছন ফিরে দেখা যাক। রাজধানীতে বাসে চলাচল যে কতটা ভোগান্তির তা ভুক্তভোগী সবাই জানে। গণপরিবহনের নৈরাজ্য, রিকশার দাপট আর প্রাইভেট কারে সারি ভেদ করে চলাই এখানে দায়। ঘন্টার পর ঘন্টা পথেই কাটাতে হয় সকলের। এ এক দারুন কষ্টের ব্যাপার। সেই কষ্টের কিছুটা লাঘব হবে এখন। এখন এই রুটে চলাচলকারীদের আর সেই ভোগান্তি পোহাতে হবে না। সময়ের প্রেক্ষাপটে মেট্রোরেল এখন একটি নির্ভরযোগ্য বাহন হিসেবে দিন দিন গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। চালু হবার পর থেকেই স্বস্তির যান হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে মেট্রোরেল। এখন মেট্রোরেল মতিঝিল থেকে উত্তরা পর্যন্ত নিয়মিত চলাচল করছে। মাঝখানে সবগুলো স্টেশনেই থামছে। চলাচলের সময় কয়েক ধাপে বাড়ার সঙ্গে মেট্রোরেলে বেড়েছে যাত্রীর সংখ্যাও। বর্তমানে রাজধানীর উত্তরা উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত সবগুলো স্টেশনে রাত পর্যন্ত যাত্রী উঠানামা করছে।
মানুষ যাতে ঈদের কেনাকাটা করে সহজে স্বস্তি নিয়ে ঘরে ফিরতে পারে সে জন্য রমজান মাসে মেট্রোরেলের সময় রাতে এক ঘণ্টা বাড়িয়ে দেয় ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। ২৭ মার্চ থেকে এ সময় বাড়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেন সাধারণ যাত্রীরা। তারা বলছেন এ সিদ্ধান্ত চমৎকার হয়েছে। চাকরিজীবীরা বলছেন, মেট্রোরেলের সময় বাড়ানোয় খুব ভালো হয়েছে। একঘণ্টা সময় বাড়ানোর ফলে অফিসে যওয়ার পাশাপাশি ঘরে ফেরার সুযোগটাও তৈরি হয়েছে। এখন নিয়মিত  তারা মেট্রোরেলে চলাচল করতে পারবেন। তবে সময়টা আরও বাড়ানো উচিত। রাত ১১টা পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু থাকলে মানুষের ভোগান্তি অনেকেটাই কমবে। ঈদের পরে নতুন সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এই সূচি বহাল রয়েছে। বর্তমানে ঈদের পরেও মেট্রোরেল বাড়তি সময় পর্যন্ত চলাচল করছে। মেট্রোরেল সূত্র বলছে, বাড়তি এক ঘণ্টায় কেমন যাত্রী পাওয়া যায় তার ওপর নির্ভর করে নতুন সময়সূচি নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ডিএমটিসিএল সূত্র জানা যায়, রমজান মাসের আগের ১৫ দিনের (১ মার্চ থেকে ১৫ মার্চ) হিসাব মতে দৈনিক গড়ে প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার ৫০০ মতো যাত্রী মেট্রোরেল ব্যবহার করেছেন। রোজা শুরুর ১৫ দিন এ সংখ্যা কিছুটা কমে প্রতিদিন গড়ে দেড় লাখ যাত্রী চলাচল করেছেন। ১৬ রমজান থেকে মেট্রোরেলের চলাচল এক ঘণ্টা বাড়ানোর পর যাত্রীর সংখ্যা আবারও কিছুটা বেড়েছে। বর্তমান সময় সূচি অনুযায়ী দৈনিক ৪ লাখ ২৪ হাজার ৬৭২ জন যাত্রী মেট্রোরেলে করে যাতায়াত করতে পারছেন। তবে আপাতত ৫ লাখ যাত্রী বহনের লক্ষ্য ডিএমটিসিএলের। উত্তরা উত্তর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু হলে ৬ লাখের ওপরে যাত্রী বহন করা যাবে বলে জানা যায়। চলাচলের সময় এক ঘণ্টা বেশি বহাল থাকলে বাড়ি ফেরা নিয়ে চিন্তা করতে হয় না। অনেক কর্মজীবী মানুষের রাত ১০টা পর্যন্ত বাইরে কাজ থাকে। তাদের বিষয়টিও বিবেচনা রাখা প্রয়োজন বলে মনে করেন যাত্রীরা।

মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ানো ও চলমান যাত্রীবহনকারী বগীর সাথে নতুন বগীর সংযোজন মানুষের আগ্রহের জায়গা আরো বৃদ্ধি করবে। যানজট, গণপরিবহনে অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা, আরামদায়ক যাতায়াত ও নাগরিক জীবনে সৃষ্ট ভোগান্তি নিরসনে মেট্রোরেল সময়োপযোগী একটি উপায় হিসেবে স্বস্তি ও নিরাপদে চলাচলের সুযোগ দিচ্ছে। যাত্রীর সংখ্যা ও আগ্রহের বিষয়টি বিবেচনায় এনে চলাচলের সময় ও অধিক যাত্রী ধারণের ব্যবস্থা দ্রæততার সাথে বৃদ্ধি করা প্রয়োজন বলে অনেকে মনে করেন।

সময়োপযোগী ও যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর বলেই মনে হচ্ছে। মেট্রোরেলসহ এসব মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাচ্ছে দেশের মানুষ। যানজটের এই শহরে মেট্রোরেল যে আশির্বাদ নিয়ে এসছে তার ধারা অব্যাহত থাকুক এটাই জনগণের দাবি। তার প্রতিধ্বনি পাওয়া যায় আরো কিছু পরিকল্পনায়। জানা যাচ্ছে, মেট্রোরেলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) ও জাইকা ২০৩০ সাল নাগাদ ১২৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের মোট ৬টি মেট্রো লাইন নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে। এই নেটওয়ার্কে ৫১টি উড়াল স্টেশন ও ৫৩টি ভ‚গর্ভস্থ স্টেশন থাকবে। ছয়টি লাইন মিলিতভাবে দিনে ৪৭ লাখ যাত্রী পরিবহন করতে পারবে। এটা হয়ে গেলে রাজধানীবাসীর স্বস্তির যায়গাটা আরো সম্প্রসারিত হবে সে কথা বলাই বাহুল্য।
 
 লেখক: দপ্তর সম্পাদক - বিএফইউজে

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://www.dailyvorerpata.com/ad/Vorer-pata-23-12-23.gif
http://www.dailyvorerpata.com/ad/bb.jpg
http://www.dailyvorerpata.com/ad/Screenshot_1.jpg
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]