বুধবার ২৪ জুলাই ২০২৪ ৯ শ্রাবণ ১৪৩১

শিরোনাম: কর্মোপযোগী শিক্ষার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত উন্নতি সম্ভব    নববর্ষের আনন্দ যেন বিষাদের কারণ না হয়: রাষ্ট্রপতি    নির্বাচনে ২১ সদস্যের মনিটরিং সেল গঠন ইসির    দেশজুড়ে যে তিনদিন মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা!    মির্জা ফখরুলের জামিন শুনানি ৯ জানুয়ারি    প্রাথমিকের ছুটি বাড়ল ১৬ দিন (তালিকা)    নির্বাচনের বিরুদ্ধে বিএনপির প্রচারণা রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
চাঁপাইনবাবগঞ্জে পতিত জমিতে কলা, পেঁপে ও নিরাপদ সবজি চাষে লাভবান কৃষক
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৩, ৯:৫৯ পিএম আপডেট: ২৯.০৮.২০২৩ ১০:০২ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় অনাবাদি পতিত জমিতে পারিবারিক পুষ্টি বাগান গড়ে উঠছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কারিগরি সহযোগিতায় বাগান গড়ে তুলেছেন স্থানীয় দরিদ্র কৃষকরা। এর ফলে কৃষকদের পরিবারে প্রতিদিনের পুষ্টি চাহিদা যেমন মিটছে ঠিক একইভাবে উদ্ধৃত সবজি বাজারে বিক্রি করে বাড়তি টাকা আয়েরও সুযোগ পাচ্ছেন তারা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষি দফতর বলছে, পতিত জমিতে পুষ্টি বাগান গড়তে পরিবারগুলোকে বিনামূল্যে চারা-বীজসহ অন্য উপকরণ দেওয়া হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ‘পারিবারিক পুষ্টি বাগান’ প্রকল্পের আওতায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন জেলার কৃষক-কৃষাণীরা। পতিত জমিতে বিভিন্ন ধরণের ফল ও শাক সবজির চাষ করছেন তারা। সরকারের দেওয়া বিনামূল্যে সবজি চারা-বীজ পেয়ে কৃষকদের পরিবারের সদস্যরা বাড়ির উঠান ও আশপাশের খালি জায়গায় সবজি চাষ করছেন। বাজারে ফল ও সবজি বিক্রি করেও তারা বাড়তি টাকা আয় করছেন। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে জেলার প্রায় ৭২ বিঘা পতিত জমিকে কাজে লাগানো সম্ভব হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণের তথ্য অনুযায়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১ হাজার ৫৭৮টি পরিবার সরকারের কারিগরি সহযোগিতায় পারিবারিক পুষ্টি বাগান গড়ে তুলেছেন। এরমধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় ৪৩২ পরিবার, শিবগঞ্জ উপজেলায় ৪৯৪ পরিবার, গোমস্তাপুর উপজেলার ২৫২ পরিবার, নাচোল উপজেলার ১৫৪ পরিবার ও ভোলাহাট উপজেলার ২৪৬ পরিবার পুষ্টি বাগান গড়ে তুলেছেন। তারা প্রত্যেকেই ১ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ পতিত জমিতে পুষ্টি বাগান করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পরিত্যক্ত জমিতে পুষ্টি বাগান গড়ে তোলার জন্য প্রত্যেক পরিবারকে বিনামূল্যে মুলা, লালশাক, পাটশাক, পুঁইশাক, লাউ, পালংশাক, শিম, ডাটা, ধনিয়া ও ঘিমা কলমি শাকসহ নানা প্রজাতির সবজির বীজ-চারা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বাগানের মাটি উর্বর আর ফলনে পোকাদমনে ৮ কেজি ইউরিয়া, ৮ কেজি টিএসপি, এমওপি ৮ কেজি, জিপসাম ১ কেজি, ভার্মিপোস্ট ১০ কেজি, ১টি ঝাঁঝর, বীজ সংরক্ষণের পাত্রের পাশাপাশি ঘেরাবেড়ার জন্য একটি নেট দেওয়া হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বাসিন্দা মুনিরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি তার বাড়ির পাশের পতিত জমিতে পুষ্টি বাগান গড়ে তুলেছেন। তিনি বলেন, কৃষি অফিস থেকে সার, নেট ও ৭ প্রকারের সবজির বীজ দিয়েছে। তাদের পরামর্শে বাড়ির উঠানে ও পাশের ফাঁকা জায়গায় বাগান তৈরি করেছি। আমি এই বাগান থেকে পাওয়া সবজি থেকে আমার নিজের ও পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে প্রতিবেশীদের বিতরণ করি। এরপর বাকি থাকা সবজি বাজারে বিক্রি করি। এতে বাড়তি টাকা আয় হচ্ছে।

শিবগঞ্জের সানজিদা বেগম বলেন, বাড়ির পাশে কিছু জায়গা দীর্ঘদিন ধরে পতিত ছিল। সেই পতিত জায়গায় কৃষি অফিসের সহযোগিতায় সবজির বাগান করেছি। এই বাগান করার পর থেকে আমার বাজার থেকে কোনো শাকসবজি কেনার প্রয়োজন হয়নি। অতিরিক্ত সবজি বাজারে বিক্রি করেছি। আমাদের পুষ্টি বাগানের সবজি বিষমুক্ত হওয়ায় বাজারে চাহিদাও অনেক বেশি। আমার আশপাশের লোকজনও বাড়িতে এসে সবজি কিনে নিয়ে যান।



শিবগঞ্জ উপজেলার সত্রাজিতপুর ইউনিয়ন এর নামো বহালাবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা কৃষক আব্দুল হক জনৈক জেন্টু মিয়ার বাড়ির পিছনের ডোবা ভরাট করে চলতি বছর এক বিঘা জমিতে কলা  চাষ করে এক লক্ষ্য টাকা আয় করেছেন। 

আব্দুল হক জানান জেন্টু ভাই এর বাড়ির পিছনে প্রায় এক বিঘা জমি পতিত ছিল। তিনি উন্নত জাতের কলা গাছ লাগিয়ে এবং কলা বিক্রি করে ভালো  ভাবে সংসার পরিচালনা করছেন। কলা বিক্রির বিষয়ে তিনি বলেন স্থানীয় রানিহাটি ও সত্রাজিতপুর বাজারের কতিপয় ব্যাবসায়ী কলা বাগান থেকে নগদ টাকা দিয়ে কলা নিয়ে যায়। বাগান পরিচর্যায় বিষয়ে তিনি বলেন যে গাছ থেকে কলা কাটা হয়,তার গোড়া পরিছন্ন করলেই কাজ শেষ। পরবর্তীতে ঐ গাছের পাশেই নতুন নতুন চারা তৈরি হতে  থাকে। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. পলাশ সরকার বলেন, পতিত জমিকে চাষাবাদের আওতায় আনতে সরকারি একটি প্রকল্পের মাধ্যমে জেলায় বিভিন্ন জায়গায় পারিবারিক পুষ্টি বাগান গড়ে তোলা হচ্ছে। ১ হাজার ১৫ কৃষক-কৃষাণী পরিবারকে বিনামূল্যে বীজ-সার দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বাকি আরও ৫৬৩ আশ্রয়ণ প্রকল্পে বাসিন্দাদের মধ্যে আম, পেয়ারা, আমড়া, পেপেসহ বিভিন্ন ফলের চারা দেওয়া হয়েছে। কৃষকরা ফল ও সবজি চাষে সমস্যার মুখোমুখি হলে তাদের পরামর্শ দিয়ে সহযোগীতা করছি আমরা।

তিনি আরও বলেন, কৃষকরা বাগানে উৎপাদিত সবজি থেকে পরিবার ও নিজেদের পুষ্টি পাচ্ছেন। সেই সঙ্গে অধিক যে শাক-সবজি উৎপাদন করছেন সেটা বিক্রি করেও আয় হচ্ছে তাদের।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://www.dailyvorerpata.com/ad/Vorer-pata-23-12-23.gif
http://www.dailyvorerpata.com/ad/bb.jpg
http://www.dailyvorerpata.com/ad/Screenshot_1.jpg
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]