বৃহস্পতিবার ২৫ জুলাই ২০২৪ ৯ শ্রাবণ ১৪৩১

শিরোনাম: কর্মোপযোগী শিক্ষার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত উন্নতি সম্ভব    নববর্ষের আনন্দ যেন বিষাদের কারণ না হয়: রাষ্ট্রপতি    নির্বাচনে ২১ সদস্যের মনিটরিং সেল গঠন ইসির    দেশজুড়ে যে তিনদিন মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা!    মির্জা ফখরুলের জামিন শুনানি ৯ জানুয়ারি    প্রাথমিকের ছুটি বাড়ল ১৬ দিন (তালিকা)    নির্বাচনের বিরুদ্ধে বিএনপির প্রচারণা রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
মা হয়ে সন্তানের কাছে নিজের দেশ নিয়ে আজ আমি লজ্জিত: লিয়ানা
ভোরের পাতা ডেস্ক :
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট, ২০২৩, ১০:৪৯ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলাখুলি কিছু কথা
মা হয়ে সন্তানের কাছে নিজের দেশ নিয়ে আজ আমি লজ্জিত।

আমার দুই মেয়ে ব্রিটিশ নাগরিক। দীর্ঘ ৭ বছর পর তাদের নিয়ে নিজ দেশে মাত্র ১০ দিনের জন‍্য ঘুরতে এসেছিলাম এই চিন্তা করে, আমি যেমন আমার দেশকে ভিষন ভালোবাসি তেমনি আমার মেয়ে দুটা ও আমার দেশকে চিনবে, জানবে,ভালোবাসবে। দেশে নিয়ে যাচ্ছি শুনেই আমার বড় মেয়ে খুব কান্না করেছিলো কেন তাদের নিয়ে যাচ্চি, কি বা আছে,আর কোনদিন যেন জোর করে না নিয়ে যাই।

নিজের দেশ এর সৌন্দর্য তুলে ধরতে আমি দেশে নেমেই কোন বিশ্রাম না নিয়ে তাদের নিয়ে ছুটে গেছি কক্সবাজারে, আবার ঢাকায় এসেই পরের দিন ছুটে গেছি শ্রীমঙ্গ এবং সিলেট। এই অল্প কিছুদিনের মাঝেও নিজের দেশের গর্বের দিকগুলা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

 প্রচন্ড গরমে মেয়েদের খুব কষ্ট হয়েছে তারপরও তারা আমার সাথে নিউমার্কেট, মিরপুর, বসুন্ধরা, ইষ্কাটন, পল্টন ঘুরেছে, লন্ডনে প্রতিদিন উন্নত ট্রেইন এ তারা চড়ে তাপর ও নিজের দেশের গর্বের মেট্রো রেলে চড়িয়েছি। আমি খুব গর্বিত বোধ করেছি মেয়ে দুটা যখন বলেছে তারা আবার আসতে চায় আমার দেশে। অল্পদিনের মধ‍্যে তাদের মাঝে সেই ভালো লাগার জায়গা আমি তৈরি করতে পেরেছিলাম। কিন্তু নিজ দেশের এয়ারপোর্ট কর্মচারিদের অসৎ আচরনে আমি লজ্জিত হয়ে যাই। 

আমার সময়, আমার টাকা খরচ সব যেন এক মুহূর্তেই নষ্ট হয়ে যায় যখন আমার মেয়েরা অবাক হয়  এয়ারপোর্ট কর্মকর্তাদের হয়রানিমূলক  আচরনে। আমি খুব লজ্জিত আজ। মা হিসাবে সন্তানের কাছে নিজের দেশ নিয়ে লজ্জতি। জানিনা আমার এই লিখা আপনার পযর্ন্ত পৌছাবে কিনা। তবে এতোটুকু বলবো আমরা যারা দেশের বাইরে থাকি তারা নিজের দেশকে অনেক বেশি ভালোবাসি। 

কিছু দেশ আমরা ঘুরি কিন্তু বিশ্বের আর কোন দেশে এমন হয়রানিমূলক চেকিং আছে কিনা আমার জানা নাই। 

১. আমরা প্রথম যখন এয়ারপোর্ট ঢুকি একটা স্ক‍্যান সহ শরীর চেক করা হয়। যা অন‍্য দেশে হয় না।

২. ইমিগ্রেশনের চেক ইন এর পর আবার একটা চেক হয়। এইটা ই সব দেশে হয়।

৩. গেইট খোলা হবার পর যেখানে শুধু বোডিং পাস চেক করার কথা সেখানে কেবিন লাগেজ এর সাথে যাদের একটা আলাদা ব‍্যাগ থাকে তাদের দাড় করানো হয়  এবং ভয় দেখিয়ে টাকা নিয়ে তাদের ছাড়া হয়। যেটা বিশ্বের আর কোথাও নাই।
 
৪. গেইট এ ঢোকার পর আবার জুতা ঘরি খুলে স্ক‍্যান এবং শরীর চেক করা হয়। বাইরের দেশে স্ক‍্যানে কিছু ধরা পরলেই আলাদা করে শুধুমাত্র মাত্র সেই ভ্রমনকৃত মানুষের তল্লাশি করা হয়। বাকি সবার না।

৫. জীবনের প্রথম দেখা প্লেনে উঠার আগে আবার টেবিল বসিয়ে প্রতিটা যাত্রীদের ব‍্যাগ খুলে সব ঘাটিয়ে তল্লাসি করতে। তাহলে স্ক‍্যান মেশিনটির কাজ কি ছিলো? 
শুধু তাই নয় যেখানে স্ক‍্যান মেশিন কোন জীবন নাশক কিছু ধরা পরেনি সেখানে যাত্রীদের ব‍্যাগ খুলে বলা হচ্ছে এসব জীবন নাষক এবং কিছু মিষ্টি খাবার টাকা দিতে যেহেতু আমরা সখ করে কিনে এনেছি। আমার প্রশ্ন হলো যদি জীবন নাশক জিনিস হয় তাহলে মিষ্টি খাবার টাকা দিলে সেটা কিভাবে জীবন বাচানোর জিনিস হয়ে গেলো? এইসব কর্মকর্তা তো তাহলে টাকা নিয়ে যে কোন দুর্বৃত্তকারী কে ও প্লেনে উঠার সুযোগ করে দিবে।

আমরা কিভাবে এই ধরনের এয়ারপোর্ট কর্মচারিদের কাছে নিরাপদ। এমনকি আপনিও কি নিরাপদ? এইসব কর্মচারিদের হয়রানিমূলক আচরন কবে বন্ধ হবে? কবে আমাদের বাইরে থাকা সন্তান দেশে যেতে চাইবে, দেশের জন‍্য কিছু করতে চাইবে? আমি নিজে মিষ্টি খাবার টাকা দিয়ে প্লেনে বসেছি, নিজের চোখে দেখেছি এক ছোট ভাই কে টয়লেট যেয়ে তার কাধের ব‍্যাগ এর জন‍্য টাকা দিচ্ছে। 

দেখলাম টয়লেটে লিখা যেন আমরা কোন কর্মকর্তা কে টাকা উপহার না দেই কিন্তু কোথাও লিখা নাই এসব কর্মকর্তা যদি আমাদের থেকে টাকা ছিনতাই করে তখন আমরা কি করবো? বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে নিজ সন্তানের কাছে আজ আমি সত‍্যি খুব লজ্জিত। লন্ডনে আমি সাধারন একটা চাকরি করি। খুব আশা নিয়ে নিজ সন্তাদের কাছে নিজের দেশকে তুলে ধরতে ১০ দিনে আমার খরচ হয়েছে প্রায় ৯ লক্ষ টাকা যা আমার মতো মধ‍্যবিত‍্বের জন‍্য সহজ না। কিন্তু আমার দেশের এয়ারপোর্ট  এর এসব অসাধু, অসৎ কর্মচারিদের মিষ্টি খাবার জ‍ন‍্য টাকা ছিনতাইয়ের পদ্ধতি  আমার কাছে খুব জঘন‍্য মনে হয়েছে। 



ছোট দেশ হিসাবে অনেক কিছুই নেই আমাদের যা আমার মেয়েরা মেনেই নিয়েছিলো কিন্তু এয়ারপোর্ট  এর কর্মচারিদের এইধরনের মিষ্টি খাওয়ার টাকা ছিনতাই পদ্ধতিতে আমার সন্তান আতঙ্কিত। আমরা কি তাহলে নিজ দেশে যাবার স্বপ্ন দেখবো না? আমরা কি নিজের সন্তানের কাছে এইসব ই তুলে ধরে দেশকে পরিচয় করিয়ে দিবো? কতোটা তল্লাশি হলে যাত্রী নিরাপদ হবে প্লেনে উঠার জন‍্য? কতোটা নির্লজ্জ জাতি হলে  নিজের মতো করে নিয়ম বানিয়ে মিষ্টি খাওয়ার টাকা ছিনতাই করতেই থাকবে? এয়ারপোর্ট  খুবই অনিরাপদ  যেখানে মিষ্টি খাওয়ার টাকার উপর যাত্রীর প্লেনে উঠা নির্ভর করে।

এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষ হয়তো  অন্ধ বধির। এয়ারপোর্ট এসব অসৎ কর্মচারী থাকলে স্ক‍্যান মেশিন এবং সিসি ক‍্যামেরার মতো ব‍্যয়বহুল মেশিনের দরকার নেই।

আরো কষ্টের বিষয়  আমাদের ভাই বোন রা যখন দেশের জন‍্য বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে অচেনা অজানা দেশে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছেন তারা জানেও না কতো কঠিন জীবন পরীক্ষা তাদের জন‍্য অপেক্ষা করছে আর সেই সময়  আমাদের ইমিগ্রেশন অফিসার রা কতোটা অসম্মান নিয়ে তাদের কাগজপত্র চেক করে ছুড়ে ছুড়ে তাদের ফেরত দিচ্ছেন নিজের চোখে দেখা। এই অতি সাধারণ মানুষগুলো কি এতোটাই অসম্মানের যোগ‍্য? এই সহজ সলশ ভাইবোন গুলা কি সামান‍্য সম্মান আমাদের দেশের  এয়ারপোর্ট ইমিগ্রেশন অফিসার দের থেকে আশা করতে পারেনা? এতোটা ছোট মানসিকতার পরিচয় কেনো আমরা দিচ্ছি যেখানে তাদের বৈদেশিক মুদ্রার উপর আমাদের দেশের উন্নতির অনেক কিছু নির্ভর করে!!

লিয়ানা

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://www.dailyvorerpata.com/ad/Vorer-pata-23-12-23.gif
http://www.dailyvorerpata.com/ad/bb.jpg
http://www.dailyvorerpata.com/ad/Screenshot_1.jpg
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]