বুধবার ১৯ জুন ২০২৪ ৪ আষাঢ় ১৪৩১

শিরোনাম: কর্মোপযোগী শিক্ষার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত উন্নতি সম্ভব    নববর্ষের আনন্দ যেন বিষাদের কারণ না হয়: রাষ্ট্রপতি    নির্বাচনে ২১ সদস্যের মনিটরিং সেল গঠন ইসির    দেশজুড়ে যে তিনদিন মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা!    মির্জা ফখরুলের জামিন শুনানি ৯ জানুয়ারি    প্রাথমিকের ছুটি বাড়ল ১৬ দিন (তালিকা)    নির্বাচনের বিরুদ্ধে বিএনপির প্রচারণা রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
তিনি অবিনাশী, তিনি চিরঞ্জীব
মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৩, ১০:৩১ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি বাঙালি জাতির ঋণ অপরিসীম। বঙ্গবন্ধুর জীবন দর্শন, আন্দোলন-সংগ্রাম, সরকার পরিচালনা ও দেশ শাসন সহ সার্বিক জীবনাচার পর্যালোচনা করলে নিচের বিষয়গুলো আমাদের সামনে প্রতিভাত হয়, যেগুলো বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের সৃষ্টির প্রকৃত ইতিহাসের অংশ:

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ছাত্রাবস্থায় রাজনীতি শুরু করে বাংলার মানুষকে ভালবেসে তাদের দুঃখ কষ্টে এগিয়ে এসেছেন। তাই দেখা যায়, ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষে এবং ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় জীবন বাজি রেখে মানুষের সেবা করেছেন। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর পূর্ব বাংলায় এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমএ ক্লাসে ভর্তি হওয়ার পর ১৯৪৮ সাল থেকেই ঢাকায় পশ্চিম পাকিস্তানের তাবেদার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েন। পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ গঠন, ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের আন্দোলনে সমর্থন দান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার অতঃপর পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগে যোগদানের মাধ্যমে বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিসরে প্রবেশ করেন। 

অল্প সময়ের মধ্যেই মওলানা ভাসানী, শামসুল হক প্রমুখ নেতৃবৃন্দ এবং সর্বোপরি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সংস্পর্শে এসে পূর্ববাংলার রাজনীতিতে পরিপক্কতা লাভ করেন। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট সরকারের মন্ত্রী হিসেবে পূর্ব পাকিস্তানের শাসন বিভাগে অংশগ্রহণ করলেও বাঙালির স্বাধিকার ও আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের জন্য সংগ্রাম অব্যাহত রাখেন। যুক্তফ্রন্ট সরকারের পতনের পর বুঝতে পারেন, পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার বাঙ্গালীদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অংশগ্রহণ করতে দিবে না। বাঙ্গালীদের শাসন ও শোষণ করে পশ্চিম পাকিস্তানকে সমৃদ্ধ করা হচ্ছিল। শাসনব্যবস্থা, সরকারি চাকরি, প্রতিরক্ষা বাহিনীতে নিয়োগ, উন্নয়ন ব্যয়ের অংশীদারিত্ব সকল ক্ষেত্রেই পূর্ববাংলা তথা পূর্ব পাকিস্তান বৈষম্যের শিকার হয়। আওয়ামী লীগের ছায়াতলের শেখ মুজিব পূর্ব পাকিস্তানের অন্যান্য প্রগতিশীল নেতৃবৃন্দ সহ পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন, স্বাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্যের অবসানের জন্য আন্দোলন চালিয়ে যান। প্রতিক্রিয়াশীল পাকিস্তান সরকার এবং ১৯৫৮ সালের পর সামরিক সরকার, ১৯৬০ সালের পর বেসামরিক শাসনের ছত্রছায়ায় প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের সেনা সমর্থিত সরকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের আন্দোলন দমনের জন্য তাঁকে বারবার গ্রেফতার করে কারাগারে প্রেরণ করে, প্রহসনের বিচারের মাধ্যমে শাস্তি প্রদানের চেষ্টা করে। 

১৯৬৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেখ মুজিবের ঐতিহাসিক ছয় দফা ঘোষণার পর প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খুবই বিরক্ত হন। ২০ মার্চ ১৯৬৬ প্রেসিডেন্ট ঢাকায় এসে বলেন, 'দেশের অখন্ডতা বিরোধী কোন প্রচেষ্টা সমর্থন করা হবে না প্রয়োজন বোধে অস্ত্রের ভাষায় এর জবাব দেওয়া হবে।' সেদিনই বিকেলে পল্টন ময়দানে লক্ষ লোকের সমাবেশে শেখ মুজিব বলেন, "ছয় দফা দাঁড়ি, কমা, সেমিকোলন সহ মেনে নিতে হবে। আমরা অনেক রক্তচক্ষু দেখেছি, আর নয়। ... দেশের উভয় অংশকে সমান শক্তিশালী করতে হবে।"

ছয় দফার প্রচার আন্দোলনকালে শেখ মুজিব সহ আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দকে ঘনঘন জেলে যেতে হয়েছিল। সরকার আন্দোলনকারীদের দমনের জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করে। বিশেষ করে শেখ মুজিবকে বড় রকমের কোনো অপরাধে অভিযুক্ত করার জন্য সরকার ফাঁদ পাতে। 

১৯৬৮ সালের জানুয়ারি মাসে শেখ মুজিবকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় অভিযুক্ত করে পুনরায় গ্রেফতার করে ঢাকা সেনানিবাসে নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে থেকেই শেখ মুজিব প্রায় ২১ মাস যাবত জেলে আটক ছিলেন।

শেখ মুজিবুর রহমানের নিঃস্বার্থ রাজনীতি, মানুষের জন্য ভালোবাসা, জেল-জুলুম সত্বেও অসীম সাহসিকতা ও পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের স্বার্থ রক্ষায় ঐকান্তিক প্রচেষ্টা সর্বোপরি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় অভিযুক্ত হয়ে বিচারের মুখোমুখি হওয়ায় পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের সহানুভূতি ও মমত্ববোধ তাঁর ওপর বর্ষিত হয়। জনগণ বুঝতে পারেন পাকিস্তান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় প্রহসনের বিচার করে শেখ মুজিবের রাজনৈতিক জীবন শেষ করে দিতে চেয়েছিল। ১৯৬৯ সালের শুরুতেই ছাত্র জনতা রক্তক্ষয়ী গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ মুজিবকে মুক্তি দিতে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের সরকারকে বাধ্য করে। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা কেন্দ্রীয় সরকার প্রত্যাহার করে নিলে শেখ মুজিব ২২শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা সেনানিবাস থেকে মুক্ত হন। ২৩ ফেব্রুয়ারি ছাত্র জনতা রেসকোর্স ময়দানে শেখ মুজিবকে গণ সংবর্ধনা প্রদান করে। সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ হতে পরিষদ সভাপতি তোফায়েল আহমদ শেখ মুজিবুর রহমানকে "বঙ্গবন্ধু" উপাধিতে ভূষিত করেন। 

প্রেসিডেন্ট আইয়ুব রাজনৈতিক সংকট নিরসনকল্পে পাকিস্তানের সকল রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনার জন্য ১৯৬৯ সালের মার্চে গোল টেবিল বৈঠক ডাকেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব উক্ত বৈঠকে ছয় দফা ও ১১ দফার ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণের বিষয় বিস্তারিত তুলে ধরেন। প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান ও তার সরকারের পশ্চিম পাকিস্তানি সামরিক ও বেসামরিক আমলাতন্ত্র এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ পাকিস্তান রাষ্ট্র কাঠামোর বৈপ্লবিক পরিবর্তন মেনে নিতে পারেনি, বরং তারা শেখ মুজিবের ভূমিকা ও প্রস্তাবকে 'পাকিস্তান ভাঙার ষড়যন্ত্র' হিসেবে দেখেন। বৈঠকে কোনরূপ ঐক্যমত্য না হওয়ায় আইয়ুব খান এই বলে গোলটেবিল বৈঠক সমাপ্ত করেন যে, নির্বাচনের পর নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ সরকার ব্যবস্থা ও অন্যান্য মৌলিক নীতিগত বিষয় ঠিক করবে। 

মূলতঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফা কর্মসূচি প্রদান করেন পূর্ব পাকিস্তানের  স্বায়ত্তশাসন, স্বাধিকার ও স্বাধীনতার জন্য। তিনি বলেন, "সাঁকো দিলাম, স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতায় উন্নীত হওয়ার জন্য।" ছেষট্টির ছয় দফা আন্দোলন, আটষট্টির আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ঊনসত্তরের গণআন্দোলন এবং মার্চে আইয়ুব খান সরকারের পতন প্রভৃতির প্রেক্ষাপটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব পাকিস্তানের অবিসংবাদিত নেতা এবং পূর্ব পাকিস্তানের সর্বাধিক জনপ্রিয় রাজনীতিক হিসেবে আবির্ভূত হন। তাঁর অসাধারণ নেতৃত্ব, সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতা, গুরুগম্ভীর বাগ্মিতা, ব্যক্তিত্ব প্রভৃতির কারণে বাঙালির একমাত্র ভরসাস্থল হিসেবে পরিগণিত হন, যার ফলে তাঁর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের দুইটি ব্যতীত সবকটি আসনে জয়লাভ করে পাকিস্তানের জাতীয় সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। 

পাকিস্তানের পরবর্তী ইতিহাস আরও কলঙ্কজনক। আইয়ুব খানের পরবর্তী সামরিক প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান পশ্চিম পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টোর সাথে ষড়যন্ত্র করে আওয়ামী লীগের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তরে গরিমসি করে। ১৯৭১ সালের মার্চে পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র শ্রমিক জনতা দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে। পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর গুলিতে বহু মানুষ প্রাণ হারান। রেসকোর্স ময়দানে ৭ ই মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা সংগ্রামের রুপরেখা তুলে ধরেন। ইয়াহিয়া-ভুট্টোর অনড় অবস্থানের কারণে আলোচনা ব্যর্থ হলে ২৫ মার্চ মধ্যরাতে ইয়াহিয়া খান 'অপারেশন সার্চলাইট' এর মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালি নিধনযজ্ঞ শুরু করে। বঙ্গবন্ধু ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তাঁকে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী বন্দী করে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যায়। 

আওয়ামী লীগে তাঁর সহযোগী তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রমুখের নেতৃত্বাধীন হাইকমান্ড ভারতে গিয়ে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সহায়তায় মুক্তিযুদ্ধ শুরু করে। বাংলাদেশের ছাত্র-শ্রমিক, যুবকসহ অধিকাংশ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন কিংবা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে অবস্থান নেন। প্রাথমিক পর্যায়ে ২৬ মার্চের পর পর বাঙালি পুলিশ, ইপিআর, সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর অফিসার ও জাওয়ানগণ বিদ্রোহ করে পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করে মুক্তিযুদ্ধ শুরু করলেও ক্রমান্বয়ে মুক্তিবাহিনীতে আপামর জনতা যোগ দেয়ার ফলে পাকিস্তান প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিরুদ্ধে এটি একটি জনযুদ্ধে পরিণত হয়। অবশেষে নয় মাসের জীবনপন যুদ্ধে এবং ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর সহায়তায় মুক্তিযোদ্ধা এবং সাধারণ বাঙালি সহ ৩০ লক্ষ শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ১৬ ই ডিসেম্বর পাক সেনাদের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে বিজয় অর্জিত হয়। 

পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ দেশে প্রত্যাবর্তন করেন এবং ১২ জানুয়ারি সরকার প্রধান (প্রধানমন্ত্রী) হিসেবে দেশের শাসনভার গ্রহণ করেন। একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ যার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে কোন টাকা ছিল না, বৈদেশিক মুদ্রা ছিল না, সে দেশের পুনর্গঠন, স্বল্পতম সময়ের মধ্যে সংবিধান প্রণয়ন, সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠান, ভারত প্রত্যাগত প্রায় এক কোটি শরণার্থীর পুনর্বাসন, মুক্তিযোদ্ধা ও নির্যাতিতা নারীদের পুনর্বাসন, পাকিস্তান থেকে পাঁচ লক্ষাধিক বাঙ্গালীকে ফিরিয়ে আনা, ১২১ টি দেশের স্বীকৃতি অর্জন, জাতিসংঘ, কমনওয়েল, ওআইসি, বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ প্রভৃতি জোট ও সংস্থার সদস্যপদ লাভ, বিশ্বের ছোট বড় দেশসমূহের সাথে নিবিড় সম্পর্ক স্থাপন, দেশের অভ্যন্তরে অব্যাহত সন্ত্রাস, চুরি ডাকাতি, দুর্নীতি, কালোবাজারি, মুনাফাখোরি, চোরাচালান এবং সমস্ত নাশকতা মূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবস্থা গ্রহণ, বন্যা-দুর্ভিক্ষ ইত্যাদি মোকাবেলা করে দেশের শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে যখন অগ্রগতির পথে নিয়ে যাচ্ছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তে বাংলাদেশে নেমে এসেছে এক অকল্পনীয় অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্যোগ। একটি ক্ষমতালোভী, বিশ্বাসঘাতক ও বিপথগামী চক্র ১৯৭৫ সালের ১৫ ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে।



গোটা জাতি, গোটা বিশ্ব এ হত্যাকাণ্ডের খবর শুনে স্তম্ভিত হয়ে গেল। যে মানুষটি তাঁর সারাজীবন ব্যাপী বাংলার মানুষকে ভালোবেসে তাদের অধিকার আদায়, তাদের মুক্তির জন্য সংগ্রাম করেছে, জেল জুলুম সহ্য করেছে, জীবনের প্রায় ১৩ টি বছর পাকিস্তানের কারাগারে নিঃসঙ্গ, অনিশ্চিত জীবন কাটিয়েছে, জাতিকে স্বাধীন দেশ উপহার দিয়েছে, যাকে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা হত্যা করতে সাহস করেনি, তাঁকে কিনা হত্যা করেছে একদল বিপথগামী অকৃতজ্ঞ বাঙালি! এ কেমন জাতি! দেশবাসী কিভাবে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড মেনে নিল! 

বঙ্গবন্ধুর আত্মবিশ্বাস ছিল যে তিনি বাংলার মানুষকে ভালোবাসেন, মানুষও তাঁকে ভালবাসে। বঙ্গবন্ধু নিজ বাড়িতে স্ত্রী-পুত্র-কন্যা সহ সাধারণ নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে থাকতেন। তিনি বলতেন, "বাঙালি আমাকে মারবে না।" তাঁর এই বিশ্বাসের ভিত্তি ছিল দেশপ্রেম ও মানবপ্রেম এবং বাংলার মানুষের প্রতি সীমাহীন বিশ্বাস ও আস্থা। তাঁর জীবিতাবস্থায় ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড ফ্রস্ট কোন এক সাক্ষাৎকারে বঙ্গবন্ধুকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, "আপনার সবচেয়ে বড় শক্তি কি?" বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, "আই লাভ মাই পিপল।" পরের প্রশ্ন, "আপনার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা কি?" বঙ্গবন্ধু জবাবে বলেছিলেন, "আই লাভ মাই পিপল টু মাচ। আমি মরি তা ও ভালো। তবু আমার দেশবাসীর যেন মর্যাদার হানি না ঘটে।" 

বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে তাঁর অবদান মুছে ফেলার অপচেষ্টা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর ছবি, তাঁর 'বঙ্গবন্ধু' ও 'জাতির পিতা' উপাধি, স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর অবদান, বাংলার মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও আত্মত্যাগ প্রভৃতির রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যবহার ও স্মরণ নিষিদ্ধ ছিল। দীর্ঘ ২১ বছর পর বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশের প্রধানমন্ত্রী হলে বঙ্গবন্ধুকে পুনরায় পুনর্বাসিত করা হয়। তাঁর জীবন ও কর্মের উপর নানা গবেষণা হয়, বাংলাদেশের জন্য তাঁর পর্বত প্রতিম অবদান দেশবাসী ও নতুন প্রজন্ম জানতে পারে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর শাসনামলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও আদর্শ বাস্তবায়নে তাঁর কন্যা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। বঙ্গবন্ধুর হত্যার সংবাদ বেতারের শোনার পর সাহিত্যিক সাংবাদিক আবু জাফর শামসুদ্দীন তাঁর ডাইরিতে লিখেছিলেন, "মৃত মুজিব জীবিত মুজিবের চেয়ে শক্তিশালী রূপে আবির্ভূত হবেন।" মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন, "টুঙ্গিপাড়ার শেখ মুজিবের কবর একদিন সমাধিস্থলে রূপান্তরিত হবে এবং বাঙালির তীর্থস্থান হিসেবে রূপ লাভ করবে।" তাঁদের ভবিষ্যৎবাণী এখন বাস্তবতা। শেখ মুজিব একটি অবিনাশী নাম একজন কিংবদন্তি। আজ তাঁর ৪৮ তম প্রয়াণ দিবসে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের শহীদ সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও অশেষ দোয়া জানাই। 

লেখক: সাবেক সিনিয়র সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান, বর্তমানে জার্মানিতে বাংলাদেশের রাষ্টদূত।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://www.dailyvorerpata.com/ad/Vorer-pata-23-12-23.gif
http://www.dailyvorerpata.com/ad/bb.jpg
http://www.dailyvorerpata.com/ad/Screenshot_1.jpg
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]