শুক্রবার ২ ডিসেম্বর ২০২২ ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

শিরোনাম: ড. কামাল হোসেন রাজনীতির রহস্য পুরুষ: কাদের    দরিদ্র দেশগুলোর ওপর ঋণের বোঝা বেড়েছে ৩৫ শতাংশ: বিশ্বব্যাংক    নভেম্বরে ১৩৪ কোটি টাকার চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য জব্দ    রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে ১৩ হাজার ইউক্রেনীয় সেনা নিহত    নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দোকানে কাভার্ডভ্যান, বাবা-ছেলেসহ নিহত ৫    দৈনিক মৃত্যুতে শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র, সংক্রমণে জাপান    পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের সর্বত্র শান্তি বজায় রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
মানবেতর জীবনযাপন করছে পুতুল নাচের শিল্পীরা
ফিরোজ আলম মনু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ৭ নভেম্বর, ২০২২, ৯:৩৫ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

গ্রাম বাংলার সেই ঐতিহ্যবাহী পুতুল নাচ আজ বিলুপ্তির পথে। কালের বিবর্তনে সৈয়দ মুজতবার লেখা পুতুল নাচের ইতিকথা এখন স্বপ্নের স্মারক। শুধু পুতুল নাচ-ই বিলুপ্তি হয় নি,পুতুল নাচের সাথে জড়িত সংশ্লিষ্ট কুশলীরাও পড়েছেন চরম বিপাকে। দীর্ঘ বছর ধরে পুতুল নাচ পেশাকে আগলে রেখে জীবিকা নির্বাহ করা মানুষগুলো অর্থের অভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। পুতুল নাচ দেখিয়ে আনন্দ দেয়া মানুষগুলোর দিন কাটছে এখন দুঃখ কষ্টে।

এ বিষয়ে কথা কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষা দক্ষিণ পাথর ডুবি গ্রামের মনিকা পুতুল নাচ এন্ড থিয়েটারের মালিক মোঃ মকবুল হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন,আজ থেকে ৪০ বছর আগে আমি যাত্রাপালায় কাজ করতাম। সেই সময় আমাদের ভুরুঙ্গামারিতে ভারতের দিনহাটা  থেকে মা কালি পুতুল নাচ নামের একটি টিম আসে। যাত্রাপালা করতে গিয়ে সেখানে পরিচয় হয় "মা কালি পুতুল নাচ" এর মালিক শ্রী মুরালী বর্মণের সাথে। যাত্রাপালার পাশাপাশি পুতুল নাচ নিয়ে টিম করার ইচ্ছে প্রকাশ করলে তিনি ৮০ হাজার টাকায় পুরো পুতুল সেট আমার কাছে বিক্রি করে দেন। পরে ৯ জন সদস্য নিয়ে শুরু হয় প্রশিক্ষনের পর্ব। ভারতের কুচবিহার,শিলিগুড়ি, দিনহাটা থেকে পুতুল নাচের মাস্টার এনে টানা ৬ মাস প্রশিক্ষন নেই। ১৯৮৪ সালের দিকে দিনহাটা থেকে আসা মাস্টার শ্যামল কুমার বর্মনের হাত ধরে মা কালি পুতুল নাচ নাম বদলে মনিকা পুতুল নাচ এন্ড থিয়েটার নাম দিয়ে যাত্রা শুরু করি। প্রথমের দিকে শুধু মাত্র কুড়িগ্রাম জেলার ভিতরে অনুষ্ঠান শুরু করলেও ১৯৮৭ সালে সরকারি নিবন্ধন পাওয়ার পর বাইরের জেলাতে অনুষ্ঠান করা শুরু হয়। পরবর্তীতে কুড়িগ্রাম,রংপুর,  গাইবান্ধা, দিনাজপুর, বগুড়া,রাজশাহী, নীলফামারী,রাজশাহীসহ ঢাকা কেন্দ্রীয় শিল্পকলা একাডেমিতে শো করে আসছি। শিল্পকলা থেকে পুরুষ্কার পেয়েছি তবে যোগাযোগের অভাবে মনিকা পুতুল নাচ এন্ড থিয়েটার দল বিদেশে শো করতে পারে নাই।

তিনি আরও বলেন, প্রশাসন আমাদের প্রোগ্রাম করার অনুমতি দেয় না। কারণ বিভিন্ন সময়ে দেখা যায় পুতুল নাচের নামে বিভিন্ন ব্যক্তিরা অশ্লীল নাচ গান করায়। সরকারি কোন সাহায্য সহযোগিতা ছাড়া এভাবে কি টিকে থাকা যায়।  তবে আমি যতদিন বেঁচে আছি এই পুতুলের সাথেই জীবনটা কাটিয়ে দিতে চাই।

মনিকা পুতুল নাচ এন্ড থিয়েটার এর সভাপতি ভানু বর্মণ বলেন,আমি ১৯৮৪ সাল থেকে এই দলে কাজ করি।এ পর্যন্ত ২১টি যাত্রাপালায় গান,বাজনা,সুর, কন্ঠ অভিনয় করেছি।এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল,এক ফুল দুই মালি,কাশেম মালার প্রেম,সতী রুপভান,রাম বনবাস,দানবীর রাজা হরিশ্চন্দ্র, রাবন বধ,মহা সতী সাবেত্রী সত্যবান, সাগড় ভাষা ইত্যাদি।এরকম ২১টি পালা নিয়ে মনিকা পুতুল নাচ এন্ড থিয়েটার পালা করে দেখাতো।

তিনি আরও বলেন,এ পর্যন্ত ২১টি পালায় গান,বাজনা,সুর, কন্ঠ অভিনয় করেছি।প্রায় ২০ বছর ধরে পুতুল নাচ বন্ধ। ফলে আমাদের উপার্জন বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা খুব কষ্টে আছি।

পালাকার আবুল হোসেন বলেন,পুতুল নাচ বন্ধ হয়ে গেছে। আগের মত আমাদের ডাক আসে না।বছরে সরকারিভাবে দু একটি অনুষ্ঠানে ডাক পড়ে।সে সময় ৪-৫ শো টাকা পাই।আর সারা বছর দিনমজুর করে সংসার চলে। সরকার যদি সুষ্ঠু পরিকল্পনা নিয়ে আবার পুতুল নাচ অনুষ্ঠানের অনুমতি দিত এ পেশায় জড়িত থাকা মানুষগুলোর দুঃখ ঘুচতো।

তবলা বাদক স্বপন বর্মণ বলেন,আমি এ পেশার সাথে ৩০ বছর ধরে জড়িত।আগে পুতুল নাচ ভালো চলতো।মোবাইলের যুগে এখন আর মানুষ দেখে না।ফলে শো চালাতে পারছি না, আয় রোজগার কমে গেছে।আমরা মানবেতর জীবনযাপন করছি।সরকার আমাদের কোন সাহায্য সহযোগিতা করছেন না আমরা পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছি।

ভারতের সাহেব গঞ্জে থেকে নাচ দেখতে আসা রোজন চন্দ্র বলেন,আজকে পুতুল নাচ দেখে অনেক ভালো লাগলো। আমরা ২০ বছর আগে পুতুল নাচ দেখতে দলবলে বাংলাদেশ আসতাম।মনিকা পুতুল নাচ এন্ড থিয়েটারের পুতুল নাচ সীমান্তের পাশে হতো।এখন আর হয় না আমরাও আসি না।এনারা অর্থনৈতিকভাবে খুব কষ্ট আছেন।বাংলাদেশ সরকারের উচিৎ এদের প্রতি সুব্যবস্থা নেয়া।

মোঃ সোহেল রানা বলেন,আজকে ত্রিশ বছর পর পুতুল নাচ দেখে ভালো লাগলো।আগে ১ টাকা ২ টাকায় টিকিট কিনে পুতুল নাচ দেখতাম।এখন পুতুল নাচ বন্ধ হয়ে গেছে। পুতুল নাচ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারনে শিল্পীরা ভালো নেই।সরকারে উচিৎ আবার পুতুল নাচ চালু করুক।



মোছাঃ আইরিন সুলতানা বলেন, আমি আজ প্রথম পুতুল নাচ দেখে খুব আনন্দ পেলাম।আধুনিক যুগে প্রযুক্তির কারনে পুতুল নাচ আর দেখা হয় না।সরকারের উচিত এ বিষয়ে লক্ষ্য রাখা।

মূক নাচ শিল্পী হোসেন আলীর স্ত্রী নুরবানু বলেন, আমার স্বামী ৪০ বছর ধরে পুতুল নাচ দেখাতো।প্রায় ২০ বছর ধরে পুতুল নাচ বন্ধ।এখন আগের মত আয় রোজগার নেই।বাচ্চাদের ভরনপোষণ নিয়ে খুব কষ্টে আছি।

কুড়িগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার মোঃ আলমগীর কবির বলেন, মনিকা পুতুল নাচ এন্ড থিয়েটার দলটির ২জন সরকারিভাবে ভাতার আওতাধীন হয়েছেন। বাকিদের পর্যায়ক্রমে আনা হবে। এছাড়াও ওই দলটির জন্য বাৎসরিক ভাতা ও অনান্য সুযোগ সুবিধা আসলে দেয়া হয়। সরকার বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পুতুল নাচের ব্যাপারে উৎসাহী। পুতুল নাচ প্রদর্শনীর বিষয়ে কোন বাঁধা নেই বলে জানান তিনি।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://www.dailyvorerpata.com/ad/dd.jpg
http://dailyvorerpata.com/ad/apon.jpg
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]