রোববার ৪ ডিসেম্বর ২০২২ ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

শিরোনাম: উত্তেজনা ছড়িয়ে আর্জেন্টিনার কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত    যুবদল সভাপতি টুকু গ্রেপ্তার    রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের ‘ব্লক রেইড’    বনানীতে জঙ্গি সদস্য অবস্থান সন্দেহে হোটেল ও মেস ঘিরে রেখেছে পুলিশ    ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম, দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ    বাংলাদেশের উন্নয়ন ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে প্রচারণা চালাবে সিএনএন    চিকিৎসা বিজ্ঞানের মৌলিক গবেষণায় ডব্লিউএইচএফ’র সহযোগিতা কামনা প্রধানমন্ত্রীর   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
লেবুর কেজি ১০ টাকা!
গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ৮:৩৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

নাটোরের গুরুদাসপুরে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে একেবারেই তলানিতে লেবুর বাজার। লেবু বিক্রিতে চাষিদের উৎপাদন খরচ ওঠানোই এখন কষ্টকর, ফলে লাভের পরিবর্তে লোকসান গুনতে হচ্ছে লেবু চাষিদের। লোকসানের মুখে পড়ে অনেক কৃষকই লেবু তুলতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। এ কারণে বাগানের লেবু বাগানেই নষ্ট হচ্ছে।

গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অফিসার মোঃ মতিয়র রহমার জানান, এবছর উপজেলায় ৩০ হেক্টর জমিতে লেবু চাষ হয়েছে। মুলত কাগজী লেবু জায়গাটা দখল করেছে চায়না ৩ জাতের বারো মাসি লেবু। এ লেবুর ফলন বেশি। এছাড়া বর্ষা মৌসুমে লেবু বেশি পরিমানে উৎপাদন হয় চাহিদা থাকে কম। শুষ্ক মৌসুমে ফলন কম চাহিদা বেশি থাকায় দাম বেশি থাকে। আসলে চাহিদা অনুযায়ী বাজার কম বেশি হতে পারে।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন বাগান ঘুরে দেখা যায়, লেবু পেকে গাছ থেকে মাটিতে পড়ে যাচ্ছে। অনেক লেবু ফেটে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। লোকসানের ভয়ে অনেক চাষি লেবু তুলছে না। ফলে বাগানেই নষ্ট হচ্ছে চাষির কষ্টার্জিত সম্পদ।

স্থানীয় চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাগান প্রক্রিয়া জাতকরন, সারসহ খরচ প্রতি বিঘায় ১৫শ থেকে ২হাজার টাকা। এছাড়া প্রতি বস্তা লেবু তুলতে শ্রমিককে দিতে হয় ১৫০ হতে ২০০ টাকা। পাটের বস্তা, ভাড়া, অন্য খরচ বাবদ চলে যায় আরও ৩০০ টাকা। প্রতি বস্তা লেবু তুলে বিক্রি পর্যন্ত খরচ হচ্ছে ৭শ থেকে ৮শ টাকা। সেই লেবু বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে প্রতি বস্তা ৪শ থেকে ৫শ টাকা দরে। যার কারণে বাগানেই নষ্ট হচ্ছে কৃষকের স্বপ্নের ফসল। তাই লেবু চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন চাষিরা। লেবু চাষিদের দাবি, কিছু লেবু ব্যবসায়ীর কারসাজীতে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাদেও নিকট থেকে কম দামে লেবু কিনে ঢাকাসহ সারাদেশ থেকে আসা মহাজনদের কাছে অধিক মুনাফায় লেবু বিক্রি করছে। ফলে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে লোকসানের পড়তে হচ্ছে তাঁদের।



চাপিলা ইউনিয়নের কলাকান্ত নগর গ্রামের চাষি মো. রহমত মন্ডল বলেন, এবার আমার চার বিঘা জমিতে লেবু চাষ করা হয়েছে। রমজানের শুরুতে ভালো দামে বিক্রি হলেও, এখন একদমই বিক্রি হচ্ছে না। পাইকারেরা এখন আর লেবু কিনতে চান না। আমাদের নিজেদের খরচে লেবু তুলে বাজারে বিক্রি করতে হয়। তবে লেবু তুলতে একজন দিনমজুরকে যে পারিশ্রমিক দিতে হয় সেই টাকাই বিক্রি করে তোলা সম্ভব হচ্ছে না। তাই লেবু তোলা বন্ধ রেখেছি।

চাঁচকেড় বাজারের খুচরা লেবু বিক্রেতা জনাব আলী জানান, বাগান থেকে ৭ টাকা কেজি  দরে লেবু কিনে ১০ টাকা কেজি বিক্রি করছি।

লেবু ব্যবসায়ী মোঃ রাজু বেপারী জানান, বর্ষা মৌসুমে লেবুর দাম এমনিতেই কম থাকে। তাছাড়া মহাজনরাও বাঁকিতে লেবু কিনে। ঝুকি নিয়ে স্থানীয় বাজার থেকে লেবু কিনে মহাজনদের কাছে সামান্য লাভে বিক্রি করা হয়।

ঢাকা থেকে লেবু কিনতে আসা মহাজন রফিকুল ইসলাম জানান, এখন লেবুর ডাল সিজন। তাছাড়া ট্রাকের ভাড়া, খাজনা ও লেবার বিল দিয়ে বেচা বিক্রি শেষে সামান্য কিছু লাভ থাকে। 
 
গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হারুনর রশিদ বলেন, বৃষ্টির কারনে স্বল্প সময়ের জন্য বাজার দরটা একটু কমে গেছে। আবহাওয়া ঠিক হলেই লেবু চাষিরা আবার সাবেক দর ফিরে পাবে। তবে এই সময়ে লেবু চাষিরা কলম তৈরী করে বাড়তি আয় করতে পারেন। তবে লেবু চাষিরা বাহিরের ব্যাপারীদের সাথে যোগাযোগ করে লেবু বিক্রি করলে ভালো দাম পেতে পারেন। 

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://www.dailyvorerpata.com/ad/dd.jpg
http://dailyvorerpata.com/ad/apon.jpg
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]