সোমবার ২৮ নভেম্বর ২০২২ ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

শিরোনাম: প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ফল ১৪ ডিসেম্বর    বিএনপির সমাবেশকে ঘিরে পরিবহন ধর্মঘট না ডাকার আহ্বান কাদেরের    শতভাগ পাস ২৯৭৫ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, ৫০টিতে সবাই ফেল    সংঘাত-দুর্যোগের সময় নারীদের দুর্দশা বহুগুণ বেড়ে যায়: প্রধানমন্ত্রী    এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেলো ২ লাখ ৬৯ হাজার শিক্ষার্থী    এসএসসি ও সমমানে পাসের হার ৮৭.৪৪ শতাংশ    এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
রোহিঙ্গা সংকট, দেশি-বিদেশী ষড়যন্ত্র
এইচ রহমান মিলু
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ৩:৩০ এএম | অনলাইন সংস্করণ

২০১৭ সাল, আগস্টের শেষের দিকে টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে শুরু করে ১২ লাখ রোহিঙ্গা নর-নারী ও শিশু।কিন্তু হুট করে এতো রোহিঙ্গা কেন তাদের ভিটে মাটি ছেড়ে বাংলাদেশে এলো ? হঠাৎ করে কি পরিস্থিতি সেখানে তৈরী হয়েছিলো ?

সে সময়ে মিয়ানমারের সরকার দাবি করেছিলো, রাখাইন রাজ্যে দেড়শোর মতো রোহিঙ্গা মুসলিম জঙ্গি এক যোগে বিভিন্ন পুলিশ স্টেশন, সীমান্ত ফাঁড়ি এবং সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিলো যার ফলে অন্তত ৭০ জন নিহত হয়েছে এবং খোদ মিয়ানমারের নেত্রী অন সান সু চির অফিস থেকে বলা হয়, নিহতদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ জন সদস্য ছিলো।

এর ফলে বা এই অযুহাতে মিয়ানমার সেনা রোহিঙ্গাদের উপরে নির্মম নির্যাতন শুরু করে, জোর করে তাদের বাংলাদেশের সীমান্তে ঠেলে এনে অবস্থান করায় এবং সেই সময়ে বাংলাদেশের একটি গোষ্ঠি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিভিন্য রোমহর্ষক মিথ্যা গুজব ছড়ায় যার ফলে এদেশের মুসলমানদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও অসোন্তোষের সৃস্টি হয়।

এই ঘটনা কখন ঘটলো ? বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের ঠিক এক বছর কয়েক মাস পূর্বে।

বর্তমানে আগস্ট মাস শেষ হতে না হতেই কয়েকদিন ধরে মিয়ানমার বাংলাদেশ সীমান্তে পূনরায় গোলযোগ শুরু হয়েছে। আরসা ও আরকান জঙ্গী গোষ্ঠির  সাথে জান্তা সরকারের কথিত যুদ্ধ চলছে এমন বরাত দিয়ে মিয়ানমার সেনা ইতিমধ্যে বাংলাদেশের সীমান্তে মর্টার নিক্ষেপ করেছে এবং সীমানা ঘেষে উস্কানীমূলক সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।২০১৭ সালের মতোই সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে মায়ানমার হেলিকপ্টার মহড়া দিচ্ছে, যা বাংলাদেশকে যুদ্ধে জড়াবার একটি স্পস্ট উস্কানী।

একটু খেয়াল করে যদি দেখি তবে বর্তমান সময়টাও বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের ঠিক এক বছর কয়েক মাস আগে। অর্থাৎ পরপর দুবার রোহিঙ্গা ইস্যুতে মায়ানমার সরকার বাংলাদেশের সাথে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরীতে সময়টা বেছে নিয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন যখন সন্নিকটে।

এখন প্রশ্ন কি জাগেনা, রোহিঙ্গা সংকট মূলত বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সরকারের বিরুদ্ধে দেশী ও বিদেশি ষড়যন্ত্রের একটি প্যাকেজ কি না ?

নয়তো শুধু বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের সময়টায় সেই একই মাসে কেন মিয়ানমার সীমান্তে অরাজকতা ও যুদ্ধাবস্থা তৈরী হয়?

এখন একটু দেখি মিয়ানমার সরকারের প্রধান বন্ধু কে বা কারা?

আমরা সবাই জানি মিয়ানমার জান্তা সরকার চীন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত বা চীন মিয়ানমারের সবচেয়ে বড় বন্ধু রাস্ট্র।চীনের অতি ঘনিস্ট বন্ধু রাস্ট্র পাকিস্তান। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে চীন সরাসরি পাকিস্তানকে সকল সামরিক সহায়তা দিয়েছিলো এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে চীনের শক্ত অবস্থান ছিলো।

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জঙ্গী গোষ্ঠি “আরসা” মূলত পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই দ্বারা পরিচালিত এবং নিয়ন্ত্রিত। এদের সকল অস্ত্র চীনের তৈরী যা আইএসআইয়ের মাধ্যমে আরসা,র হাতে পৌছায়। 

প্রশ্ন জাগতে পারে, তাহলে কি পাকিস্তান এক্ষেত্রে মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে কাজ করে মূলত চীনের বিরুদ্ধে কাজ করছে না ? উত্তর হলো “না”। প্রতিটি বিষয়ই চীনের সম্মতিতেই করছে পাকিস্তান, অনেকটা বৃটিশদের মতো ডিভাইড এণ্ড রুল পলিসি। অর্থাৎ চীন সরাসরি মিয়ানমার জান্তা সরকারকে অস্ত্র বিক্রি করছে আবার আইএসআইয়ের মাধ্যমে “আরসা”র কাছেও তাদের তৈরী অস্ত্র বিক্রি করছে। চমৎকার চেক আ্যণ্ড ব্যালান্স হয়তো একেই বলে।

তাহলে একটি প্রশ্ন তো উঠতেই পারে, এখানে বাংলাদেশের সম্পর্ক কি? কেনই বা জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে এই ঘটনা ঘটছে?

সম্পর্কটা খুব যৌক্তিক, যার নাম ১৯৭১। পাকিস্তান সেদিন বাংলাদেশের কাছে একা হারেনি, হেরেছিলো চীন। যেহেতু মুক্তিযুদ্ধটা বঙ্গবন্ধুর সমগ্র জীবনের সংগ্রামের একটি ফলাফল ছিলো এবং বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এবং নেতৃত্বে ছিলো তাই স্বাভাবিকভাবেই পাকিস্তান সরকারের সবচেয়ে অপছন্দের তালিকায় থাকবে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সরকার এটাই সাইন্স।

বাংলাদেশে থাকা পাকিস্তানের আদর্শিক সন্তান জামাত এবং বিএনপি বরাবরই পাকিস্তানের প্রথম পছন্দ এবং একারনেই নির্বাচন ঘনিয়ে এলে আইএসআই এর মাধ্যমে বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তে এহেন ঘটনা ঘটাচ্ছে যাতে করে আওয়ামীলীগ সরকার চাপে পড়ে কোন একটি ভূল করে বসে যা পরবর্তি নির্বাচনে পরাজয়ের বড় কারন হতে পারে।

যেমনটি ২০১৭ সালে সরকার ক্ষমতা হারাতো যদি সীমান্তে জড়ো হওয়া ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি না দিতেন।

সেবার রোহিঙ্গা প্রবেশের পর রাজাকার সাইদীর পূত্র শামীম সাইদি সহ জামাতের বিভিন্য এনজিওকে আমরা দেখেছিলাম রোহিঙ্গাদের সাথে বৈঠক করতে এবং তাদেরকে ব্যবহার করে দেশে অরাজকতা সৃস্টির অপচেস্টায় লিপ্ত থাকতে।



দক্ষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই যাত্রায় সবকিছু সঠিকভাবে সামলে নিয়েছিলেন বলেই নির্বাচনে ব্যাপক জয়লাভ করে পূনরায় সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

এবারও সেই অপচেস্টা, ষড়যন্ত্র, আবারও সেই পরিস্থিতি তৈরির তোরজোর, আবারও আওয়ামীলীগ সরকারের একটু ভূল সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় দেশি-বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীরা।

আশা করি এবং বিশ্বাস করি এবারও সফল হবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সফল হবে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ তিরিশ লাখ শহীদের রক্তের উত্তরাধিকারী বীর বাঙালী।

লেখক: কলামিস্ট ও অনলাইন আ্যক্টিভিস্ট

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://www.dailyvorerpata.com/ad/dd.jpg
http://dailyvorerpata.com/ad/apon.jpg
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]