সোমবার ২৮ নভেম্বর ২০২২ ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

শিরোনাম: শতভাগ পাস ২৯৭৫ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, ৫০টিতে সবাই ফেল    সংঘাত-দুর্যোগের সময় নারীদের দুর্দশা বহুগুণ বেড়ে যায়: প্রধানমন্ত্রী    এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেলো ২ লাখ ৬৯ হাজার শিক্ষার্থী    এসএসসি ও সমমানে পাসের হার ৮৭.৪৪ শতাংশ    এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ    বিশ্বে একদিনে করোনায় আক্রান্ত সাড়ে ২ লাখ    এসএসসির ফল জানা যাবে যেভাবে   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদে প্রশ্নবিব্ধ পদোন্নতি
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ৭:৩৪ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

সুজন বড়ুয়া, উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর নাইক্ষ্যংছড়ি। তবে তাকে পদোন্নতি দিয়ে বানিয়ে দেওয়া হলো জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর বান্দরবান। ক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও এভাবে জেলা-উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর পদে একের পর এক পদোন্নতি দিয়ে যাচ্ছে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ ও জেলার সিভিল সার্জন। আর এতে একদিকে অবৈধভাবে পদোন্নতি পাওয়া জেলা-উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টরগণ সরকারি কোষাগার থেকে লুটে নিচ্ছেন অতিরিক্ত অর্থ এবং ভোগ করছেন অধিক ক্ষমতা। অন্যদিকে স্বাস্থ্য বিভাগের মাঠ প্রশাসনেও দেখা দিয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৫ সালের ৬ জানুয়ারি বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদে স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির সভায় এক জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও দুই উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের পদোন্নতি দেওয়া হয়। এরমধ্যে “নিজ বেতনে জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের দায়িত্বে থাকা উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর সুজন বড়ুয়াকে পদোন্নতি দেওয়া হয় জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর পদে। একই আদেশে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত পারভীন সুলতানা ও আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত স্বাস্থ্য সহকারী আসাদুজ্জামানকে উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর পদে নিয়োগ ও পদোন্নতি দেওয়ার ক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও  জেলার সিভিল সার্জন ডাঃ উদয় শংকর চাকমা দেশের সংবিধান ও প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে জেলায় নিজ বেতনে কর্মরত থাকা সুজন বড়ুয়াকে জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি প্রদান করেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আইন বিভাগ সূত্রে জানাযায়, জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর পদটি দ্বিতীয় শ্রেণি ও দশম গ্রেডের পদ। আর এই পদে পদোন্নতি দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে একমাত্র স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের। তবে জেলার সিভিল সার্জন ডাঃ উদয় শংকর চাকমা বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নিকট বিষয়টি গোপন রেখে এবং নিজেদের প্রশাসনিক ক্ষমতার বাহিরে গিয়ে অবৈধভাবে জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর পদে সুজন বড়ুয়াকে পদোন্নতি প্রদান করেছেন।

তথ্যানুসন্ধানে জানাগেছে, যৌন নিপীড়নসহ বিভিন্ন প্রকার হয়রানির বিষয়ে ২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবরে জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর সুজন বড়ুয়ার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন উপজাতিয় এক নারী স্যানিটারি ইন্সপেক্টর। এ অভিযোগের একদিন পরই (২৯ ডিসেম্বর) জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অভিযুক্ত সুজন বড়ুয়াকে সাময়িক বরখাস্ত ও তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়েরের জন্য বান্দরবানের সিভিল সার্জনকে নির্দেশ দেন। তবে এ নির্দেশের এগারদিন পর সুজন বড়ুয়ার বিরুদ্ধে ১০ জানুয়ারি ২০১৭ বিভাগীয় মামলা এবং প্রায় একমাস পর ২৬ জানুয়ারি ২০১৭ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন জেলার সিভিল সার্জন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের এই নির্দেশের পরই জেলার সিভিল সার্জন অভিযুক্ত সুজন বড়ুয়ার পক্ষ হয়ে অভিযোগকারী নারী স্যানিটারি ইন্সপেক্টরকে তদন্তের নামে মানসিক হয়রানি শুরু করেন। আর এর কারণে তদন্তের নামে সিভিল সার্জনের মানসিক হয়রানি থেকে রক্ষাপেতে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবরে ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ আরেকটি লিখিত অভিযোগ করেন। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ অভিযোগ পেয়ে ওইদিনই জেলার সিভিল সার্জনকে কারণ দর্শানোর পত্র দেন।

তবে এই কারণ দর্শানো নোটিশে অভিযোগকারী নারী স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের উপর চরমক্ষিপ্ত হন সিভিল সার্জন ডাঃ উদয় শংকর চাকমা। এ সময় সজুন বড়ুয়াকে পার্বত্য জেলা পরিষদের আওতার বাহিরে বদলী হয়ে চলে যাওয়ার জন্য গোপনে সব আয়োজন করেন তিনি। এরমধ্যে জেলার সিভিল সার্জন থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মংটিংঞোকে নারী স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের দায়েরকৃত যৌন নিপীড়নের অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব দেন ১৫ ফেব্রুয়ারি। তদন্ত চলাকালিন সময়েই সুজন বড়ুয়া বান্দরবানের সিভিল সার্জনের ছাড়পত্র নিয়ে ফেনী জেলায় পাড়ি জমান। সুজন চলে যাওয়ার একদিন পর অর্থাৎ ২০ ফেব্রুয়ারি সিভিল সার্জন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কারণ দর্শানো পত্রের জবাব দেন।

সিভিল সার্জন ডাঃ উদয় শংকর চাকমা তার জবাবে উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশের সংবিধানের ১৩৫ অনুচ্ছেদে- প্রজাতন্ত্রের কর্মে অসামরিক পদে নিযুক্ত কোনো ব্যক্তি তার নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ অপেক্ষা অধস্থন কর্তৃপক্ষ দ্বারা বরখাস্ত বা অপসারিত বা পদাবনিত হবেন না”। “অনুরূপ কোনো পদে নিযুক্ত ব্যক্তিকে তার সম্পর্কে প্রাসঙ্গিক ব্যবস্থা গ্রহণের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর যুক্তি সংগত সুযোগদান না করা পর্যন্ত তাকে বরখাস্ত বা অপসারণ বা পদাবনিতও করা যাবে না”।



তবে নাম প্রকাশ না করা শর্তে বান্দরবান সিভিল সার্জন কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ হতে অধস্থন কর্তৃপক্ষ বলে সুজনের নারী নিপীড়নের ঘটনায় সাময়িক বরখাস্তের আদেশ গোপনে বাতিল করে জেলা পরিষদের আওতার বাহিরে চলে যাওয়ার সুযোগ করে দিলেও একই ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠান ক্ষমতার অপব্যবহার করে জেলা স্যানিটারী ইন্সপেক্টর পদে অবৈধভাবে প্রদানকৃত পদোন্নতির আদেশটি বাতিল করেনি। আর এ সুযোগ নিয়ে প্রায় সাত বছর যাবৎ সুজন বড়ুয়া সরকারের অধিক অর্থ এবং ক্ষমতা ভোগ করছে। যা নিয়ে মাঠ প্রশাসনের সহকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে বান্দরবানের সাবেক সিভিল সার্জন ডাঃ উদয় শংকর চাকমা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বর্তমান সিভিল সার্জন ডাঃ নীহার রঞ্জন নন্দী বলেন, যেহতু বিষয়টি আমার সময়ের না, অনেক আগের। তা ছাড়া এ সম্প্রর্কে এখন কোনো দলিলপত্র পাওয়া যাচ্ছে না। তাই আমি এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারছি না।

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম কাউছার হোসেন বলেন, নারী নিপীড়নে অভিযুক্ত সুজন বড়ুয়া যেহেতু বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের আওতার বাহিরে চলে গেছেন, এক্ষেত্রে কিছু করার ছিলো না। সুজন বড়ুয়াকে উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর থেকে জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতির বিষয়ে তিনি বলেন, জেলা পরিষদ দশম গ্রেডে কাউকে পদোন্নতি দিতে পারে না, তবে সুজন বড়ুয়াকে কিভাবে দিলো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে। এই ব্যাপারে সিভিল সার্জন জবাবদিহিতা করবেন। 

বান্দরবান জজকোর্টের তরুন আইনজীবী মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, সংবিধানের যে ১৩৫ নং অনুচ্ছেদের আলোকে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ অপেক্ষা অধস্থন কর্তৃপক্ষ দ্বারা বরখাস্ত, অপসারণ বা পদাবনিত করা যাবে না” সেই আইন অনুযায়ি সিভিল সার্জন বা জেলা পরিষদ উক্তপদে কাউকে পদোন্নতিও দিতে পারেন না। যদি কাউকে এধরণের পদোন্নতি দিয়ে থাকেন তা অবৈধ এবং ক্ষমতার অপ-ব্যবহার এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধে অপরাধি হিসেবে গন্য হবে।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://www.dailyvorerpata.com/ad/dd.jpg
http://dailyvorerpata.com/ad/apon.jpg
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]