সোমবার ২৮ নভেম্বর ২০২২ ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

শিরোনাম: বিএনপির সমাবেশকে ঘিরে পরিবহন ধর্মঘট না ডাকার আহ্বান কাদেরের    শতভাগ পাস ২৯৭৫ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, ৫০টিতে সবাই ফেল    সংঘাত-দুর্যোগের সময় নারীদের দুর্দশা বহুগুণ বেড়ে যায়: প্রধানমন্ত্রী    এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেলো ২ লাখ ৬৯ হাজার শিক্ষার্থী    এসএসসি ও সমমানে পাসের হার ৮৭.৪৪ শতাংশ    এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ    বিশ্বে একদিনে করোনায় আক্রান্ত সাড়ে ২ লাখ   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
আবারও কর্মচঞ্চল জীবনে ফিরল চা শ্রমিকরা, প্রাণ পেল বাগানগুলো
মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ২৯ আগস্ট, ২০২২, ৭:৩২ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

টানা ১৯ দিন আন্দোলনের পর চা শ্রমিকদের মজুরি ১৭০ টাকা নির্ধারিত হওয়ায় মৌলভীবাজার জেলার ৯২টি চা বাগানে পুরোদমে কাজ শুরু করেছেন শ্রমিকেরা। সোমবার (২৯ আগস্ট) সকাল থেকেই জেলার বাগানগুলোতে কাজে যোগ দিয়ে পাতা উত্তোলন শুরু করেন তারা। এতে আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে মৌলভীবাজার জেলার সব চা বাগানগুলো। 



রোববার চা বাগান ছুটির দিনে অনেক চা বাগানের শ্রমিকরা কাজে যুগ না দিলেও আজ সোমবার থেকে পুরোদমে কাজে যোগ দিয়েছেন তাঁরা। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালীঘাট চা বাগান, রাজঘাট চা বাগান, খেজুরিছড়া চা বাগানসহ এ জেলার ৯২টি চা বাগানেই সকাল থেকেই শ্রমিকদের কাজ করতে দেখা গেছে। চা শ্রমিকদের টানা আন্দোলনে একদিন চা পাতা না তোলায় চাগাছ গুলো বেশ বড় ও শক্ত হয়ে গেছে। তাই শ্রমিকরা এখন যে পাতাগুলো তুলা সম্ভব তাই আগে উত্তোলন করে কারখানায় পাঠাচ্ছেন।

চা বাগানে পাতা উত্তোলনের সময় নারী শ্রমিক রওসন রিকিয়াশন বলেন, এতদিন পরে বাগানে ফিরে খুব ভালো লাগছে। তবে পাতার অবস্থা দেখে খুব কষ্ট হচ্ছে। যে পাতা গুলো আড়াই কুড়ি হলে তোলা হয় সেই পাতায় এখন ২০ থেকে ২২ কুড়ি হয়েছে। এখন যেগুলো বয়স বেশি হয়েছে ওই পাতাগুলো ফেলে দিতে হবে। তিনি বলেন, এই চা পাতার সাথে আমাদের ভালোবাসা আর আবেগ জরিয়ে আছে। বাংলাদেশের চা শিল্প ঠিকিয়ে রাখাটা আমাদের জরুরি। যেহেতু এখন চায়ের ভরা মৌসুম আমরা একটু কষ্ট হলেও দ্রুত পাতা উত্তোলনের চেষ্টা করবো, আর প্রধাননমন্ত্রীর কাছে আমরা কৃতজ্ঞ, তিনি এমন উদ্যোগ না নিলে এখনও আন্দোলন শেষ হতো না।

কালীঘাট চা বাগানের প ায়েত সভাপতি অভান তাঁতী বলেন, গতকাল ছুটির দিন থাকায় তাঁদের চা বাগানসহ অনেক চা বাগানেই কাজ হয়নি। আজ সকাল থেকে শ্রমিকেরা চা বাগানের কাজে যুক্ত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা আন্দোলন চলাকালে কারও কথায় বিশ্বাস করিনি একমাত্র প্রধানমন্ত্রী ছাড়া। প্রধানমন্ত্রীও আমাদের নিরাশ করেননি।’
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বালিশিরা ভ্যালি সভাপতি বিজয় হাজরা বলেন, প্রধামন্ত্রীর ঘোষণার পর গতকাল চা বাগানের কিছু চা শ্রমিকেরা কাজে নেমেছিলেন। তবে রোববার চা বাগানে ছুটির দিন থাকায় সব শ্রমিকেরা কাজে না গেলেও আজ দেশের প্রতিটি চা বাগানে পুরোদমে কাজ চলছে। 

প্রসঙ্গত, দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করার দাবিতে ১৩ আগস্ট থেকে সিলেট ভ্যালির ২৩টি, হবিগঞ্জের ২৪টি এবং মৌলভীবাজারের ৯২টি বাগানসহ মোট ২৪১টি চা বাগানের শ্রমিকরা একযোগে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির আন্দোলন শুরু করেন। দাবি আদায়ে এর আগে ৯ আগস্ট থেকে সব চা বাগানে টানা চার দিন দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করা হয়। কিন্তু এতে সাড়া না মেলায় পরবর্তীতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ শুরু করেন চা শ্রমিকরা। পরে ১৯ আগস্ট রাতে মজুরি ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪৫ টাকা করার বিষয়ে একটি চুক্তি হলেও সেটি প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন চালিয়ে যান শ্রমিকরা। কয়েক দফা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক হলেও এ সমস্যার সমাধান হয়নি। মজুরি বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলনে থাকা শ্রমিকরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করতে থাকেন। অবশেষে প্রধানমন্ত্রী তাদের মজুরি ১৭০ টাকা নির্ধারণ করে দিলে কাজে ফেরেন তারা।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://www.dailyvorerpata.com/ad/dd.jpg
http://dailyvorerpata.com/ad/apon.jpg
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]