রোববার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১০ আশ্বিন ১৪২৯

শিরোনাম: অপার সম্ভাবনার বাংলাদেশ গড়েছেন শেখ হাসিনা    জাতীয় নির্বাচন: ভোট দিতে লাগবে ১০ আঙ্গুলের ছাপ    করোনায় আর ৪ জনের মৃত্যু    বিদায়বেলায় অঝোরে কাঁদলেন ফেদেরার, অশ্রুসিক্ত নাদালও    তালাবদ্ধ ঘরে পড়েছিল বৃদ্ধ দম্পতির হাত-মুখ বাঁধা লাশ    জমিতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে ২ কৃষকের মৃত্যু    চলন্ত ট্রেনে উঠতে গিয়ে প্রাণ গেল বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রের   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
বঙ্গবন্ধু হত্যার মদদদাতাদের খুঁজে বের করতে হবে
#বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্যের শক্তিকে চিহ্নিত করা উচিত: ড. শাহিনূর রহমান #বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে কুশীলবদের খুঁজে বের করতে হবে: উৎপল দাস
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ আগস্ট, ২০২২, ১০:২০ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

১৫ আগস্ট থেকে শুরু করে পুরো আগস্ট মাস জুড়ে রয়েছে ষড়যন্ত্রের অন্তরালে। বঙ্গবন্ধু জন্মেছিল বলেই আমরা স্বাধীনতা পেয়েছিলাম এবং স্বাধীন দেশে বসবাস করতে পেরেছি। কিন্তু সেই স্বাধীন দেশে তিনি বেশি দিন টিকতে পারেনি, এমনকি তাঁর পুরো পরিবারের প্রত্যেক সদস্য আমাদের স্বাধীনতার জন্য জীবনের শেষ বিন্দু পর্যন্ত লড়ে গিয়েছিলেন।  এই ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে কারা ছিল, কারা জড়িত ছিল, তাদের চিহ্নিত করা উচিৎ। 

দৈনিক ভোরের পাতার নিয়মিত আয়োজন ভোরের পাতা সংলাপের ৭৯৪তম পর্বে এসব কথা বলেন আলোচকরা। ভোরের পাতা সম্পাদক ও প্রকাশক ড. কাজী এরতেজা হাসানের নির্দেশনা ও পরিকল্পনায় অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়ার ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহিনূর রহমান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ভোরের পাতার বিশেষ প্রতিনিধি উৎপল দাস।

ড. শাহিনূর রহমান বলেন,  ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ছিল বৃষ্টিঝরা দিন। সেদিন শুধু বৃষ্টি নয়, ঝরেছিল জাতির জনকের রক্তবৃষ্টি। সেই থেকে প্রতি বছর এটি আমাদের ইতিহাসে একইসঙ্গেও বেদনার, হদয়ে রক্তক্ষরণের এবং কালো দিন। ১৫ আগস্ট থেকে শুরু করে পুরো আগস্ট মাস জুড়ে রয়েছে ষড়যন্ত্রের অন্তরালে। বঙ্গবন্ধু জন্মেছিল বলেই আমরা স্বাধীনতা পেয়েছিলাম এবং স্বাধীন দেশে বসবাস করতে পেরেছি। কিন্তু সেই স্বাধীন দেশে তিনি বেশি দিন টিকতে পারেনি, এমনকি তাঁর পুরো পরিবারের প্রত্যেক সদস্য আমাদের স্বাধীনতার জন্য জীবনের শেষ বিন্দু পর্যন্ত লড়ে গিয়েছিলেন। আজকে বঙ্গবন্ধু পরিবারের প্রায় সকল সদস্য আমাদের মাঝে নেই। সেই পরিবারের সদস্যদেরকে আমরা হারিয়েছিলাম ১৫ আগস্ট, কিছু বিদেশি ও দেশি কুলাঙ্গারদের জন্য। ৩৫ বছর পর ২০১০ সালে সেই বর্বর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত কয়েকজনকে ফাঁসি দেওয়া হয়। আদালতের রায়ে হত্যাকাণ্ডের পেছনের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ ছিল। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত উঠে আসেনি। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশগ্রহণকারীদের বিলম্ব হলেও বিচার হয়েছে। তবে ওই হত্যাকাণ্ডের পেছনের ষড়যন্ত্রকারী বা কুশীলবদের মুখোশ এখনো পুরোপুরি উন্মোচিত হয়নি। তাদেরও বিচার করার দাবি দীর্ঘদিনের। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার প্রধান ষড়যন্ত্রকারী জিয়াউর রহমান ও খন্দকার মোশতাক। তবে এর মূল সুবিধাভোগী ছিলেন জিয়াউর রহমান। জিয়াউর রহমান কখনোই মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না, যুদ্ধের সময় ছদ্মবেশী এজেন্ট হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান ছিলেন পাকিস্তানের এজেন্ট এবং এজেন্ট থেকেই এই দেশে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মেইন কুশীলব-চক্রান্তকারী হিসেবে উনি কাজ করে গেছেন। এই ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে কারা ছিল, কারা জড়িত ছিল, তাদের চিহ্নিত করা উচিত।

উৎপল দাস বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টে শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হন। ঘটনার প্রায় ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে দিনটিকে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালন  করে আসছে। কিন্তু ২০০২ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার এসে জাতীয় শোক দিবস পালন বাতিল করে। পরবর্তীতে হাইকোর্টের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান সরকার ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস হিসাবে পুনর্বহাল করে। তারপর থেকে দিনটি যথাযথ মর্যাদার সাথে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। সদ্য স্বাধীন ও নবীন রাষ্ট্র বাংলাদেশকে অকার্যকর ও ভণ্ডুল করার লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সপরিবারে জাতির পিতাকে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ড ছিল একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় যে পাকিস্তান এবং পৃষ্ঠপোষকরা পরাজিত হয়েছিল, তাদের পরাজয়ের চরম প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল। এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল বাংলাদেশের  স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে হত্যার জন্য। এই বাংলাদেশকে আবারও পরাধীন রাষ্ট্র তৈরি করার জন্যই। এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত সাবেক সেনাসদস্যদের বিচার হলেও এর পেছনের রাজনীতি এবং ষড়যন্ত্রের বিষয়ে এখনো তদন্ত অপেক্ষাধীন। সামরিক বাহিনীর বিপথগামী কিছু অফিসার ও সৈনিকই শুধু এই ন্যক্কারজনক হত্যাকাণ্ড ঘটায়নি। এর পেছনে অনেক বড় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র কাজ করেছে।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://dailyvorerpata.com/ad/apon.jpg
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]