শনিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ ৯ আশ্বিন ১৪২৯

শিরোনাম: জাতীয় নির্বাচন: ভোট দিতে লাগবে ১০ আঙ্গুলের ছাপ    করোনায় আর ৪ জনের মৃত্যু    বিদায়বেলায় অঝোরে কাঁদলেন ফেদেরার, অশ্রুসিক্ত নাদালও    তালাবদ্ধ ঘরে পড়েছিল বৃদ্ধ দম্পতির হাত-মুখ বাঁধা লাশ    জমিতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে ২ কৃষকের মৃত্যু    চলন্ত ট্রেনে উঠতে গিয়ে প্রাণ গেল বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রের    পর্যটকদের জন্য দুয়ার খুললো ভুটান   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ অভিন্ন সত্তা
#বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে: ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ। #বঙ্গবন্ধু হত্যার অন্তরালে যারা কলকাঠি নেড়েছে তাদের বিচার করা উচিত: কর্ণেল (অব.) কাজী শরীফ উদ্দীন।
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ আগস্ট, ২০২২, ১১:০৩ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তাঁর পরিবারের সদস্যদের যে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে এটি বাংলাদেশকে হাজার বছর পিছিয়ে দিয়েছে। পঁচাত্তরের আগস্টের ১৫ তারিখ তাকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে বাঙালি জাতিকে দাবিয়ে রাখার ষড়যন্ত্র হলেও সেটা যে কার্যত সফল হয়নি, তার বড় প্রমাণ আজকের বাংলাদেশ। তাকে আমরা হারিয়েছি। কিন্তু তাঁর আদর্শকে আমরা হারায়নি। 

দৈনিক ভোরের পাতার নিয়মিত আয়োজন ভোরের পাতা সংলাপের ৭৯৩তম পর্বে এসব কথা বলেন আলোচকরা। ভোরের পাতা সম্পাদক ও প্রকাশক ড. কাজী এরতেজা হাসানের নির্দেশনা ও পরিকল্পনায় অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক, জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ পরিষদের (জানিপপ) চেয়ারম্যান ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ,  বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক কর্নেল (অব.) কাজী শরীফ উদ্দীন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ভোরের পাতার বিশেষ প্রতিনিধি উৎপল দাস।

ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ বলেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তাঁর পরিবারের সদস্যদের যে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে এটি বাংলাদেশকে হাজার বছর পিছিয়ে দিয়েছে। এই হত্যাকাণ্ড যদি সংগঠিত না হতো তাহলে আমরা বঙ্গবন্ধুকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আরও অনেক দিন ক্রিয়াশীল দেখতে পেতাম এবং তার মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর বিশাল নেতৃত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশাল মাইলফলক অর্জন করতে সক্ষম হতো। ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড এবং সরকার উৎখাতের অভ্যুত্থান ছিল সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র ও গভীর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রথম পদক্ষেপ। মূলত, আন্তর্জাতিক একটি গোষ্ঠী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা এবং বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে গঠিত রাষ্ট্র পরিকল্পনা মোটেও গ্রহণ করতে পারছিল না। বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন আধুনিক, অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা যেখানে জাতিধর্ম-নির্বিশেষে মানুষ নাগরিকতার পরিচয়ে সমানাধিকার লাভ করবে, অর্থনৈতিক শোষণ ও বৈষম্য থেকে মুক্ত থাকবে।  কিন্তু তার এই পরিণতির জন্য যারা দায়ী তারা ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিল দলের ভেতরে থেকে, দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে। তারা ষড়যন্ত্রের জ্বাল বুনেছিল সেদিন। আজকে দাবি উঠেছে তারই সুযোগ্য কন্যা জনননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে একটি কমিশন গঠন করে তাদেরকে খুঁজে বের করে আনার জন্য। এটা এখন সময়ের দাবি। এই যে বেনিফিসেড গোষ্ঠী এদেরকেও আমাদের চিহ্নিত করতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে এদেরই একটি অংশ শাসকদলে থেকে আরেকটি ১৫ আগস্ট ঘটাবে না এটা হলফ করে বলা যাবে না। সুতরাং আমাদের সময় এসেছে সতর্ক হবার।

অধ্যাপক কর্ণেল (অব.) কাজী শরীফ উদ্দীন বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আর বাংলাদেশ এক ও অভিন্ন। তাঁর জন্ম না হলে আমরা বীরের জাতি হিসেবে পরিচয় দিতে পারতাম না। বাংলাদেশের জন্মের সাথে তাঁর সংগ্রামী চেতনা ও বাঙালি জাতীয়তাবোধ সেই  ছোটবেলা থেকেই দেখেছি। বঙ্গবন্ধুর জীবন পাঠ করলে আমরা দেখতে পাই, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর অবদান অনস্বীকার্য। বাঙালিকে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বেই আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি বলেই তিনি জাতির পিতা। পৃথিবীতে এমন মহামানবের জন্ম হয় ক্ষণকালেই।  যে মানুষটি জীবনের মাত্র ৫৫ বছর বয়সে আমাদের দেশের জন্য যা করে গিয়েছিলেন বাঙালির ইতিহাসে তা আজও কেউ করে যেতে পারেনি। শেখ মুজিব থেকে বঙ্গবন্ধু, বঙ্গবন্ধু থেকে জাতির পিতা হয়েছেন তিনি। তাই আবারো গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবসহ ৭৫-এর ১৫ আগস্টে ঘাতকের নির্মম বুলেটে নিহত সকল শহীদদের। ঘাতকরা ভেবেছিল জাতির পিতাকে হত্যা করলেই তার নাম মুছে ফেলা যাবে এই বাংলায়। কিন্তু তারা বোঝেনি বঙ্গবন্ধুর আরেক নাম বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ভেতর দিয়ে বাংলাদেশ প্রত্যাশিত যাত্রা থেকে বিচ্যুত হতে বাধ্য হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু সবাইকেই ভালোবাসতেন। কিন্তু যারা তাকে ভালোবাসতে জানে নাই তারা আমাদের মধ্যেই লুকিয়ে ছিল।  পঁচাত্তরের আগস্টের ১৫ তারিখ তাকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে বাঙালি জাতিকে দাবিয়ে রাখার ষড়যন্ত্র হলেও সেটা যে কার্যত সফল হয়নি, তার বড় প্রমাণ আজকের বাংলাদেশ। তাকে আমরা হারিয়েছি। কিন্তু তাঁর আদর্শকে আমরা হারায়নি।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://dailyvorerpata.com/ad/apon.jpg
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]