শনিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ ৯ আশ্বিন ১৪২৯

শিরোনাম: জাতীয় নির্বাচন: ভোট দিতে লাগবে ১০ আঙ্গুলের ছাপ    করোনায় আর ৪ জনের মৃত্যু    বিদায়বেলায় অঝোরে কাঁদলেন ফেদেরার, অশ্রুসিক্ত নাদালও    তালাবদ্ধ ঘরে পড়েছিল বৃদ্ধ দম্পতির হাত-মুখ বাঁধা লাশ    জমিতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে ২ কৃষকের মৃত্যু    চলন্ত ট্রেনে উঠতে গিয়ে প্রাণ গেল বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রের    পর্যটকদের জন্য দুয়ার খুললো ভুটান   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
পতাকা অবমাননা করেননি বেরোবির শিক্ষক-কর্মকর্তারা, মামলা থেকে অব্যাহতি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ আগস্ট, ২০২২, ৯:৪৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

জাতীয় পতাকা অবমাননা করার মতো কোনো উপাদান না থাকায় এ বিষয়ে দায়ের করা মামলা থেকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯ শিক্ষক-কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দিয়েছেন করেছেন আদালত। গত ২৫ জুলাই রংপুরের অতিরিক্ত জেলা বিচারক মো. তারিখ হোসেন ওই শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গঠিত চার্জ বাতিল করে মামলা হতে তাদের অব্যাহতি দেন। 


জানা যায়, ২০২০ সালের ১৬ ডিসেম্বর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু সংখ্যক শিক্ষক-কর্মকর্তা জাতীয় পতাকাসদৃশ ব্যানার হাতে স্বাধীনতা স্মারক চত্বরে ছবি তোলেন।

উক্ত ছবি গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক মাহামুদুল হক তার ফেসবুকে পোস্ট করে ভাইরাল করলে দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ এর ১৭ ডিসেম্বর রংপুর মহানগরীর তাজহাট থানায় মাহামুদুল হক, গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আরিফুল ইসলাম জিডি করেন।

এরপর রংপুর মেট্রোপলিটন আদালত-৩ এটি এনজিআর মামলা হিসেবে রেকর্ড করেন এবং গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখে বিভিন্ন বিভাগের ১৮ জন শিক্ষক ও এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন। উক্ত শিক্ষক কর্মকর্তারা হলেন, গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. আর এম হাফিজুর রহমান, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোরশেদ হোসেন, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. পরিমল চন্দ্র বর্মণ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাবিউর রহমান প্রধান ও প্রভাষক মো. রহমতুল্লাহ, ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. নুর আলম সিদ্দিক, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. ছদরুল ইসলাম সরকার, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক প্রদীপ কুমার সরকার, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান ও প্রভাষক আবু সায়েদ, পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. শাহজামান, ড. মো. রশীদুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক চালর্স ডারউইন ও কর্মকর্তা শুভংকর চন্দ্র সরকার, মার্কেটিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মাসুদ-উল-হাসান,  ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের প্রভাষক সোহাত আলী, রসায়ন বিভাগের প্রভাষক মোস্তফা কাইউম শারাফাত, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাম প্রসাদ বর্মণ এবং ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক প্রভাষক মো. শামীম হোসেন।



বিচারিক আদালতের গঠন করা চার্জ চ্যালেঞ্জ করে অভিযুক্ত শিক্ষক-কর্মকর্তার পক্ষ থেকে রংপুর জজকোর্টে রিভিশন মামলা দায়ের করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্র ওই ফৌজাদারি  মামলার বাদী হলেও বেরোবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক মাহামুদুল হক এবং গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মশিউর রহমান মামলায় পক্ষ হওয়ার জন্য আবেদন করেন। রংপুর জেলা জজ তাদের আবেদন নামঞ্জুর করলে তারা এ বিষয়ে হাইকোর্টে মামলা করেন এবং সেখানেও পরপর দুটি বেঞ্চ তাদের আবেদন নামঞ্জুর করেন। এর ফলে দীর্ঘদিন রিভিশন মামলার শুনানি ব্যাহত হয়।

এরপর গত ২৫ জুলাই দীর্ঘ শুনানি শেষে বিচারিক আদালতের চার্জশিট বাতিল করে মামলা থেকে আসামিদের অব্যাহতি দেন রংপুর জজকোর্টের ২য় আদালতের জজ মো. তারিখ হোসেন। রায়ে জজ উল্লেখ করেন, মামলার নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আসামিগণ ইচ্ছাকৃতভাবে জাতীয় পতাকা অবমাননা করেননি। তারা ব্যানার আকারে জাতীয় পতাকার অনুরূপ ব্যানার ব্যবহার করেছিলেন। তারা সরাসরি বিকৃত করে জাতীয় পতাকা কোনো অফিস বা প্রতিষ্ঠানে ব্যবহার করেননি। এছাড়াও আসামিগণকে স্বাধীনতাবিরোধী দলের সমর্থক মর্মে জিডিতে উল্লেখ করা হলেও প্রসিকিউশন রিপোর্টে তা পাওয়া যায় না। বরং আসামিদের সকলেই সরকার দলীয় (স্বাধীনতার পক্ষের) শিক্ষক দলের সমর্থক। কাজেই তারা ইচ্ছাকৃতভাবে জাতীয় পতাকা অবমাননা করেছেন বলে বিশ্বাস করা যায় না। এছাড়াও আসামিগণ ফেসবুক ফ্রেন্ডদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন যে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে জাতীয় পতাকা অবমাননা করেননি।

বিচারক রায়ে আরো বলেন, ফৌজদারী অপরাধের প্রাথমিক ও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে 'মিনস রিয়া (আসল উদ্দেশ্য)'। কিন্তু আসামিদের ফেসবুক স্ট্যাটাস ও পরবর্তী আচরণ হতে প্রতীয়মান হয় যে, জাতীয় পতাকা অবমাননা করার ইচ্ছা ও অভিপ্রায়ে তারা জাতীয় পতাকা নয়, বরং ব্যানারে জাতীয় পতাকার অনুরূপ আকৃতি ব্যবহার করেছিলেন।

রংপুরের অতিরিক্ত জেলা জজ মামলার পূর্বাপর আদেশ পর্যালোচনা করে আসামিপক্ষের আইনজীবীর উদ্বৃতি দিয়ে আরো জানান, বাংলাদেশের শিক্ষকদের নোংরা রাজনীতির কুশীলব হিসেবে জনাব মাহামুদুল হক থানা পুলিশ ও বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলকে প্রভাবিত করে আসামিগণকে পদোন্নতি হতে বিরত করার অসৎ অভিপ্রায়ে অতিউৎসাহী হয়ে আসামিগণকে হয়রানি করার জন্য মাহামান্য হাইকোর্ট ডিভিশনে মামলা করেছিলেন এবং অত্র মামলায় ব্যক্তিগত আইনজীবী নিয়োগ করে রিভিশনকারীদের রিভিশন মামলা মঞ্জুর না হওয়ার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://dailyvorerpata.com/ad/apon.jpg
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]