শনিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ ৯ আশ্বিন ১৪২৯

শিরোনাম: অপার সম্ভাবনার বাংলাদেশ গড়েছেন শেখ হাসিনা    জাতীয় নির্বাচন: ভোট দিতে লাগবে ১০ আঙ্গুলের ছাপ    করোনায় আর ৪ জনের মৃত্যু    বিদায়বেলায় অঝোরে কাঁদলেন ফেদেরার, অশ্রুসিক্ত নাদালও    তালাবদ্ধ ঘরে পড়েছিল বৃদ্ধ দম্পতির হাত-মুখ বাঁধা লাশ    জমিতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে ২ কৃষকের মৃত্যু    চলন্ত ট্রেনে উঠতে গিয়ে প্রাণ গেল বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রের   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ১০৮ বছর বয়সী ঐতিহ্যবাহী মমিন মসজিদ
পিরোজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ৩০ জুলাই, ২০২২, ৮:২৪ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

শতবর্ষী ও দক্ষিণ এশিয়ার ঐতিহ্যবাহী পুরাকির্তীর নিদর্শন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার ১০৮ বছর বয়সী মমিন মসজিদ এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। কাঠের তৈরি মসজিদটির রক্ষণাবেক্ষণ বা সংস্কারের জন্য সরকারি ভাবে নেই তেমন কোনো উদ্যোগ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মসজিদের রুগ্নরূপ। মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা পরিবারসহ স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে চরম ক্ষোভ রয়েছে।  

মসজিদের ভেতরে দেখা গেছে, এর পাটাতনের কয়েকটি তক্তা নেই। বেড়ার বিভিন্ন অংশ নষ্ট হয়ে গেছে। পানিতে নষ্ট হয়ে এর চৌকাট খসে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ছোট করে টিনের পাত কেটে কোনোরকম ওই সব চৌকাটে জোড়াতালি দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে।

সৌন্দর্যের দিক থেকে বাংলাদেশের একমাত্র ও অদ্বিতীয় এ মসজিদটি সংস্কারে উদ্যোগ নেওয়া না হলে তা ধ্বংস হয়ে যাবে বলে স্থানীয়রা জানান।

মসজিদটি দেখতে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের থাকার জন্য নেই কোনো ব্যবস্থা। এখানে মসজিদ ও এর প্রতিষ্ঠার ইতিহাস জানার জন্য নেই কোনো জাদুঘর বা পাঠাগার।
মসজিদের প্রতিষ্ঠাতার নাতি আমেরিকার থমাস জেফারসন মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মো. শহিদুল্লাহ আকন জানান, মসজিদটি প্রত্নতত্ত¡ বিভাগ তাদের দায়িত্বে নেওয়ার পর যে ধরনের উন্নয়নের কাজ হওয়ার কথা ছিল তা হয়নি। মসজিদটি রক্ষার জন্য নেই কোনো সংস্কারের উদ্যোগ। প্রত্নতত্ত¡ বিভাগ এর দায়িত্ব নেওয়ায় আমরা পারিবারিক ভাবে এর সংস্কারেও হাত দিতে পারছি না। মসজিদটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এছাড়া এর ঐতিহ্যকে রক্ষা করতে এখানে পর্যটকদের থাকার জন্য একটি বাংলো ও পাঠাগার স্থাপন করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, প্রত্নতত্ত¡ বিভাগ থেকে মসজিদটি দেখভাল করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ওই মসিজদের প্রতিষ্ঠাতা মৌলভী মমিন উদ্দিন আকনের নাতি মাস্টার মো. আবুল কালাম আজাদ আকনের কাছে। তিনি এর অবৈতনিক তত্ত¡বাধায়কের দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি জানান, আমার দাদা মরহুম মৌলবী মমিনউদ্দিন আকন তিনি বাংলাদেশের একমাত্র ধারু  শিল্পে খচিত মুসলিম স্থাপত্যকলা এই মমিন মসজিদের স্থপতি। আমার দাদা মসজিদটি করেন আজ থেকে একশত আট বছর আগে। এরপর ২০০৩ সালে ১৭ই এপ্রিল মসজিদটি সাংস্কৃতিক মন্ত্রনালয়ের তালিকা ভুক্ত হয়। তারপর থেকে ২০০৮ সালে একবার সংস্কের হয়েছে। এরপরে সরকার ২০২১ সালে আবার মসজিদটিকে সংস্কার করেন। কিন্তু সংস্কার করার পরেও যেহুতে এটি কাঠের সেহতেু এটা সুরক্ষা হয় নাই। সুরক্ষার জন্য আমরা লড়াই করছি এবং বর্তমান সরকারের আমাদের চাওয়া এই মসজিদটা সুরক্ষা করতে হলে মমিন মসজিদের দশ ফুট উপর একটা সুন্দর রকমারি বা বাহারি চালা দরকার সেই চালার নিচে এই মসজিদটি থাকবে তাহলে এটা ঠান্ডা থাকবে এবং রোদ বৃষ্টিতে থেকে রক্ষা পাবে। এটা তুলনামূলক ভাবে নিচু এরিয়া তাই এটাকে দু-ফুট উচ্চু করতে হবে। ভারি বর্ষনে মমিন মসজিদের টিনের স্ক্রু অনবরত পানি পরে মুসল্লিরা ঠিক মত নামাজ আদায় করতে পারে না।

তিনি আরো জানান, ২০১৯ সালে সাংস্কৃতিক সচিব নাসিরউদ্দিন থাকাকালীন সময় প্রায় ষাট লাক্ষ টাকার স্কিম হাতে নিয়েছিল মমিন মসজিদ গবেষনা খ্যাতে এবং মমিন মসজিদকে কেন্দ্র করে একটি ডিজিটাল লাইব্রেরি ও একটি মিনি মিউিজিয়ম করার জন্য। মমিন মসজিদের উপর সেট, পার্ক, ফুল বাগান করার কথা ছিলো। বিশ লক্ষ টাকা আমাদের পিরোজপুর ডিসি অফিসে আসছিল কিন্তু এর ব্যয়বারের হিসাব চেয়েছিল । আমরা যখন হিসাব দিয়েছি তখন টাকাটা আবার মূল কোষাগারে চলে  গেছে। যেটা ওখান থেকে আর ছাড় হয় নাই। আমরা চাচ্ছি যে আমাদের এই মমিন মসজিদকে কেন্দ্র করে এর চারিপাশ সৌন্দর্য করার জন্য ২০১৯ সালে যে হিসাব করা হয়েছিল  সেই হিসাব অনুযায়ী আমাদের টাকাটা দেওয়া এবং এটাকে একটা সুন্দর পর্যটন হিসেবে গড়ে তোলা। যাতে দূর ভবিষৎতে এই মমিন মসজিদকে কেন্দ্র করে এলাকার স্থানীয় জনগন জীবিকা আয়ন করতে পাররে এবং এই এলাকার উন্নতি হয়।  মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনের নেই কোনো সরকারি বেতন। এছাড়া এর বৈদ্যুতিক বিলসহ বিভিন্ন খরচ আমাদের পরিবার থেকে দিতে হচ্ছে। ইমাম, মুয়াজ্জিন ও বৈদ্যুতিক বিলে দ্বায়িত্ব সরকার যেনো বহন করে তার জোর দাবি জানান।

মসজিদের প্রতিষ্ঠা কাল
মরহুম মৌলভী মমিন উদ্দিন আকন এ মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯১৩ সাল থেকে ১৯২০ সাল পর্যন্ত ৭ বছর ধরে ২২ জন কাঠ মিস্ত্রি কাজ করে এ মসজিদটি তৈরি করেছিলেন। এর নির্মাণ কাজে ব্যবহার করা হয়েছিলো শাল, সেগুন ও লোহা কাঠ। এসব ম‚ল্যবান কাঠ সংগ্রহ করা হয়েছিলো মিয়ানমার, ত্রিপুরা ও আসাম থেকে। সম্প‚র্ণ লোহাবিহীন এর নির্মাণ কাজ করেছেন জেলার নেছারবাদ উপজেলার দক্ষ কাঠ মিস্ত্রিরা।

এ মসজিদের প্রতিষ্ঠাতার নাতি মো. আবুল কালাম আজাদ আকন জানান, মসজিদটি নির্মাণের প্রধান মিস্ত্রি ছিলেন স্বরূপকাঠীর শ্রী হরকুমার মিস্ত্রী।

মসজিদের প্রতিষ্ঠাতার পরিচয়
মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা মৌলভী মমিন উদ্দিন আকন ছিলেন ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নেতা মরহুম মৌলভী ইব্রাহিম আকনের ছেলে। পারিবারিক স‚ত্রে জানা গেছে, তার পিতা মৌলভী ইব্রাহিম আকন ছিলেন ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নেতা হাজী শরিয়াতুল্লাহর পুত্র মহসিন উদ্দিন দুদু মিয়ার ফরায়েজী আন্দোলনের গাও (গ্রাম) খলিফা। আর মমিন উদ্দিনের দাদা ইদির হাওলাদারসহ তার ২ সহোদর খিদির হাওলাদর ও ইসাব হাওলাদার ছিলেন ব্রিটিশ বিরোধী যোদ্ধা। তারা ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের যোদ্ধা ঝালকাঠীর সুগন্দিয়া গ্রামের বালকি শাহর সহযোদ্ধা হিসেবে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন করেন। ১৭৯২ সালে সেখানে যুদ্ধকালে ব্রিটিশদের আধুনিক অস্ত্রের মুখে তাদের পরাজয় হয়। পরে তারা সেখান থেকে পলায়ন করে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার উদায়তার বুড়িরচর গ্রামে এসে অবস্থান নেন। সেখানে এসেও ৩ ভাই ১৮৩০ থেকে ১৮৭১ সাল পর্যন্ত তুষখালীর কৃষক বিদ্রোহ ও ১৮৫৮ সালের শিংখালীর কৃষক বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেন। আর এ বিদ্রোহের ফলে ১৮৫৯ সালের অক্টোবর মাসে ব্রিটিশ সরকার পিরোজপুরে মহাকুমা স্থাপন করে।

 মসজিদের অবস্থান
মসজিদটি পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার ধানীসাফা ইউনিয়নের উদায়তারা বুড়ির চর গ্রামে অবস্থিত। মসজিদের সামনে রয়েছে একটি বিশাল মাঠ। স্থানীয়দের উদ্যোগে পরবর্তী সময়ে সেখানে স্থাপন করা হয়েছে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এর সামনে একটি বড় পুকুর রয়েছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থা

ঢাকা বা দেশের যেকোনো স্থান থেকে লঞ্চ বা বাসে করে পিরোজপুরে আসতে হবে। সেখান থেকে পিরোজপুরের চরখালী ফেরিঘাট হয়ে মঠবাড়িয়ার উদ্দেশে যেতে হবে। সেখানে থেকে যেকোনো বাহনে মঠবাড়িয়ার সাপা বাজারের পরে তুষখালী বাসস্টেশন থেকে মমিন মসজিদ সড়ক ধরে মমনি মসজিদে যেতে হবে।



এ মসজিদটি সংস্কারের ব্যাপারে পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনের এমপি ডাক্তার রুস্তুম আলী ফরাজী জানান, মসজিদটি সংস্কারের জন্য ও এর করুণ দশার বিষয়ে সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রত্নতত্ত¡ বিভাগকে জানানো হয়েছে। দ্রুত এর সংস্কারের কাজে টাকা বরাদ্দ হবে।



« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://dailyvorerpata.com/ad/apon.jpg
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]