সোমবার ২৮ নভেম্বর ২০২২ ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

শিরোনাম: প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ফল ১৪ ডিসেম্বর    বিএনপির সমাবেশকে ঘিরে পরিবহন ধর্মঘট না ডাকার আহ্বান কাদেরের    শতভাগ পাস ২৯৭৫ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, ৫০টিতে সবাই ফেল    সংঘাত-দুর্যোগের সময় নারীদের দুর্দশা বহুগুণ বেড়ে যায়: প্রধানমন্ত্রী    এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেলো ২ লাখ ৬৯ হাজার শিক্ষার্থী    এসএসসি ও সমমানে পাসের হার ৮৭.৪৪ শতাংশ    এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
প্রকৌশলী ইউসুফের নামে গুরুতর অভিযোগ
বিল বানাতে ‘অভিনব ঘুষ’!
#গণপূর্তের দুই প্রকৌশলীকে আইনি নোটিশ #২০ শতাংশ ঘুষ এখন ‘ওপেন সিক্রেট’ #কাজের টাকা দিতে কর্মকর্তাদের গরিমসি
আরিফুর রহমান
প্রকাশ: রোববার, ২৪ জুলাই, ২০২২, ৯:৫৮ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম কারখানা বিভাগে কাজ শেষ করেও বিল জমা দিতে পারছেন না ঠিকাদাররা। কারণ শুধু ‘কাজ শেষ’ করলেই তো হবে না। সেই কাজের বিল বানানোর প্রত্যয়নপত্র নিতে আগাম ‘কমিশনও’ যে দিতে হবে! আর সেই কমিশন, সোজা বাংলায় ২০ শতাংশ ঘুষ না পেয়ে প্রত্যয়নপত্র না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নির্বাহী প্রকৌশলী ইউসুফ মিয়ার বিরুদ্ধে। আর এই ‘অভিনব’ ঘুষের প্রস্তাবে তার দোসরের ভূমিকায় আছেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল আল মামুন। সম্প্রতি রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় এই দুজনের বিরুদ্ধে এক ঠিকাদারের লিখিত অভিযোগের সূত্রে সামনে এসেছে এই ‘ঘুষের তথ্য’। অভিযোগটি করেছেন সাইমন ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী আব্দুল আউয়াল সাইমন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০ শতাংশ ঘুষ না পেয়ে প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর না দিয়েই ক্ষান্ত হননি প্রকৌশলী ইউসুফ, এরপর ওই ঠিকাদারকে হেনস্তা করতেও ছাড়েননি তিনি। পরবর্তী ঘটনার পর এবার আদালতের শরণ নিয়েছেন ঠিকাদার আব্দুল আউয়াল সাইমন। গতকাল রোববার একজন আইনজীবীর মাধ্যমে একটি লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছেন ই/এম বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইউসুফ মিয়ার বিরুদ্ধে। যার স্মারক নং- ২৫.৩৬২৬৮০.৫৩৩। দরপত্র আই.ডি নং- ৫৮৬১০৮।

অভিযোগ সূত্র জানায়, শেরেবাংলা নগরস্থ মানসিক হাসপাতালের এলইডি সাইনবোর্ডের ২৪ লাখ ৮৯ হাজার ৩৩২ টাকার কাজটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই সম্পন্ন করেছে। বিল দাখিলের জন্য কাজ শেষে প্রত্যয়নপত্র নিতে গেলে নির্বাহী প্রকৌশলী ইউসুফ মিয়া এবং উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল আল মামুন মোট কাজের ২০ শতাংশ ঘুষ দাবি করেন ঠিকাদার সাইমনের কাছে। নইলে সেই প্রত্যয়নপত্র দেওয়া সম্ভব হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয় তাকে।

এদিকে ঘটনা ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য ‘অর্থবছর শেষ’, ‘ফান্ড নেই’ এমন অজুহাতের পাশাপাশি ‘বিল জমা না দেওয়া’কে বড় কারণ হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন অভিযুক্তরা। সায়মন জানান, সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী ইস্কান্দার আলী বিষয়টি সুরাহার জন্য ইউসুফ মিয়াকে অনুরোধ করলে তিনিও তোপের মুখে পড়েন। পরে ই/এম বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তর পর্যন্ত গিয়ে সুরাহা না পেয়ে শেরেবাংলা থানায় হাজির হয়ে লিখিত করেন ঠিকাদার সাইমন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের এক কর্মচারী ভোরের পাতাকে বলেন, ‘ভাই, কী আর বলব। তিনি (ইউসুফ) টাকা ছাড়া কিছুই বোঝেন না। তার সঙ্গে আরো কিছু অসৎ কর্মকর্তা আছেন তারাও টাকা ছাড়া স্যারের টেবিলে কোনো কাগজপত্র দেন না। অফিসটা একেবারেই নষ্ট হয়ে গেছে। স্যারের সাথে মাঝে মাঝে সব প্রকৌশলীরা অফিসে বসে অনেক রাত পর্যন্ত আড্ডা দেন। এ জন্য আমাদেরও অফিসে আটকে থাকতে হয়।’ কী আড্ডা হয়- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শুধু হাসাহাসি আর টাকার দেনদরবার। কোন ঠিকাদারকে কাজ দেবে। আর কার কাছ থেকে কত টাকা নেবে। এসব আরকি।’

অভিযোগের বিষয়ে শেরেবাংলা নগর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক মো. সাব্বির আলম ভোরের পাতাকে বলেন, ‘অভিযোগকারী যে কাজ পেয়েছিলেন তা সম্পন্নের প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে পারেননি।’
এ বিষয়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল আল মামুন ভোরের পাতাকে বলেন, ‘আমি কোনো বক্তব্য দিতে চাই না। নির্বাহী প্রকৌশলী স্যার (ইউসুফ মিয়া) এ বিষয়ে যা বলার তিনিই বলবেন।’ আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তিনি (সাইমন) কোনো কাজই করেননি। তাই কাজের কোনো বিল এখনো জমা দিতে পারেননি।’ এরপর ‘আমি মিটিংয়ে আছি’ বলে ফোন কেটে দেন।



এ বিষয়ে অভিযোগকারী সাইমন ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী আব্দুল আউয়াল সাইমন ভোরের পাতাকে বলেন, ‘তারা যে অভিযোগ তুলেছেন সব মিথ্যা-বানোয়াট। আমার কাছে সকল ডকুমেন্ট আছে। আমি তাদের ঘুষ দেইনি বলে তারা আমার টাকা দেবেন না। প্রতিনিয়ত ঘোরাচ্ছেন। সঠিক নিয়মে শতভাগ কাজ আমি করে দিয়েছি। যে কারণে এ কাজে লাভের অঙ্ক খুবই সীমিত। এমনিতেই কাজটি করতে আমার কত টাকা ব্যয় হয়েছে। আমি আমার কষ্টের টাকা বিনিয়োগ করেছি এই কাজে। তার ওপর ২০ শতাংশ আগাম ঘুষ আমি কোত্থেকে দেব? এখন তাদের ঘুষ দিতে পারিনি বলে তারা আমার বিল তো দূরে থাক, বিলের প্রক্রিয়াই আটকে দিয়েছে।’

সাইমন আরো বলেন, ‘শুধু আমি নই। অনেক ঠিকাদারের সাথেই এই নির্বাহী প্রকৌশলী একই রকম কাজ করেছেন। তিনি টাকা ছাড়া কিছু বোঝেন না।’

এসব অভিযোগ সম্পর্কে জানতে বেশ কয়েকবার মুঠোফোনে কল করা হয় নির্বাহী প্রকৌশলী ইউসুফ মিয়াকে। তিনি ফোন ধরেননি, খুদেবার্তা পাঠালে ফিরতি জবাবও দেননি।

এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী শামীম আকতার ভোরের পাতাকে বলেন, ‘থানায় অভিযোগের বিষয়টি আপনার কাছেই শুনলাম। এ বিষয়ে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://www.dailyvorerpata.com/ad/dd.jpg
http://dailyvorerpata.com/ad/apon.jpg
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]