রোববার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১০ আশ্বিন ১৪২৯

শিরোনাম: অপার সম্ভাবনার বাংলাদেশ গড়েছেন শেখ হাসিনা    জাতীয় নির্বাচন: ভোট দিতে লাগবে ১০ আঙ্গুলের ছাপ    করোনায় আর ৪ জনের মৃত্যু    বিদায়বেলায় অঝোরে কাঁদলেন ফেদেরার, অশ্রুসিক্ত নাদালও    তালাবদ্ধ ঘরে পড়েছিল বৃদ্ধ দম্পতির হাত-মুখ বাঁধা লাশ    জমিতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে ২ কৃষকের মৃত্যু    চলন্ত ট্রেনে উঠতে গিয়ে প্রাণ গেল বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রের   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
এই মাসুদকে ভালো হতে বলবে কে?
#বেতন ১৬ হাজার টাকা, বাসাভাড়া ৫০ হাজার! #কৃষিমন্ত্রীকে বিব্রত করতে পিএর ‘আপ্রাণ অপচেষ্টা’!
উৎপল দাস
প্রকাশ: শনিবার, ২৩ জুলাই, ২০২২, ৮:২১ পিএম আপডেট: ২৪.০৭.২০২২ ১২:৪৩ এএম | অনলাইন সংস্করণ

বছর কয়েক আগে সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের রাজধানীর মিরপুরে বিআরটিএতে গিয়ে সেখানকার বিতর্কিত এক কর্মকর্তাকে নাম ধরে শাসিয়ে বলেছিলেন, ‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ!’ সে সময় ঘটনাটি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছিল। এত দিন পর এমনই আরেক মাসুদের সন্ধান মিলেছে। তিনি হলেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিএ) মাকসুদুল হাসান মাসুদ।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হলেও তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিএ) মাকসুদুল হাসান মাসুদ বারবারই বিতর্কের জন্ম দিচ্ছেন। মন্ত্রীর নিজ নির্বাচনী এলাকা টাঙ্গাইলের মধুপুর ও ধনবাড়ী উপজেলার দলীয় নেতা-কর্মীরা ভোরের পাতার সাথে আলাপকালে বলেছেন, সজ্জন রাজনীতিবিদ ড. আব্দুর রাজ্জাককে বিতর্কিত করতে বিএনপি পরিবারের সদস্য ও চারবারে এসএসসি পাস করা তার পিএ মাকসুদুল হাসান মাসুদই যথেষ্ট। মন্ত্রীকে বিব্রত করতে তিনি যেন আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছেন।

কিছুদিন আগে কৃষি মন্ত্রণালয়ের শতাধিক কর্মকর্তা সপরিবারে নেদারল্যান্ডস সফরে গিয়েছিলেন। এ সফরে কারা যাবেন না যাবেন সেটিও নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিষয়টি বলতে গেলে এককভাবে তদারকি করেছেন পিএ মাসুদ। এমনটাই দাবি খোদ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পদমর্যাদার এক কর্মকর্তার। আক্ষেপ করে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘এক মাসুদকে তো ওবায়দুল কাদের সাহেব ভালো হতে বলেছেন। কিন্তু পিএ মাসুদকে ভালো হওয়ার কথা বলবে কে?’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মাকসুদুল হাসান মাসুদের বেতন মাসে ১৬ হাজার টাকা। অথচ তিনি বাসাভাড়াই দেন মাসে ৫০ হাজার টাকা। এই স্বল্প বেতনে চাকরি করেও নিজ তথ্য গোপন করে ঠিকাদার হিসেবে নিজ মালিকানায় মেয়ের নামে করেছেন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মেসার্স নামিরা এন্টারপ্রাইজ। পরিচয় গোপন করে নেদারল্যান্ডস সফর করছেন, যা তার নিয়োগের সাথে সাংঘর্ষিক। তিনি নামিরা এন্টারপ্রাইজ লাইসেন্স দিয়ে কুমিল্লার পিডি ও বিএডিসির ইসিএইচডিপির পিডি থেকে নিয়মিত কাজ করে আসছেন। মন্ত্রীর পিএ হিসেবে সরকারের বেতনভুক্ত কর্মচারী হয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ে ব্যবসা করার এখতিয়ার তার আছে কি না এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
নিজের মেয়ের নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান করে নিজ মন্ত্রণালয়ে কাজ করে যাচ্ছেন দেদারছে। এলাকার লোকজন কাছে তার পরিচিতি ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে। এর আগেও বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় তার সম্পর্কে লেখালেখি হলেও কর্মস্থলে তার একচ্ছত্র আধিপত্যে ছেদ পড়েনি এতটুকু।

ভোরের পাতার অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাকসুদের বাসা রাজধানীর ইস্টার্ন সার্কিট হাউসে। ৩০, সার্কিট হাউস রোড। যে বাসায় তিনি থাকেন সেটির ভাড়া মাসে ৫০ হাজার টাকা। একমাত্র মেয়ে নামিরা পড়ালেখা করে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলÑ কিডস টিউটোরিয়ালে। সেখানে মেয়েকে ভর্তি করতে নাকি ডোনেশন দিয়েছেন ১০ লাখ টাকা। তার বিলাসবহুল জীবন-যাপন, প্রায়ই বিদেশ ভ্রমণ, গাড়ি-বাড়ি, নিজস্ব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, মন্ত্রণালয়ে একক আধিপত্যের কারণে তার আচানক উত্থানে এলাকার সবাই অবাক।

রাজধানীর মিরপুরের বেনারশি পল্লীর পাশে আটতলা বিশিষ্ট দুটি বাড়ি নির্মাণ ছাড়াও টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে শ্বশুরের নামে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে মাসুদ করেছেন আরেকটি বাড়ি। নিজ গ্রাম মুশুদ্দি ও শ্বশুরবাড়ি ধনবাড়ীর কালিপুরে কিনেছেন প্রায় ৫০ একর জমি।



এছাড়া, মাসুদ ধনবাড়ী ভূষা মাল সমবায় সমিতির সদস্য, এসি বিনিময় বাস মালিক সমিতির সদস্য, টাঙ্গাইল জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সদস্য। নিজের প্রভাব খাটিয়ে মাসুদ তার সাত মামাতো ভাই-বোন ও দুইজন খালাতো ভাইকে চাকরি দিয়েছেন। সারাদেশ থেকে খাদ্য মন্ত্রণালয় ও কৃষি মন্ত্রণালয়ে শতাধিক লোকের চাকরির তদবির করে হাতিয়ে নিয়েছেন বিপুল অংকের টাকা। এমনকি অবৈধভাবে অর্জিত টাকা দিয়ে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে মৈত্রী হাসপাতালের মালিকও বনে গেছেন মাকসুদুল হাসান মাসুদ।

উল্লেখ্য, মাসুদের বড় ভাই বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আশরাফুল হক হল ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ছিলেন। আরেক ভাই ও বোনকে প্রক্সি দিয়ে খাদ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ দিয়েছেন, যা দুদকে এখন তদন্তাধীন।

এদিকে, সস্ত্রীক নেদারল্যান্ডস ভ্রমণে থাকা মাকসুদুল হাসান মাসুদকে কয়েকবার হোয়াটসআপে ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। 

তবে ধনবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতারা বলেছেন, এই এক মাসুদের কারণেই এলাকার রাজনীতিতে গ্রুপিং চলছে। বিএনপি-জামায়াতের পরিবারের লোকজনকে ডেকে এনে পদ-পদবীও দেয়া হচ্ছে। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে গোপনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কাজ করেছেন এই মাসুদ। তার কারণেই কৃষিমন্ত্রীকে নিজ এলাকায় বিব্রতকর পরিস্থিতিতেও পড়তে হতে পারে বলেও দাবি করেন তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। তাদের ভাষ্য, কৃষিমন্ত্রীকে বিব্রত করার অপচেষ্টার অংশ হিসেবেই এসব করে বেড়াচ্ছেন তার পিএ মাকসুদুল হাসান মাসুদ।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://dailyvorerpata.com/ad/apon.jpg
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]