মঙ্গলবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২ আশ্বিন ১৪২৯

শিরোনাম: শিনজো আবের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন    বৈশ্বিক সংকট নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চায় বিএনপি: কাদের    ট্রফি ভেঙে ফেলা সেই ইউএনওকে ঢাকায় বদলি    পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি: মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৬৬    আগামী ৫ দিনে বৃষ্টিপাত বাড়ার আভাস দিল আবহাওয়া অফিস    পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর তারিখ ঘোষণা    মরদেহের অপেক্ষায় স্বজনরা: নিহত বেড়ে ৪৭   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
বিজয় উল্লাসে মেতেছে জাতি
#পদ্মার বুকে বাঙালির আরেক বিজয়: মে. জে. (অব.) এ কে মোহাম্মদ আলী শিকদার। #শেখ হাসিনার স্বপ্নযাত্রার নাম পদ্মা সেতু: ড. মোহাম্মদ আলী মানিক। #পদ্মা সেতু উদ্বোধনে বাংলাদেশ উন্নয়নের নতুন অধ্যায়ে পৌঁছেছে: ড. ফারুক মির্জা।
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ২৬ জুন, ২০২২, ১২:২১ এএম আপডেট: ২৬.০৬.২০২২ ১২:২৮ এএম | অনলাইন সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু উদ্বোধন করার পর সেখান থেকে চলে এলেন সেখানে সকল মানুষ কিন্তু পদ্মা সেতুর উপরে উঠে আনন্দে উল্লাসে মেতে উঠে। এক অভাবনীয় দৃশ্য সেটি। এই দৃশ্য কিন্তু অনেকেই দেখেননি আগে কিন্তু আমি দেখেছি এবং সেটি ছিল ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর। পদ্মা সেতু বাঙালি জাতির আবহমান সংগ্রামের প্রতীক। যুগে যুগে বাঙালি ধ্বংসস্তূপে ফিনিক্স পাখির মতো জেগে উঠেছে। এটাই আমাদের প্রাণশক্তি।



দৈনিক ভোরের পাতার নিয়মিত আয়োজন ভোরের পাতা সংলাপের ৭৪৬তম পর্বে এসব কথা বলেন আলোচকরা। ভোরের পাতা সম্পাদক ও প্রকাশক ড. কাজী এরতেজা হাসানের নির্দেশনা ও পরিকল্পনায় অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- পিএসসি, নিরাপত্তা বিশ্লেষক, গবেষক ও লেখক মে. জে. (অব.) এ কে মোহাম্মদ আলী শিকদার,  যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ড. মোহাম্মদ আলী মানিক, বেলজিয়াম বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফারুক মির্জা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ভোরের পাতার বিশেষ প্রতিনিধি উৎপল দাস।

মে. জে. (অব.) এ কে মোহাম্মদ আলী শিকদার বলেন, আসলে আজকে আমার গায়ের লোম দাড়িয়ে যাচ্ছে কারণ আজ আমি এতো আনন্দিত যে ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। আমার বহুদিনের পদ্মার উপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে বাড়ি যাবো। আজ এতো বছর পরে এই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে এবং আমি প্রত্যাশা করছি কিছু দিনের মধ্যেই আমি গাড়ি চালিয়ে এই পদ্মার উপর দিয়ে নিজ জন্মস্থানে যাওয়ার সুযোগ হবে। আজ সাড়া দেশের মানুষ বাধ ভাঙ্গা আনন্দ, উচ্ছ্বাসে মেতে আছে। আজ যখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু উদ্বোধন করার পর সেখান থেকে চলে এলেন সেখানে সকল মানুষ কিন্তু পদ্মা সেতুর উপরে উঠে আনন্দে উল্লাসে মেতে উঠে। এক অভাবনীয় দৃশ্য সেটি। এই দৃশ্য কিন্তু অনেকেই দেখেননি আগে কিন্তু আমি দেখেছি এবং সেটি ছিল ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর। সেদিন যেমন নয় মাসের অত্যাচার, অনাচার, এতো মানুষের গণহত্যা, অবিচার, অন্যায় থেকে মুক্তি পেয়ে মানুষ সেদিন যেমন আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠেছিল ঠিক একইভাবে আজকেও এই রকম একটি অভাবনীয় দৃশ্য আমরা দেখতে পেয়েছি সেই পদ্মার পারে। আনন্দ উল্লাস সেদিন যেমন সাড়া বাঙলার মানুষ যেমন বিজয়ের উল্লাসে মেতে উঠেছিল ঠিক সেই রকম বিজয়ের আনন্দে মেতে উঠেছে সাড়া বাঙলার মানুষ। পদ্মা সেতু নিয়ে যে রাজনীতি হয়েছে তাকে পরাজিত করা হয়েছে। এই সেতু রাজধানীর সাথে সরাসরি যোগাযোগের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, কাঁচামাল সরবরাহ এবং শিল্পায়ন সহজতর হবে। ২১টি জেলায় গড়ে উঠবে ছোট-বড় শিল্প। কৃষির ব্যাপক উন্নতি হবে। কৃষকরা পণ্যের দাম ভালো পাবেন এবং উৎপাদন বাড়বে। বলা হচ্ছে দক্ষিণের জেলাসমূহের বার্ষিক জিডিপি ২ দশমিক ০ শতাংশ এবং দেশের সামগ্রিক জিডিপি ১ দশমিক ০ শতাংশের বেশি বাড়াতে সাহায্য করবে পদ্মা সেতু। 

ড. মোহাম্মদ আলী মানিক বলেন, পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্ব ব্যাংকের অভিযোগ, ষড়যন্ত্রকারীদের নীল নকশাকে বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে পদ্মা সেতু আজ দৃশ্যমান ও উন্মুক্ত এবং এর সকল কৃতিত্ব জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।  পদ্মার বুকে সড়ক, রেলসহ এমন একটি সেতু নির্মাণের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আজ সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন করে দিয়েছেন তিনি। এই স্বপ্ন সম্মিলিতভাবে পুরো বাংলাদেশকে তিনি দেখিয়েছেন এবং বলেছিলেন আমরা আমাদের টাকায় আমাদের পদ্মা সেতু বানাব, আমাদের কোনো বিদেশি টাকা লাগবে না এবং শেষ পর্যন্ত তিনি তাই করে দেখিয়েছেন। বৃক্ষ তোমার নাম কি ফলে পরিচয় এবং শেখ হাসিনার পরিচয় বাংলাদেশের উন্নয়নে। উনি সাহস ও ঐক্যের প্রতীক যা আমরা দেখেছি আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মধ্যে। এ যেনও পিতার প্রতিচ্ছবি মেয়ের মধ্যে। আজ এই পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের যোগাযোগ ক্ষেত্রে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সড়কে যেমন বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে তেমনি আর্থসামাজিক অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বাড়বে ১ দশমিক ২৩ শতাংশ। সাথে সাথে ২ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়বে সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগী এলাকার জিডিপি। পদ্মা সেতুর কারণে রাজধানী ঢাকা শহরকে সম্ভব হবে বিকেন্দ্রীকরণ করতে। তৈরি হবে টাইম ভ্যালু মানির কার্যকারিতা। অধিকতর সহজ হবে কৃষিপণ্যের পরিবহন ব্যবস্থায়। সরাসরি নতুনত্ব পাবে কমপক্ষে ২১ জেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। বঙ্গবন্ধু যেমন ৬ দফার দাবি জানালেন ঠিক তখন যেমন দেশের কিছু মানুষ এর বিরোধিতা করেছিল ঠিক একইভাবে যখন বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুর অর্থায়ন থেকে সড়ে দাঁড়ালো তখন মানুষ অনেক কথা বলেছিল। কিন্তু শেখ হাসিনা তার পিতার মতো তার অঙ্গিকার বাস্তবায়ন করেছেন এবং বুজিয়ে দিয়েছেন বাঙালি একবার যা করার শপথ নেই তা করেই ছাড়ে।

অধ্যাপক ড. ফারুক মির্জা বলেন, আজ মাওয়া-জাজিরা প্রান্তে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের উৎসবের  মাধ্যমে এটা প্রমাণ হয়েছে যে জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  বাঙালি জাতির অহংকার। পদ্মা সেতু বাঙালি জাতির আবহমান সংগ্রামের প্রতীক। যুগে যুগে বাঙালি ধ্বংসস্তূপে ফিনিক্স পাখির মতো জেগে উঠেছে। এটাই আমাদের প্রাণশক্তি। পদ্মা সেতু বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন প্রকল্পই নয়, অর্থনৈতিক সামর্থ্য ও দৃঢ় সংকল্প নেতৃত্বের সাহসের প্রতীক। আজ সেতু উদ্বোধনের পর বাংলাদেশ প্রবেশ করেছে উন্নয়নের অন্য এক অধ্যায়ে। পদ্মা সেতু শুধু পরিবহনের ক্ষেত্রেই নয়, জাতীয় ও আঞ্চলিক অর্থনীতির আরও বিস্তৃত ক্ষেত্রেও যথেষ্ট প্রভাব ফেলতে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। অর্থাৎ উৎপাদন, কর্মসংস্থান, আয় বৃদ্ধি এবং শেষ পর্যন্ত দারিদ্র্য হ্রাস সম্ভব হবে। পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে জাতীয় জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ১.২% বৃদ্ধি পাবে, মূল্য সংযোজন হিসাবে আয় ১.৪% বৃদ্ধি পাবে এবং মোট ৭৪৩,০০০ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ দেবে। পদ্মা সেতু দেশের পদ্মা নদীর ওপর নির্মাণাধীন একটি বহুমুখী সড়ক ও রেল সেতু। এর মাধ্যমে মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ের সঙ্গে শরীয়তপুর ও মাদারীপুর যুক্ত হবে। ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে উত্তর-পূর্ব অংশের সংযোগ ঘটবে। খরস্রোতা পদ্মা নদীর ওপর ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ হচ্ছে স্বপ্নের এ সেতু। পদ্মা সেতু ঘিরে গড়ে উঠবে নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্ক। ফলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে এবং দেশের শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত হবে। এ সেতু এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে সংযোগের একটা বড় লিংক। তাই আঞ্চলিক বাণিজ্যে এ সেতুর ভূমিকা অপরিসীম। তাছাড়া পদ্মার দুপাড়ে পর্যটন শিল্পেরও ব্যাপক প্রসার ঘটবে।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://dailyvorerpata.com/ad/apon.jpg
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]