শুক্রবার ১২ আগস্ট ২০২২ ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯

শিরোনাম: ক্রিকেট নাকি বেটিং, সাকিবকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে: পাপন    জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে মন্ত্রণালয়কে বিস্তারিত ব্যাখ্যার নির্দেশ    ডলারের কারণে ভোজ্যতেলের দামে সুফল পাওয়া যাচ্ছে না: বাণিজ্যমন্ত্রী    রাজধানীতে হোটেলে মিলল নারী চিকিৎসকের গলাকাটা লাশ    সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকা সম্পর্কে সরকার কেন তথ্য চায়নি: হাইকোর্ট    জম্মু-কাশ্মীরে সেনা ক্যাম্পে হামলা, ৩ সেনাসহ নিহত ৫    বিশ্বব্যাপী বেড়েছে মৃত্যু-শনাক্ত   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
ঢাবি ক্লাবে গভীর রাতে রিজভীর ‘গোপন বৈঠক’, শিক্ষককে শোকজ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ২২ জুন, ২০২২, ২:১৪ এএম | অনলাইন সংস্করণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাব) ক্লাবে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর গভীর রাতে অবস্থান করা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে ক্লাবের সদস্য ও ফার্মেসি অনুষদের ডিন অধ্যাপক সীতেশ চন্দ্র বাছারকে আহ্বায়ক করে একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া ক্লাব কর্তৃপক্ষ ক্লাবের সভাপতি বিএনপি সমর্থিত সাদা দলের শিক্ষক এবিএম ওবায়দুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে।

‘রাজনৈতিক একজন নেতার সঙ্গে ক্লাবে বৈঠক করার বিষয়ে’ জানতে চেয়ে এই নোটিস দেওয়া হয়েছে বলে জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সরকারে থাকা আওয়ামী লীগ সমর্থিত নীল দলের সিনেট সদস্য অধ্যাপক আব্দুর রহীম।

একই সঙ্গে এ বিষয়ে ক্লাবের সদস্য ও ফার্মেসি অনুষদের ডিন অধ্যাপক সীতেশ চন্দ্র বাছারকে আহ্বায়ক করে একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে জানিয়ে অধ্যাপক রহীম বলেন, “কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে ক্লাবের কার্যকরী পরিষদ।”

ক্লাবের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রিজভীকে গত রোববার রাত ১১টা ১৭ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাবে প্রবেশ করতে দেখা যায়। তিনি সেখানে রাত একটা পর্যন্ত অবস্থান করেন।

ওই সময় ক্লাবে তার সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএনপি সমর্থিত শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের সাবেক আহ্বায়ক ও ক্লাবের বর্তমান সভাপতি অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলামসহ আরও ১০ থেকে ১২ জন ছিলেন।

ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি, রাকসুর সাবেক ভিপি রিজভীর ক্লাবে আসা কিংবা তার সঙ্গে ‘বৈঠকের’ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক ওবায়দুল বলেন, “এটা কোনো পলিটিক্যাল মিটিং ছিল না। আমরা একসঙ্গে বসে খাওয়া দাওয়া করেছি, আড্ডা দিয়েছি।

“ক্লাবের যেকোনো সদস্যের সঙ্গে দুই, চার-পাঁচজন গেস্ট আসতেই পারে। অনেকের সঙ্গেই আসে। তারাও তো রাত একটা, দুইটা পর্যন্ত খেলে, খায়, আড্ডা মারে। মিটিং আর আড্ডা এক জিনিস নয়। এটার কোনো পলিটিক্যাল উদ্দেশ্য ছিল না, জাস্ট খাওয়া দাওয়া করেছি।”

মঙ্গলবার রাতে এ বিষয়ে রিজভী, ‘‘বিশ্ববিদ্যালয়ের আমার সহকর্মী বন্ধু-বান্ধব শিক্ষকদের আমন্ত্রণে শিক্ষক ক্লাবে গিয়েছিলাম। এটা ছিল একান্ত সৌজন্য বিষয়। কিন্তু একে নিয়ে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে এটা ক্ষমতাসীনদের একটি চক্রান্ত।

‘‘উদ্দেশ্য একটাই পদ্মা সেতুর ‍উৎসবকে ঘিরে জনমনে যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে তাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতেই এহেন প্রচারণা করা হচ্ছে।”

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কি নিষিদ্ধ কোনো দ্বীপ না কি সেখানে কোনো রাজনীতিবিদ যেতে পারবে না। আমরা কেউ আমাদের বন্ধু-বান্ধবে সাথে দেখা করতে যেতে পারব না।”

‘বৈঠক’ করা নিয়ে অভিযোগ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক রহীম বলেন, “ক্লাবের সেক্রেটারি হলো ক্লাবের মুখপাত্র। সাধারণত ক্লাবে কেউ অনুষ্ঠান করতে চাইলে সাধারণ সম্পাদককে অবহিত করতে হয় অথবা লিখিত দিতে হয়। কিন্তু ওই বিষয়ে আমাকে কিছু জানানো হয়নি।



“বৈঠকের বিষয়ে গতকাল (সোমবার) আমাদের ক্লাবের কার্যনির্বাহী পরিষদের মিটিংয়ে এ বিষয়ে উনার (ক্লাবের সভাপতি ওবায়দুল) কাছে ব্যাখা চাওয়া হয়েছে। সাত কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে কারণ দর্শানোর নোটিস এবং একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে।”

এদিকে রিজভীর সঙ্গে সাদা দলের সাবেক আহ্বায়কের বৈঠককে ‘রাষ্ট্র বিরোধী ষড়যন্ত্র’ আখ্যায়িত করে মঙ্গলবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ কর্মসূচি পালন করে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।

সমাবেশ থেকে রিজভী ও অধ্যাপাক ওবায়দুলকে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়। এতে মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন দাবি করেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে সিসি টিভির ফুটেজগুলো দেখে অবিলম্বে এই গোপন বৈঠকে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেককে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে এসে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের প্রকৃত তথ্য জাতির সামনে প্রকাশ করতে হবে।” 

মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনেট মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম মাহিম, সংগঠনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা জহির উদ্দিন জালাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা রহুল আমিন মজুমদার ও নাট্য অভিনেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আহসানুল হক মিনু বক্তব্য দেন।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://dailyvorerpata.com/ad/apon.jpg
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]