রোববার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১০ আশ্বিন ১৪২৯

শিরোনাম: অপার সম্ভাবনার বাংলাদেশ গড়েছেন শেখ হাসিনা    জাতীয় নির্বাচন: ভোট দিতে লাগবে ১০ আঙ্গুলের ছাপ    করোনায় আর ৪ জনের মৃত্যু    বিদায়বেলায় অঝোরে কাঁদলেন ফেদেরার, অশ্রুসিক্ত নাদালও    তালাবদ্ধ ঘরে পড়েছিল বৃদ্ধ দম্পতির হাত-মুখ বাঁধা লাশ    জমিতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে ২ কৃষকের মৃত্যু    চলন্ত ট্রেনে উঠতে গিয়ে প্রাণ গেল বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রের   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
কচুর লতি চাষে সফল গৌরীপুরের চাষীরা
গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ জুন, ২০২২, ৯:২৪ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকরা সাশ্রয়ী শ্রম ও কম খরচে অধিক লাভের দিশা পেয়ে কচুর লতি চাষে সফল কৃষকরা। এ মৌসুমে কচুর লতির বাম্পার ফলন আর বাজারে ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।

কৃষিসমৃদ্ধ এলাকা গৌরীপুরের মাটি ও আবহাওয়া ফসলের জন্য উপযোগী হওয়ায় স্থানীয় কৃষকরা ধান চাষের পাশাপাশি নানা শাকসবজিসহ বিভিন্ন অর্থকরী ফসলের চাষাবাদ করে থাকেন। তবে অন্যান্য ফসলের তুলনায় রোগ-বালাইয়ের ঝুঁকি কম থাকায় কচুর লতি চাষে কৃষকদের আগ্রহ দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ অ লে চলতি মৌসুমে কচুর লতির বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে বিক্রি করে ভালো দামও পাচ্ছেন তারা।

গৌরীপুর উপজেলার মাওহা ইউনিয়নের ভূটিয়ারকোনা বাজারে পাইকারের কাছে কচুর লতি বিক্রি করার সময় ধেরুয়া কড়েহা গ্রামের কৃষক জহিরুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে ২৫ শতক জমি বর্গা নিয়ে কচুর লতি চাষ করেছেন, তাতে ফলন খুব ভালো হয়েছে। এতে তার খরচ হয়েছে মাত্র ১৩ হাজার টাকা। মৌসুমের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত  ৫০ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন শেষ পর্যন্ত  ১০ হাজার টাকার কচুর লতি বিক্রি করতে পারবেন বলে ধারণা করছেন তিনি। 
অন্য আরেক কৃষক আব্দুল মান্নান বলেন ২৫ শতক জমির মধ্যে লতি চাষ করেছি খরচ হয়েছে মাত্র ১০ হাজার টাকা আর আমি বিক্রি করেছি ৬০ হাজার টাকা। প্রথমে প্রতি কেজি লতি পাইকারী ৪৫ টাকা বিক্রি করেছি আর এখন প্রতি কেজি ৩৫ টাকা বিক্রি করছি এতে আরও একমাসে আরও ১০ হাজার টাকার মতো বিক্রি করতে পারবো, এতে আমি লাভবান। 
তিনি আরো বলেন, এলাকায় কচুর লতির ভালো ফলন হওয়ায় সরাসরি কৃষকের জমি থেকে পাইকাররা কিনে নিচ্ছে। আবার বাজারে নিয়ে আসার পর কৃষকের কাছ থেকে ৩৫/৪০ টাকা কেজি ধরে কচুর লতি ক্রয় করে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় পাইকাররা।



স্থানীয় কৃষক আব্দুল হেলিম জানান, মাটি ও আবহাওয়া উপযোগী থাকায় মাওহা ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামের কৃষক অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি কচুর লতি চাষ করে থাকেন। কম খরচে ভালো উৎপাদন হওয়ায় কৃষকরা ঝুঁকছে এই ফসলের প্রতি। 

কচুর লতি ক্রয় করতে আসা পাইকার কালাম মিয়া ও আলতাব মিয়া জানান, গৌরীপুর উপজেলার কচুর লতি অনেক স্বাদের, তাই সারাদেশে এ কচুর লতির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এ উপজেলার উৎপাদিত কচুর লতি ক্রয় করে তারা সিলেটে নিয়ে বিক্রি করেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে ১০ টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভাসহ মোট ৬০ হেক্টর জমিতে লতি কচু চাষ করেছেন, মুখী কচু চাষ করেছেন ৩০ হেক্টর জমিতে অন্য দিকে পানি কচু ১৮ হেক্টর জমিতে চাষ করেছেন। সর্বমোট ১০৮ হেক্টর জমিতে এ উপজেলার কৃষকরা লতি, মুখী ও পানি কচু চাষ করেছেন।

এছাড়াও কৃষি অফিসের সহযোগিতায় ৩৫ জন কৃষক বিভিন্ন রকমের প্রদর্শনী করেছেন। 
গৌরীপুর উপজেলা কৃষি অফিসার লুৎফুন্নাহার লিপি জানান, এ উপজেলার মাওহা ইউনিয়নে কচুর লতির চাষ বেশি হয়ে থাকে। এছড়াও অচিন্তপুর, মইলাকান্দা ও রামগোপালপুর ইউনিয়নের কৃষকরাও কচুর লতি চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। এ অ লে দিনে দিনে কচুর লতির আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এক্ষেত্রে স্থানীয় কৃষকদের কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে এ অর্থকারী ফসল উৎপাদনে তদারকির পাশাপাশি পরামর্শ ও উৎসাহ প্রদান করা হয়ে থাকে।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://dailyvorerpata.com/ad/apon.jpg
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]