শুক্রবার ১২ আগস্ট ২০২২ ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯

শিরোনাম: ক্রিকেট নাকি বেটিং, সাকিবকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে: পাপন    জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে মন্ত্রণালয়কে বিস্তারিত ব্যাখ্যার নির্দেশ    ডলারের কারণে ভোজ্যতেলের দামে সুফল পাওয়া যাচ্ছে না: বাণিজ্যমন্ত্রী    রাজধানীতে হোটেলে মিলল নারী চিকিৎসকের গলাকাটা লাশ    সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকা সম্পর্কে সরকার কেন তথ্য চায়নি: হাইকোর্ট    জম্মু-কাশ্মীরে সেনা ক্যাম্পে হামলা, ৩ সেনাসহ নিহত ৫    বিশ্বব্যাপী বেড়েছে মৃত্যু-শনাক্ত   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
বাবা আমার বাবা
আ. রহমান
প্রকাশ: রোববার, ১৯ জুন, ২০২২, ১০:১৪ এএম | অনলাইন সংস্করণ

আজ রোববার (১৯ জুন) বিশ্ব বাবা দিবস। রচিত হাজার মহাকাব্যের নায়ক বাবা প্রত্যেক সন্তানের মাথার ওপর বটবৃক্ষের ছায়া। শত শত দিবসের মধ্যে এটিও একটি। যাপিত জীবনে মধুর এ শব্দটিকে শুধু মাত্র দিবসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা যায় না। এর ব্যাপ্তি অনেক। সন্তানসহ পরিবারের অন্যদের আগলে রাখতে প্রাণান্তকর চেষ্টা করেন বাবা। সন্তানের বর্তমান, ভবিষ্যৎ এমন কিছু নেই যা নিয়ে বাবা চিন্তা করেন ন।

আমার বাবা ডা. রত্তন আলী মৃধা। তাকে আমরা তিন ভাই আব্বা বলে ডাকতাম। তিনি শুধু বাবাই নন, আমাদের আদর্শের প্রতীক। ২০২১ সালের ১ সেপ্টেম্বর বুধবার আব্বা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন না ফেরার দেশে। পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার চিকনিকান্দী ইউনিয়নের কালারাজা গ্রামে নিজ বাড়িতে বৃহস্পতিবার বৃষ্টি ভেজা দিনে নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় তার মরদেহ। জানাজায় সমাজের সব স্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন। নির্লোভ, পরোপকারী আব্বা ছিলেন সমাজে পরিচিত মুখ। আব্বা কখনও খারাপ মানুষের সঙ্গে ওঠাবসা করতেন না। কোনদিন খারাপ ব্যবহার করেননি করও সঙ্গে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি খুব ভালো মানুষ ছিলেন। প্রত্যেক বাবাই তার সন্তানের কাছে আদর্শের প্রতীক। আমাদের আব্বাও তেমনি। পরোপকারী মানুষটি সারা জীবন মানুষের উপকার করে গেছেন। একজন চিকিৎসক হিসেবে মানুষকে সেবাদানে তিনি ছিলেন অকৃপন। এ কারণেই তার সুনাম ছিল বেশ। প্রথম দিকে পারিশ্রমিক হিসেবে মাত্র ২০ টাকা নিতেন। আমার ছোট বেলায় একবার আব্বাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম ২০ টাকা ভিজিট নেন কেন? উত্তরে আব্বা বলেছিলেন-গ্রামের অল্প আয়ের মানুষ, হাতে সব সময় টাকা থাকে না- তাই ২০ টাকাই নেই, এতেই আমি খুশি। অবশ্য পরবর্তিতে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আব্বাও ১০০ টাকা ভিজিট নিতেন, তবে সবার কাছ থেকে না।

আমি দেখেছি দূর-দূরন্ত থেকে মানুষ আব্বার কাছে আসতেন চিকিৎসা নিতে। গরীব বলে তিনি কখনই কাউকে ফেরাতেন না। উদারমনা মানুষটি ছিলেন পরোপকারী। ছোট বেলায় আব্বার কাছে আসা রোগীদের তালিকা লিখে রাখতাম আমি। বাড়িতে আসলে আব্বাকে সে তালিকা দেখাতাম, আব্বা তখনই ছুটে যেতেন সেখানে। বাবা হিসেবে তিনি যেমন ছিলেন যতœশীল, তেমনি প্রকৃতির প্রতিও ছিলেন উদার। গাছ ও মাছের প্রতি ছিল তার আলাদা ভালো লাগা। সেই থেকে তিনি তৈরি করেছেন মাছের খামার ও ফলদ গাছের বাগান। যা দেখে মুগ্ধ এলাকাবাসী। 
পরিশেষে আল্লাহ তায়ালার কাছে সন্তান হিসেবে ফরিয়াদ জানাই, তিনি যেন আমার আব্বাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন, আমীন।

লেখক: সংবাদকর্মী

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://dailyvorerpata.com/ad/apon.jpg
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]