শুক্রবার ১২ আগস্ট ২০২২ ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯

শিরোনাম: ক্রিকেট নাকি বেটিং, সাকিবকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে: পাপন    জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে মন্ত্রণালয়কে বিস্তারিত ব্যাখ্যার নির্দেশ    ডলারের কারণে ভোজ্যতেলের দামে সুফল পাওয়া যাচ্ছে না: বাণিজ্যমন্ত্রী    রাজধানীতে হোটেলে মিলল নারী চিকিৎসকের গলাকাটা লাশ    সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকা সম্পর্কে সরকার কেন তথ্য চায়নি: হাইকোর্ট    জম্মু-কাশ্মীরে সেনা ক্যাম্পে হামলা, ৩ সেনাসহ নিহত ৫    বিশ্বব্যাপী বেড়েছে মৃত্যু-শনাক্ত   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
মা-ভাইয়ের ষড়যন্ত্রের শিকার তুরিন আফরোজ
ভোরের পাতা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ জুন, ২০২২, ১০:০৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজকে সামাজিকভাবে হেনস্তা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে তার মা শামসুন্নাহার বেগম ও ভাই শাহনেওয়াজ শিশিরের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, উত্তরায় বাড়ির মালিকানা নির্ধারণের বিষয় আদালতে বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও পারিবারিক দ্বন্দ্বকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করছেন তুরিনের মা ও ভাই।

তুরিনের স্বজনদের দাবি, অবৈধ পথে না পেরে দেশবাসীর সহানুভূতি পেতে মিথ্যা ‘নাটক’ সাজিয়ে ২০১৯ সালের ২০ জুন সুপ্রিম কোর্ট ল’ রিপোটার্স ফোরামে সংবাদ সম্মেলন করেন শামসুন্নাহার ও শিশির। তবে আত্মসম্মানের ভয়ে দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও মা-ভাইয়ের করা সংবাদ সম্মেলনের জবাব দেননি তুরিন। বাড়ির দখল নিতে না পেরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে মা-ছেলে তুরিন আফরোজকে জড়িয়ে মানহানিকর বক্তব্য দিচ্ছেন। অথচ বাড়ির মালিকানার বিষয়ে কোনও প্রমাণ দিতে পারেনি।

জানা গেছে, তুরিনের মা শামসুন্নাহার বেগম ১৯৯২ সালে ক্রয়সূত্রে উত্তরার সম্পত্তির মালিক হন। তার এক সপ্তাহ পর শামসুন্নাহার বেগম তার স্বামী তসলিম উদ্দিনকে ওই সম্পত্তির পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নিযুক্ত করেন। যার রেজিস্টার দলিল রয়েছে। ১৯৯৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর তসলিম উদ্দিন মেয়ে তুরিন আফরোজকে হেবা (দানপত্র) করেন। তবে শামসুন্নাহার ও তার ছেলে শাহনেওয়াজ আদালতে লিখিত জবাব দিয়ে বলেছেন, তসলিম উদ্দিন কখনও তার মেয়ে তুরিন আফরোজকে উত্তরার সম্পত্তি দান করেননি। অথচ তসলিম উদ্দিনের স্বাক্ষরিত দলিল এখনও তুরিন আফরোজের কাছে রয়েছে। যেটা তিনি আদালতে সংযুক্ত করেছেন। তবে তসলিম উদ্দিন সম্পত্তির মালিকানা (পাওয়ার অব অ্যাটর্নি) তার স্ত্রী শামসুন্নাহারকে কখনও ফেরত দেননি। তা সত্ত্বেও শামসুন্নাহার তার ছেলে শাহনেওয়াজকে উত্তরার সম্পত্তি ১৯৯৭ সালে হেবা দান করেন।

বাড়ির মালিক না হয়েও কীভাবে সন্তানকে সেই সম্পত্তি লিখে দেন- এর আইনি ব্যাখ্যায় তুরিনের আইনজীবী সাইফুল করিম বলেন, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দেওয়ার পরে যে লোক পাওয়ার পেয়েছে; সে যদি সম্পত্তির ভোগ দখল করেন, তাহলে সম্পত্তির মালিক সেই ভোগদখলকারী হয়ে যায়। তবে অর্পিত পাওয়ারটা কতটুকু দেওয়া হয়েছে সেটা জানতে হবে। যদি জমির মালিকানা বন্ধক ও বিক্রির এবং ওই জামির সকল এখতিয়ার ন্যস্ত ব্যক্তির ওপর দেওয়া হয়; সেক্ষেত্রে ওই ব্যক্তিই সম্পত্তির প্রকৃত মালিক বলে বিবেচিত হয়। তখন সে অন্যের কাছে দান বা বিক্রিও করতে পারবেন। এমনকি সে সম্পত্তি ফেরত না দিলে আর ফেরত নেওয়াও যায় না। যেহেতু তুরিন আফরোজের মালিকানা নির্ধারণের বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন, তাই আদালতই নির্ধারণ করবেন; কে মালিক।



এর আগে, সুপ্রিমকোর্টে সংবাদ সম্মেলন করে তুরিন আফরোজের মা-ভাই অভিযোগ করেন, ২০১৭ সালের ২ মার্চ তুরিন আফরোজ মারধর করে; পুলিশ, র‌্যাব ও গানম্যানের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক তাদের মা-ছেলেকে উত্তরাস্থ বাড়ি থেকে বের করে দেন।

তাদের আনিত অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দেখা যায়, ২ মার্চ ট্রাইব্যুনালের কাজ শেষে বিকেলে বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠনের সমন্বয় পরিষদের তিন দশক পূর্তি উপলক্ষে সাত দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে যোগদানের উদ্দেশে বরিশাল যান তুরিন আফরোজ। তার বরিশালে অবস্থান এবং সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে ট্রাইব্যুনাল থেকে ২০১৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের কাছে দাপ্তরিক চিঠি ইস্যু করা হয়। এমনকি পর দিন (৩ মার্চ) বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের তিন দশক পূর্তি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে বক্তব্যও রাখেন তিনি। যেটা বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়।

এ বিষয়ে শামসুন্নাহার বেগমের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ বলেন, ভেবেছিলাম মা যেটা করেছেন, ভুলে বা কারও প্ররোচনায় করেছেন। সময়ের সাথে সাথে তারা তাদের ভুল বুঝতে পারবেন। কিন্তু প্রায় তিন বছর পার হওয়ার পরও তারা অনুতপ্ত বোধ করেনি। আমি পারিবারিক মর্যাদাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে অভ্যস্ত। আসল সত্যটা বের করে আনেন। দেখবেন, আমার সাথে যেটা করা হয়েছে সেটা অমানবিক-মিথ্যাচার ছাড়া কিছু নয়।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://dailyvorerpata.com/ad/apon.jpg
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]