বুধবার ৩০ নভেম্বর ২০২২ ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

শিরোনাম: বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি: ৩ মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ    জিএম কাদেরের দায়িত্ব পালনে বাধা নেই: হাইকোর্ট    মুজিব কোট পরলেই মুজিব সৈনিক হওয়া যায় না: কাদের    চীন-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের ‘স্বর্ণযুগ’ যুগ শেষ: ঋষি সুনাক    রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ৩৬    সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে ব্রাজিল    অপার সম্ভাবনার বাংলাদেশ গড়েছেন শেখ হাসিনা   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
এক রফিকুলে হরেক ভোগান্তি
বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিট্রা বিভাগ পরিচালকের রুট পারমিট ‘বাণিজ্য’
আরিফুর রহমান
প্রকাশ: রোববার, ৫ জুন, ২০২২, ১০:২৫ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ- বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিট্রা বিভাগের পরিচালক রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে নৌযানের রুট পারমিট ও সময়সূচির অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নৌযান মালিকদের সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-আমতলী নৌপথে নবনির্মিত এমভি শতাব্দী বাঁধন (এম২৫৫০০) যার স্বত্বাধিকারী মেসার্স হাজী ইকবাল হোসেন শিপিং লাইনস লঞ্চের অনুকূলে ঈদ স্পেশালের নাম করে এ বছরের ২৭ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত রুট পারমিট অনুমোদন দেন। 

যদিও অনুমোদন স্মারকে স্পষ্ট উল্লেখ আছে, ঈদ স্পেশাল রুট পারমিট সময়সূচি উল্লিখিত নৌপথে চলাচলকারী লঞ্চের নিয়মিত সার্ভিসের পর এই নৌপথে ‘রেগুলার সার্ভিস’ হিসেবে গণ্য হবে না। তারপরও পরবর্তীতে আবার ঈদ স্পেশালের নামে ১৫ মে পর্যন্ত রুট পারমিট ও সময়সূচি প্রদান করা হয়। এখানেই শেষ নয়, এরপরও গত ১৬ মে নতুন করে শতাব্দী বাঁধন নৌযানের অনুকূলে পরবর্তী এক মাসের সময়সূচির মেয়াদ বাড়ানো হয়। পুরো প্রক্রিয়ার কারিগরই বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিট্রা বিভাগের পরিচালক রফিকুল ইসলাম। আর এসবের পেছনে মোটা অংকের লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ঢাকা সবুজবাগ ফেরিঘাট (আমতলী) নৌপথে এমভি  সুন্দরবন-৭, এমভি ইয়াদ-১, এম ভি তরঙ্গ-৭, তিনটি লঞ্চের অনুকূলে একটি যৌথ রুট পারমিট সময়সূচি জারি করা আছে। এছাড়া ওই নৌপথে রুট পারমিট সময়সূচি, অনুমোদন প্রদান না করার বিষয়ে বিজ্ঞ আদালতের দায়েরকৃত দেওয়ানি মোকদ্দমা ৩২৫/২০১২ দেওয়ানি আপিল নং ৪৮২/২০১৬ এবং দেওয়ানি মোকদ্দমা ১৩০/২০২১ মামলাসমূহের নিষেধাজ্ঞা ও আদালতের রায়ে স্পষ্ট করে লেখা আছে যে, ‘অত্র আদেশ দ্বারা প্রতিপক্ষগণ যেন বাদীর কোম্পানির জাহাজ যে রুটে চলমান সেই রুটে অন্য কোনো জাহাজ কোম্পানিকে চলাচলের জন্য অবৈধভাবে অনুমোদন প্রদান করতে না পারে। তৎমর্মে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো।’ তারপরও আদালতের রায় উপেক্ষা করে, বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিট্রা বিভাগের পরিচালক রফিকুল ইসলাম ও তার সহযোগী পরিচালকরা আদালতের রায় অমান্য করে মেসার্স হাজী ইকবাল হোসেন শিপিং লাইনসের পক্ষে টাকার বিনিময়ে এমভি শতাব্দী বাঁধন নৌযানের অনুকূলে রুট পারমিটের অনুমোদন দেন।

এ বিষয়ে নৌ-নিট্রা বিভাগের পরিচালক রফিকুল ইসলাম ভোরের পাতাকে বলেন, এই রুট নিয়ে দীর্ঘদিন একটি স্থানীয় সমস্যা ছিল, সেটা কিছুদিন হয়েছে লঞ্চ মালিকরা দুইপক্ষের ঝামেলা সমাধান করেছেন। আইনি বিষয়ে আদালত আমাদের যে নোটিশ করেছে আমি এ বিষয়ে আমাদের চেয়ারম্যান ও বিআইডব্লিউটিএ’র আইন উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি (আইন উপদেষ্টা) বলেছেন কোনো সমস্যা নাই।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিট্রা বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা ভোরের পাতাকে বলেন, ‘রফিক স্যার অনেক ক্ষমতার অধিকারী। তিনি আমাদের দফতরের অফিসার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক। সব অফিসার তার কথায় ওঠে-বসে। তিনি একাই সব। তার কথা ছাড়া এখানে কোনো কাজ হয় না। তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হয়। সেটা ভুল হোক আর সঠিক হোক। আমরা উপ-পরিচালক হই আর যা হই না কেন, আমাদের কথার কোনো মূল্য নেই তার কাছে! আমরা কোনো কথা বললেই আমাদের ওপর নেমে আসবে বিভাগীয় শাস্তি। কখন কাকে কোথায় বদলি করবে তা কে জানে। সবচেয়ে বড় কথা, তার কোনো কাজে তিনি সাক্ষী রাখেন না। ফাইলে সই করবে দফতরের বিভিন্ন কর্মকর্তারা, আর ফায়দা নেবেন তিনিই। এটাই স্বাভাবিক। নেতা বলে কথা।’



নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক কর্মকর্তা বলেন, ‘এর আগেও কয়েকটি জাতীয় পত্রিকায় সাবেক-বর্তমান ১২ কর্মকর্তার নামে কত কিছু লেখালেখি হয়েছে। তাদের মধ্যেই একজন কর্মকর্তা আপনার সামনেই দেখলেন রফিক স্যারের টেবিলে কিভাবে বসে আছেন। বসে থাকা ব্যক্তিটির নাম এমদাদুল হক। নিম্নমান সহকারী পদে বিআইডব্লিউটিএতে কর্মরত ছিলেন। ঘুষের দায়ে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। শুনেছি তিনি নাকি কিছু দিনের মধ্যেই আবার চাকরিতে যোগদান করবেন। সবকিছু সমাধান হয়ে যাবে। আসলে এই দফতরে কখনো শুনলাম না কারো চাকরি গেছে। সর্বোচ্চ বদলি, এটুকুতেই সমাধান। যদি কারো ফাইনালি চাকরি যেত তাহলে ভয়ও থাকত। এখন সরকারি চাকরিও যায় না আর ভয়ও লাগে না।’

সবুজবাগ আমতলী রুটের মেসার্স ই-আলী শিপিং লাইনস এমভি তরঙ্গ-৭ লঞ্চের মালিক হাফিজুর রহমান ভোরের পাতাকে বলেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বিআইডব্লিউটিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচালক রফিকুল ইসলাম এই লঞ্চটির রুট পারমিট ও সময়সূচি অনুমোদন দেন। এমতাবস্থায় উক্ত সময়সূচি অনুমোদন দেওয়ায় আমাদের এই রুটে চলাচল করা তিনটি লঞ্চই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া বর্তমানে উক্ত নৌপথে যাত্রী সংখ্যা কমে যাওয়ায় আমাদের প্রতি ট্রিপে লস হচ্ছে। এমন সময়ে এমবি শতাব্দী বাঁধন লঞ্চের অনুকূলে জারিকৃত সময়সূচি দেওয়া হয়েছে। এতে আমাদের কোম্পানিগুলোর লঞ্চকে আর্থিক সংকটে পড়তে হবে। দেখা যাবে একপর্যায়ে আমাদের কোম্পানির লঞ্চগুলো এই রুটে পরিচালনা করা সম্ভব হবে না।

সবুজবাগ আমতলী রুটের লঞ্চ ব্যবসায়ী মেসার্স এ আহম্মেদ শিপিং কর্পোরেশনের মালিক মামুনুর রশিদ বলেন, আমরা এমনিতেই এই রুটের লঞ্চ চালাতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। তারপরও আদালতে নিষেধাজ্ঞা আছে। এরপর বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ শতাব্দী বাঁধন লঞ্চটিকে সবুজবাগ আমতলীর রুটে সময়সূচি ও রুট পারমিট দিয়েছেন। এখন আমরা নিরীহ ব্যবসায়ীরা কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, মেসার্স হাজী ইকবাল হোসেন শিপিং লাইনসের মালিকের ক্ষমতা ও টাকার কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছি। এছাড়া তার লঞ্চ যখন সদরঘাটে পার্কিং করেন, কেরানীগঞ্জের কিছু নেতা-কর্মী এবং সদরঘাটের আমাদের লঞ্চের সামনে ব্যারিকেড দিয়ে তাদের লঞ্চে যাত্রী নিয়ে যান। এতে আমাদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। এখন আমাদের ব্যবসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যানের কাছে আমরা এর প্রতিকার চাই। 

এসব বিষয়ে জানতে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেককে মুঠোফোনে কল দিলে তিনি ফোন ধরেননি। খুদেবার্তা পাঠালে তার কোনো ফিরতি জবাব দেননি।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://www.dailyvorerpata.com/ad/dd.jpg
http://dailyvorerpata.com/ad/apon.jpg
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]