রোববার ২৬ জুন ২০২২ ১২ আষাঢ় ১৪২৯

শিরোনাম: সয়াবিন তেলের দাম কমলো    করোনায় আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর    করোনায় আরও ২ জনের মৃত্যু    নিউজিল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে থাকছে পাকিস্তান-বাংলাদেশ    পদ্মা সেতুতে নেমে ছবি তুললেই জরিমানা    তেলের দাম নিয়ে সুখবর দিলেন বাণিজ্য সচিব    পদ্মা সেতুর দুই প্রান্তে যানবাহনের দীর্ঘ সারি   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
কোন পথে দেশের রাজনীতি
উৎপল দাস ও আরিফুর রহমান
প্রকাশ: সোমবার, ১৬ মে, ২০২২, ১:১২ এএম আপডেট: ১৬.০৫.২০২২ ১:২৮ এএম | অনলাইন সংস্করণ

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এখনো ঢেড় বাকি। কিন্তু দেড় বছর আগেই দেশের রাজনীতিতে শুরু হয়ে গেছে নানা হিসাব-নিকাশ। বিএনপি ভোটে এলে একভাবে, না এলে আরেকভাবে নির্বাচনী ছক কষতে শুরু করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে বিএনপিও আছে নানা হিসাব-নিকাশ নিয়ে। দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় থাকা তাদের নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে চলছে টানাপড়েন। পারস্পরিক সম্পর্কে চিড় ধরেছে বিএনপির মিত্র দলগুলোর মধ্যেও। এসব বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে তৈরি ভোরের পাতার প্রতিবেদন। 


আ. লীগের ভাবনায় ভোট

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ১৪-দলীয় জোটকে আস্থায় রাখতে চায় । এ জন্য দেড় বছরের বেশি সময় বাকি থাকতেই জোটের শরিকদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আগামী নির্বাচনে জোটগতভাবে অংশ নেবে তারা। এর পেছনে দুটি কৌশল কাজ করেছে। প্রথমত, শরিকদের কেউ বিরোধী জোটে যাতে ভিড়ে না যায়, সেটা নিশ্চিত করতে চাইছে আওয়ামী লীগ। দ্বিতীয়ত, বিএনপিসহ বিরোধীরা নির্বাচন বর্জন করলে শরিকদের আলাদাভাবে ভোট করানোর কৌশল নেওয়া যাবে। ১৪-দলীয় জোটের প্রধান দল আওয়ামী লীগ এবং অন্য শরিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব বিষয় জানা গেছে।

গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রায় তিন বছর পর গত ১৫ মার্চ ১৪ দলের নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন জোটের প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি শরিকদের আশ্বাস দেন, আগামী নির্বাচনে জোটগতভাবেই অংশ নেবেন। এরপর ৭ মে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকেও জোটগতভাবে ভোটে অংশ নেওয়ার কথা জানান শেখ হাসিনা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ১৪ দলের বাইরে বাম ঘরানার অন্য দলগুলোকেও জোটে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা আছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের। সেটা সম্ভব না হলে নির্বাচনী সমঝোতার মাধ্যমে তাদের সরকারবিরোধী আন্দোলন থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করবে ক্ষমতাসীনরা। পাশাপাশি বিএনপিসহ বিরোধীরা ভোট বর্জন করলে তারা যাতে নির্বাচনে অংশ নেয়, সেটাও নিশ্চিত করতে চায় আওয়ামী লীগ।

তবে ১৪ দলের শরিক দলগুলোর দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, আওয়ামী লীগের কাছ থেকে জোটগত ভোটের আশ্বাস পেলেও সরকারের নীতিনির্ধারণী বিষয় কিংবা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় শরিকদের অংশগ্রহণ নেই। এ ছাড়া বিএনপিসহ বিরোধীরা নির্বাচন বর্জন করলে কী পরিস্থিতি হবে এ বিষয়ে এখনো আওয়ামী লীগ শরিকদের স্পষ্ট করেনি। শেষ মুহূর্তে শরিকদের বিরোধী দলের ভূমিকা নেওয়ার কথা বললে করণীয় কী হবে, সেটাও ভাবছে তারা। এ পরিস্থিতিতে তারা নিজ নিজ দল শক্তিশালী করার বিষয়ে মনোযোগ দিচ্ছেন। জোটগত ও আলাদা ভোট দুই পরিস্থিতির কথাই তাদের বিবেচনায় আছে।

১৪ দলের সূত্র জানায়, জোটগত ভোটের আশ্বাস পেলেও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও দুর্নীতি-অনিয়ম নিয়ে সমালোচনা অব্যাহত রাখবেন তারা। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করা এবং সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করার বিষয়েও জোটের শরিকরা বক্তব্য দেবেন সামনের দিনগুলোতে। আলাদা ভোট করা কিংবা প্রয়োজনে জোট ছাড়তে হলে যাতে বিরোধীদের কাছেও গুরুত্ব পাওয়া যায়, সেটা বিবেচনায় নিয়েই এ কৌশল নিয়েছেন শরিকরা।

তবে বিএনপিসহ সব দলই ভোটে অংশ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ জোটগতভাবেই ভোটে অংশ নেবে। আর বিএনপি বর্জন করলে কী হবে, তা সময়ই বলে দেবে।

জোট অটুট চায় আ.লীগ:
আগামী নির্বাচন ঘিরে বিএনপিসহ সরকারবিরোধীরা জোট সম্প্রসারণ ও কর্মসূচিভিত্তিক মিত্র তৈরির চেষ্টা করছে। অন্যদিকে একসঙ্গে ভোট করলেও বর্তমান সরকারে ১৪ দলের শরিকদের কোনো অংশীদারি নেই। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর জোটের রাজনৈতিক কার্যক্রমও প্রায় স্থবির। ফলে শরিকরা নির্বাচনী ব্যবস্থা, দুর্নীতি-অনিয়ম নিয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন। এ পরিস্থিতিতে শরিকদের কেউ কেউ বিরোধী জোটের দিকে যায় কি না, এ শঙ্কা দেখা দেয় আওয়ামী লীগে।

আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্র বলছে, ১৪ দলের শরিকদের বেশির ভাগেরই সাংগঠনিক শক্তি বলার মতো নয়। কিছু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক কারণে এই শরিকদের গুরুত্ব দেওয়া হয়। যেমন ১৪ দলের শরিক প্রায় সব দলই প্রগতিশীল ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে। অধিকাংশ দল পুরোনো এবং রাজনৈতিক-সামাজিক অঙ্গনে তাদের গুরুত্ব আছে।

বিএনপি না এলে যা হবে:
১৪ দলের শরিকরা বলছেন, বিএনপি নির্বাচন বর্জন করতে পারেÑ এমন ভাবনা নিয়ে আলোচনা আছে। কারণ, এবার ভোট বর্জন করলেও দলটির নিবন্ধন বাতিল হওয়ার আশঙ্কা নেই। এ পরিস্থিতিতে সরকারের সামনে দুটি চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে। প্রথমত, নিজেদের জোট ঠিক রাখা। দ্বিতীয়ত, বেশিসংখ্যক দলকে ভোটে আনার চেষ্টা করা।
১৪ দলের শরিক একটি দলের শীর্ষস্থানীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নির্বাচন এখনো অনেক দূরে। এর মধ্যে অনেক কিছুই হতে পারে। বিএনপিসহ অধিকাংশ দল ভোট বর্জন করলে দেশি-বিদেশি শক্তিগুলো নির্বাচনকে কিভাবে দেখে, সেটা একটা বড় বিবেচনার বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।
জোটের শরিক আরেকটি দলের দায়িত্বশীল নেতা বলেন, সাত বছর আন্দোলন করেও স্বৈরশাসক এইচ এম এরশাদের পতন হয়নি। তবে শেষ দিকে অল্প সময়ে অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন হয়ে যায়, এরশাদের পতন হয়। শ্রীলঙ্কায় বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েও রাজাপক্ষে সরকার টিকতে পারেনি। এক মাসের মধ্যে রাজাপক্ষে সরকারের পতন হয়েছে। তাই বাংলাদেশের সামনের নির্বাচনের আগে রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটা এখনই বলা যাবে না।

আছে আরো নানা হিসাব:
১৪ দলের শরিকদের সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ভেতরে-ভেতরে জোট সম্প্রসারণের চেষ্টা আছে। এটা জোটের শরিকদের এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। এর বাইরে ভোটের আগে নির্বাচনকালীন সরকার হবে। সেখানে জোটের শরিকরা থাকবে কি না, এটাও স্পষ্ট নয়। গত তিনটি নির্বাচনে জোটগতভাবে অংশ নিলেও ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, জাতীয় পার্টি (জেপি) ও তরীকত ফেডারেশনের বাইরে অন্য দল থেকে কেউ মনোনয়ন পাননি। এমন পরিস্থিতিতে শরীফ নূরুল আম্বিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাসদ জোট থেকে প্রায় বের হয়ে গেছে। তারা এখন আর জোটের কোনো কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে না। আগের তিনবার বঞ্চিত ব্যক্তিরা এবার মনোনয়নের আশায় আছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের একজন দায়িত্বশীল নেতা বলেন, বর্তমান সরকারে স্থান না দেওয়ায় জোটের শরিকরা খুব একটা খুশি নয়। আগামী নির্বাচনে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে। জোট টিকিয়ে রাখাও জরুরি।

১৪ দলের শরিক ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, জোটগতভাবে ভোটের আশ্বাস পেয়েছেন তারা। তবে ভোটের আগে রাজনৈতিক আরো অনেক বিষয় সুরাহা করতে হবে। তিনি জানান, ভোট যেভাবেই হোক, তারা দল শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়েছেন।


ঐক্য নিয়ে চিন্তায় বিএনপি

নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে বৃহত্তর সর্বদলীয় ঐক্য গড়ার ঘোষণা দিলেও এখনো এর ভিত্তি গড়তে পারেনি বিএনপি। উল্টো দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় থাকা বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টেও চিড় ধরেছে। এই দুই জোটে থাকা দুটি দল ইতিমধ্যে পৃথক রাজনৈতিক জোট গঠনের কাজ শুরু করেছে। সরকারবিরোধী বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার যে প্রক্রিয়া বিএনপি শুরু করেছে, তা এ পর্যন্ত খুব একটা এগোয়নি।
তবে বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, ‘এই সরকারের অধীন নির্বাচন নয়’Ñ এই এক দফা দাবিতে রাজপথে সর্বদলীয় ঐক্য গড়ার যে চেষ্টা তারা করছেন, সেটি সক্রিয় আছে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ২০-দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিকরাসহ ৩০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নেতাদের আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় সবাই একমত পোষণ করেছে, নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তী সরকার ছাড়া বর্তমান সরকারের অধীনে কেউ নির্বাচনে যাবে না। এটাকে ভিত্তি ধরেই একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য গড়ার চেষ্টা এগিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এ সপ্তাহ থেকে ঐক্য প্রক্রিয়ার কাজ আবার শুরু করবে বিএনপি। দলের স্থায়ী কমিটির আগামী বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। বিএনপির বৃহত্তর ঐক্য প্রচেষ্টার মধ্যেই পাঁচটি দল ও দুটি সংগঠন নতুন রাজনৈতিক ‘মোর্চা’ গঠনে বৈঠক করেছে, যাদের অধিকাংশের সঙ্গে বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের আলোচনা চলছিল। দলগুলো হচ্ছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি আন্দোলন, গণ-অধিকার পরিষদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি। সংগঠন দুটি হচ্ছে ভাসানী অনুসারী পরিষদ ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। এর মধ্যে আ স ম আবদুর রবের দল জেএসডি ও মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক। বিএনপির ঐক্য প্রক্রিয়ার মধ্যেই এই সাতটি দল ও সংগঠনের জোটবদ্ধ হওয়া নিয়ে সরকারবিরোধী বিভিন্ন দলের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া আছে। জোটবদ্ধ হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা এই সাত দল ও সংগঠন ২৩ মে বৈঠক করে তাদের কর্মসূচি নির্ধারণ করবে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘আমরা একটি বৃহত্তর ঐক্য গড়ার লক্ষ্যেই এটা (সাত দল ও সংগঠন মোর্চা) শুরু করেছি। তবে এটা কোনোভাবেই বিএনপির জোটের প্রতিস্থাপন নয়।’
বিএনপির নেতারা বলছেন, বামসহ কয়েকটি দলের নতুন ‘রাজনৈতিক মঞ্চ’ তৈরির প্রক্রিয়াকে তারা ইতিবাচকভাবেই দেখছেন। তারা মনে করেন, এখানে দেখার বিষয় একটিই, সেটা হচ্ছে যে যা-ই করুক, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এক আছে কি না, তা। এ ক্ষেত্রে সাত দল ও সংগঠনের নেতারা স্পষ্ট করে বলেছেন, এই সরকারের অধীনে তারা নির্বাচনে যাবেন না, এ বিষয়ে সবাই একমত। তারা এটাও বলেছেন, বর্তমান সরকারের পদত্যাগ এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সরকারবিরোধী দলগুলোর সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন গড়ে তোলা জরুরি।

এদিকে নানা রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের কারণে ২০-দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গেও দূরত্ব রাখছে বিএনপি। সম্পর্কের টানাপোড়েন আছে জোটের শরিক কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমের বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির সঙ্গেও। বিশেষ করে দুই ভাগে বিভক্ত এলডিপির আবদুল করিম আব্বাসী ও শাহাদাত হোসেন সেলিমের নেতৃত্বাধীন অংশের সঙ্গে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সখ্য ও যোগাযোগ রয়েছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার অলি আহমদের এলডিপি থেকে দুই শতাধিক নেতার একযোগে পদত্যাগ করে শাহাদাত হোসেন সেলিমের এলডিপিতে যোগদানের ঘটনা ২০-দলীয় জোটে অলি আহমদকে আরো বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছে।

বিএনপির নেতারা মনে করছেন, এই সরকারের অধীন নির্বাচন নয়Ñ এটাকে লক্ষ্য ধরে ইতিমধ্যে সরকারবিরোধী বিভিন্ন দলের মধ্যে অলিখিত মতৈক্য দৃশ্যমান হয়েছে। এই লক্ষ্যকে সংহত করার জন্য দলের নীতিনির্ধারকরা কর্মপরিকল্পনা করছেন।



বিএনপির হয়ে বৃহত্তর ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে বলেই তো সবাই জাতীয় ঐকমত্যের দিকে এগোচ্ছে। এখন সবাই বলছে, বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে না, অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে। মূল জায়গায় সবাই যখন এক হয়েছে, বাকিটাও হয়ে যাবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, একটি নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তী সরকারের অধীন গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং নির্বাচনের পর রাষ্ট্র মেরামতের কর্মসূচির বিষয়ে ঐকমত্যে আসা দলগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক অঙ্গীকার বা চুক্তিতে যাবে বিএনপি। এর ভিত্তিতেই রাজপথে সরকারবিরোধী দলগুলোর সঙ্গে একটি বৃহত্তর ঐক্য স্থাপিত হবে বলে মনে করছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকরা। এ কারণে পুরোনো দুই মিত্রজোটকে নিষ্ক্রিয় রাখা হয়েছে। এই মুহূর্তে ঘটা করে সরকারবিরোধী বৃহত্তর রাজনৈতিক জোট গড়া তাদের লক্ষ্য নয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতা বলেন, বিএনপি কীভাবে ঐক্য চায়, কাদের নিয়ে চায়, এটা এখনো পরিষ্কার নয়।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://dailyvorerpata.com/ad/apon.jpg
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]