সোমবার ২৮ নভেম্বর ২০২২ ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

শিরোনাম: প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ফল ১৪ ডিসেম্বর    বিএনপির সমাবেশকে ঘিরে পরিবহন ধর্মঘট না ডাকার আহ্বান কাদেরের    শতভাগ পাস ২৯৭৫ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, ৫০টিতে সবাই ফেল    সংঘাত-দুর্যোগের সময় নারীদের দুর্দশা বহুগুণ বেড়ে যায়: প্রধানমন্ত্রী    এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেলো ২ লাখ ৬৯ হাজার শিক্ষার্থী    এসএসসি ও সমমানে পাসের হার ৮৭.৪৪ শতাংশ    এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
রাগীব হাসানের দশটি কবিতা
রাগীব হাসান
প্রকাশ: শনিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২২, ৫:০৯ পিএম আপডেট: ৩০.০৪.২০২২ ৫:১৮ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

দস্তানা

নেমে গেলে¾ দস্তানা কোথাও পড়ে আছে।
রাত্রির শরীরে ক্ষত এঁকে দেয় অগ্নি-স্ফুলিং¾ বাজার নিস্তব্দ।
শরতের মেঘ উড়ে উড়ে যায়
শরতের মেঘ উড়ে উড়ে যায় সুদর্শনদের বাড়ির পেছনে
বাঁশঝপের দিকে, যে নি:সঙ্গ একাকী জটাধারি
ঘুমায়, কাঠের গুঁড়ো পড়ে আছে চত্বরজুড়ে
তার মথিত স্বপ্নের হ্রদের গুল্মরাজির
উপর দিয়ে ভেসে গেল শরৎমেঘ।

নেমে গেলে অরণ্যতক্ষক দেখবে বলে যা
কালগর্ভের নিরীক্ষক বাতাবি লেবুর ধর্মচ্যুত হওয়ার ঘটনা জানে।
নেমে গেলে সেই দীপাধারের দিকে, যা ভাস ছিল সরোবরে,
স্রোতধ্বনি নক্ষত্রপুঞ্জের সঙ্গে মিশে যাবার আগে তাকিয়ে দেখে
অরণ্যতক্ষক, রাত্রিররঙ, সরোবর, দূরের হর্ম্যরাজি
মার্বেল চোখে চেয়ে চেয়ে দেখছে।

চতুরপাশে

চতুরপাশ থেকে জ্ঞানকণা ছিটকে পড়ে
সুউচ্চ তোরণ, শোভাযাত্রার উপর
আকাশমঞ্জরি
রক্তমেঘস্রোত
শালবন, শালবনের গোল পত্রালী
উরুঘেষে বসে আছে ত্রিযামিনী
               ময়ূরের কেকারব 
অলংকৃত স্তম্ভ, দুর্গচূড়া দূরে জেগে আছে
অনির্বাণ ধরিত্রীপুত্র আপনাকে বুঝতে চাইছি
জানেন কি,
আমাদের অনির্বাণ শিখা আছে, দাউ দাউ জ্বলে
শিখা, বসন্তপুর থেকে শ্বশুড়বাড়ি থেকে বেড়াতে এসেছে
নিজেদের বাড়ি, ওর দুটি শিশু সন্তান, দৌড়াচ্ছে

লালমনিরহাট

শাশ্বত পুড়ে যায় চিরদিন
গন্ধর্বের মুখের পানে চেয়ে থেকেছ
ডুমুর গাছের চাঁদ
সূর্য ডুবে এলে
গবাদিপশুর দল ফিরে আসে

ধ্বজাধারি, জ্ঞান পুড়িয়ে মারো, শাশ্বত কেঁদে ওঠে
শাশ্বতের আলো খুন করে তৃপ্ত হও!
জানালা খুলে রাখো দেখ
ট্রাক্টারের ওপর চাঁদের তৃণ ঝুলে আছে
লালমনিরহাট, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়
আনারস ক্ষেত শোক-মুহ্যমান হয়ে আছে
শাশ্বত তুমি কি প্রধানশিক্ষায়ত্রীর মেয়ে ?
তোমাকে আরএসকে হাইস্কুলের সামনে দেখেছি,
অনতিদূরে শাদা গির্জার সামনে মুদির দোকানের
ঝাপের নিচে দাঁড়িয়ে ছিলে,
বসন্তের অলংকৃত শাড়ি পরে ঘুরলে ভীষণ
চিরদিন জানালার পাশে দেবদারুর  মাথায় জেগে থাকে
জিরাফের গ্রীবার মতোন চাঁদ
হিরণ্যগর্ভ থেকে নিষ্ক্রান্ত হয়ে কেউ সেই চাঁদ
শাশ্বতের কপালে টিপ করে দেয়; জঙ্গলের দানব এসে
আমাদের শাশ্বত আর চিরদিনকে লুটে নিতে চায়।

ধ্রবতারা

সেতুর নিচের নিস্তব্দ ও পাথর, স্রোতরেখা, তরঙ্গ ফিরে
আসবে কখন ? হাওয়া এলেই বুঝি।
বাজারে আয়নার সামনে বসে আছে 
ইঞ্জিনশকটে চড়ে আসা কৃষক, তার চেহারা থেকে
ফুটে উঠছে ভীষণ আলো,
ফিরে যাবে যুথবদ্ধ¾ শস্য উৎপাদনের সুতীব্র আকাক্সক্ষা নিয়ে 
সেতুর ওপরে খেলে শিশুরা ভবিষ্যৎ

আকাশপথে  ধ্রবতারা উড়ে গেল, তার ধাতবডানা
ধানক্ষেত পার হয়ে যায়
লিচু বাগান বিস্ফার চোখে দেখে আকাশগঙ্গা পারি দেওয়া

গন্ধরাজ

গন্ধরাজ, আখক্ষেতে দাঁড়িয়ে তোলা আলোকচিত্র
মনে করিয়ে দিল মধুখালী চিনিকলের কথা
তখন ছিল শীত, ওই ভোরে উঠে গিয়েছিলাম
স্ত্রি করা পোশাক পরে শহীদ বেদির সামনে
                   তখন রোদ উঠেছে চারদিকে
শীতের রক্তবর্ণ ফুল ফুটে ছিল কি ডালে মনে নেই
আখক্ষেতে দাঁড়িয়ে তোলা আলোকচিত্র, ফটো
কে রেখে দিয়ে ছিল সযত্নে কাছে,
তার নাম জানি না, কৃতজ্ঞ তবে
মধুখালী চিনিকল, আখক্ষেত পাশে নিয়ে
শীতে অবরোহে জানাল অভ্যর্থনা বিদ্যার্থীদের
বিদ্যার্থীদের টুরিস্ট সেজে
দেখতে হয় জগৎ- কোথায় বিস্ময় ঝুলে আছে!
স্মরণীয় পঙক্তির মতো যাত্রাপথে দেখা হয়
বাসের জানালা থেকে প্যাগোডা, পাত খসে পড়া মিনার
কণিকার গান ভেসে এল কোন জানলা থেকে
বোঝাতো গেল না একটুও, বকুল
তুই কী বুঝতে পেরেছিলি?
অথবা বুঝে ছিল অন্যরা,
শিক্ষক-শিক্ষিকারা? পর্তুগিজ পোশাকে
মেঘ উড়ে উড়ে গেল, অসম্প্রদায়িক যশোরেশ্বরীর দিকে
গীত আচার্য 
এই ভূমণ্ডলে পতাকা তুলে রয়েছে
গন্ধরাজ, গৃধিনীর পালকে লিখে দাও। সূর্য উড়ছে, 
ত্রিবেণী উড়ছে

মানুষের মুখে

শূন্য খিলান-ব্যথা, বাষ্প গোল হয়ে পুষ্পরেখায় ফুটে ওঠে
তার যাবার রাস্তা গ্রীষ্মতাপে কাঁপছে
তার যাবার রাস্তা অস্পষ্ট
পত্ররেখারা ঢেকে রেখেছে
জুতা কারখানার অস্পষ্ট শব্দ-ধ্বনি ভেসে আসে
দেখা যায় শূন্য খিলান, মেঘ, জেট বিমান,
রাতে মাজার শরীফ¾ তোরণ¾হু হু বাতাসে কেঁপে উঠছে
চৈতন্য জড় হয়। বালুর স্তূপ¾পাশে খামার, প্যাগোডা
রাস্তা সুদীর্ঘ, তোরণ দেখা যায় মাঝেমাঝে।
মাছ বাজারের বরফ গলে গেছে
হাওয়া কস্তুরি সোনাঝুরি গাছ দুলে ওঠে
রক্তমাখা তীর ছুটে যায় কোন দিকে ?
কম্পন ফিরে ফিরে আসে, সে দাঁড়ায় শূন্য খিলানের নিচে, জুতা কারখানার
অস্পষ্ট শব্দ-ধ্বনি পাওয়া যায়, অলৌকিক রেখা পুস্তকে
মানুষের মুখে

ছেঁড়াপৃষ্ঠা

হলুদবন¾ সম্মুখে গির্জা। জীবতারা হেঁটে যায়
মাইল মাইল পথ, চিন্তা মৃত্তিকাবর্ণ, মদ স্তব ওই দাঁড়িয়ে থেকে
দারুশিল্প, প্রত্যক্ষ থলথলে আকাশ
ওই হর্ষধ্বনি নিভে যাবে।
তামাটে মুখ ফিরে যায়, হিমরেঁস্তরার আলো ফুটপাথে এসে পড়েছে
হলুদবন ঘনতমসা শ্রাবণমঞ্জরি
স্বর্গে শিস দেয় কোন পাখি, প্রেসের ছেঁড়া পৃষ্ঠা পড়ে রয়েছে
কে উঠিয়ে নেয় ? 

তারকারাজি

ধ্বংসাবশেষের ওপর নেমে আসে স্ফুত তারারা
রঙচঙা পোশাক জানে শকটের ধ্বনি শ্বেতমর্মে বিঁধে যেত, প্রাচীর
কেঁপে উঠত, নয়নতারা কি ত্রস্ত হত না ?
তরবারির জ্ঞান ধুলায় মুখ ঢেকে আছে,
বুরুজে যে একফালি আলো পড়ে আছে,
তার অহং বাড়িয়ে দেয় কার হাতের রঙ ?
এই শীতের ভেতরে ছুটে গেল নৈশ ট্রেন
কুয়াশায় ডুবে আছে ধানখেত, বুদ্ধমূর্তি, দেবদারুবন, খলিফা পট্টি। লাল পুস্তক,
বহু সংশোধন শেষে জেগে ওঠে তারকারাজি, স্ফুত তাঁবু, সিংহদুয়ার।

বাঁকাপথ

যে পথ বাঁকা, সেখানে দেখা যায়
চিরবৃষ্টি মুখে নিয়ে একটি গাছ উজ্জ্বল নতমুখ
তার পালকেরা ডানারা উড়ছে হাওয়ায়

পুব দক্ষিণ পশ্চিম পাশের জানলা থেকে
অনেক রকমের বক্রোক্তি ছুটে আসে।
ভ্রুভঙ্গের সেই চিত্রকলা ছিল কি হৃদয়হীনা ?
তীরধনুক, কোন লক্ষ্য নিয়ে বাতাস ছিঁড়ে
ছুটছ, বাঁকা পথে দাঁড়িয়ে থাকা
চিরবৃষ্টি মুখে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাক গাছকে
বিদ্ধ করবে বলে, তার সবুজডানা
সবুজ পালকেরা যেসব চিত্রার্পিত ধরে রাখে
তাতে কিসের স্রোত বয়, ঘোড়ার
খুরের ধূলি মিশে রয়েছে ?

তোমাদের ভ্রুভঙ্গের নাচ,
রঙিন পোশাক প্রচণ্ড বৃষ্টিতে ভিজে গেল
মনের মধ্যে কি ইচ্ছে আকাক্সক্ষা জাগল
ওই বাঁকাপথের গাছের সঙ্গে
বন্ধুত্ব পাতি, চোখে চোখ স্থাপন করে কথাবলি

গাছটি সারারাত জেগেই থাকে
তার অভিমুখিতা কি, এই নিয়ে কারবার
এই বসন্তরাজ কতটা কৌতুক করে চলে গেল, গ্রীষ্মের
জলসেচ কতটা স্রোতধারা নিয়ে ছুটে যায় ধানক্ষেতের পানে
বিকালের ধূলি উড়াতে উড়াতে  গবাদিপশুর দল
ফিরে এল ধূলি-ধূসর রাখাল ফিরে এল



বাঁকাপথের গাছ, যার একপাশে গবাক্ষ,
সে দগ্ধ হতে হতে গ্রহবীজের রক্তক্ষরণ
আর দগ্ধ হবার কথাও স্মরণ করে
তার পাতাজুড়ে স্মরণচিহ্ন হা-মুখ করে থাকে,
সেই স্মরণগুল্মচিহ্নকে দোলায় গোপনে জেগে ওঠা বাতাস।

আনন্দপ্রকাশরীতি

ছায়াপথে ঘুরছে যে পশমের বল
তাকে ছুঁয়ে কার শান্তি নেমে এল ?
হঠাৎ কখনও দুপুরকে স্পর্শ করে দেখনি 
ঝমঝম দুপুর, সে খুঁজে ফিরছে একটা স্বর্ণরঙের পাতা
কারুকাজ করা মুখ, মুখের গঠন।
পুকুরের জলের দিকে ঝুঁকে রয়েছে সূর্য,
সূর্যের খরতাপ আপেলের মেধাকে দৈবতায় ভরে দেয়।
বেতার ভবনের সামনে গাছেদের ছায়া জানে
তরঙ্গে সংবাদ কণিকা ডানা মেলে উড়ে গেল
তোমার হাতে ছিল বজ্রবিদ্যুতে পুড়ে যাওয়া
একটি ডাল-শাখা, প্রবন্ধগুচ্ছ।

পরিশেষে বৃত্তের চারিদিকে নক্ষত্ররা জ্বলে উঠল
শীতঋতু, সংগোপনে যুথচারী যুবকেরা
কোথায় গেল, তরঙ্গরেখা
ছুঁয়ে কখন ফিরে এসে ছিল তারা, সবাই
কি এসে ছিল, আকাশপথে
উড়ে যাবার জন্য এই কষ্ট ক্লিষ্টমুখ ভিড়
কাঁটাতার
সঙ্গীন উঁচানো তপ্তলৌহকণিকা
এবার শান্ত বৃষ্টিপাত নেমে যাক, গুল্ফার হর্ষে
বৃষ্টিরা গানবাজনা করে যাক
বৃষ্টিদের প্রতীতিদের ওষ্ঠ চেপে প্রকাশ্যে
নয়নতারা জানাল এই তার আনন্দপ্রকাশরীতি

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://www.dailyvorerpata.com/ad/dd.jpg
http://dailyvorerpata.com/ad/apon.jpg
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]