মঙ্গলবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২ আশ্বিন ১৪২৯

শিরোনাম: করোনায় একজনের মৃত্যু    শিনজো আবের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন    বৈশ্বিক সংকট নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চায় বিএনপি: কাদের    ট্রফি ভেঙে ফেলা সেই ইউএনওকে ঢাকায় বদলি    পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি: মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৬৬    আগামী ৫ দিনে বৃষ্টিপাত বাড়ার আভাস দিল আবহাওয়া অফিস    পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর তারিখ ঘোষণা   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
মার্চ মানে বঙ্গবন্ধু আর বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ
#বঙ্গবন্ধুর ভাষণ আমাদের অনন্তকাল উজ্জীবিত রাখবে: ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ। #বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না: ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল। #মার্চ মাসের প্রতিটা দিনই এক একটি ইতিহাস: কে এম লোকমান হোসেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩ মার্চ, ২০২২, ১০:২৩ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বছরের প্রত্যেকটা মাসই অনেক গুরুত্ববহ। এরমধ্যে মার্চ মাসেই সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটেছে। যদি এই মাসের কোনো একটি ঘটনা সংঘটিত না হতো তাহলে বাঙালি স্বাধীনতা পেতো না। আমাদের মহান স্বাধীনতা দিবস ও ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণ আমাদেরকে অনন্তকাল ধরে উজ্জীবিত করবে। 



দৈনিক ভোরের পাতার নিয়মিত আয়োজন ভোরের পাতা সংলাপের ৬৩২তম পর্বে বৃহস্পতিবার এসব কথা বলেন আলোচকরা। ভোরের পাতা সম্পাদক ও প্রকাশক ড. কাজী এরতেজা হাসানের নির্দেশনা ও পরিকল্পনায় অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন-  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক, জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ পরিষদের (জানিপপ) চেয়ারম্যান ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে লিভার বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল, সর্ব ইউরোপীয় আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি, ইতালি বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম নির্বাচিত সভাপতি কে এম লোকমান হোসেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাবেক তথ্য সচিব নাসির উদ্দিন আহমেদ।

ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ বলেন, আমাদের মহান স্বাধীনতা দিবস এবং ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণ আমাদেরকে অনন্তকাল ধরে উজ্জীবিত করবে। ৭ মার্চের ভাষণ শুনে আমরা সব সময় আন্দলিত হয়। এই ভাষণকে আমরা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ভাষণ বলে মনে করি। তার এই ভাষণ শুধু আমাদের বাংলাদেশেই নই, শুধু এই উপমহাদেশেই নয় বরং সমগ্র বিশ্বে এই ভাষণটি অনন্য সাধারণ ভাষণের মর্যাদা লাভ করেছে। আমরা জানি যে তৎকালীন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অপারেশন সার্চ লাইটের মাধ্যমে বাঙালি জাতির উপর দমন, নিপীড়ন ও হত্যাযজ্ঞের খেলায় মেতে উঠে। এই যে বিশ্বাসঘাতকতা পাকহানাদার বাহিনী আমাদের সাথে করেছিল, তা মূলত আমাদের অহঙ্কবোধকে জাগ্রত করে। জাতির পিতার আহ্বানে সাড়া দিয়ে অপামর জনসাধারণ মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিড়ে পরে।  বঙ্গবন্ধু তখন গ্রেফতার হওয়ার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে তার সর্বশেষ বাণী বাংলার মানুষের কাছে পাঠান এই বলে, ‘এই হয়তো তোমাদের জন্য আমার শেষ বাণী। আজকে থেকে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ। যে যেখানেই থেকে থাক, যে অবস্থায়ই থাক, হাতে যার যা আছে তাই নিয়ে দখলদার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত প্রতিরোধ গড়ে তোল। ততদিন পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে, যতদিন পর্যন্ত না দখলদার পাকিস্তানিদের শেষ সৈনিকটি বাংলাদেশের মাটিতে থেকে বহিষ্কৃত হচ্ছে এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হচ্ছে।’

অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বছরের প্রত্যেকটা মাসই অনেক গুরুত্ববহ। এরমধ্যে মার্চ মাসেই সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটেছে। এই মাসের কোন একটি ঘটনা সংঘটিত না হলে বাঙালি স্বাধীনতা পেতো না। মার্চ মাসের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর জন্ম। তিনি এমন একজন মহাপুরুষ যিনি এই বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা ও এই বাঙালি জাতির একটি কাঠামো তৈরি করে গিয়েছিলেন। বাংলাদেশের যত উল্লেখযোগ্য কিছু রয়েছে তার মূলেই রয়েছে বঙ্গবন্ধু। এই মার্চ মাসে যদি বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হতো তাহলে এই  স্বাধীন বাংলাদেশেরও জন্ম হতো না। আবার বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ৭ মার্চের ভাষণ শুধু একটি ভাষণই নয় বরণ তার থেকে অনেক বড় কিছু। এটি বাঙালির মুক্তির সনদ। সুতরাং এটা নিয়ে কোন দ্বিমত পোষণ করার সুযোগ নেই। মার্চের আরও দুটি ঘটনা হচ্ছে ২৫ মার্চ ও ২৬ মার্চ। ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানিরা বাঙালির কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার লক্ষ্যে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে বাঙালি নিধনে নামে। ঢাকার রাস্তায় সৈন্যরা নির্বিচারে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ছাত্র-শিক্ষককে হত্যা করে।

কে এম লোকমান হোসেন বলেন, বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের সাক্ষী অগ্নিঝরা মার্চ। ১৯৭১ সালের এই মাসে তীব্র আন্দোলনের পরিণতিতে শুরু হয় মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ। আসলে মার্চ মাসের প্রতিটা দিনই এক একটি ইতিহাস। বাংলার আন্দোলন সংগ্রামের ঘটনাবহুল ও বেদনাবিধুর স্মৃতি বিজড়িত ১৯৭১-এর এই মার্চ মাসেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে শুরু হয় অসহযোগ আন্দোলন। পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে দীর্ঘ ২৩ বছরের আন্দোলন সংগ্রামের চূড়ান্ত পর্বে এসে শুরু হয় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বিশ্ব মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটেছিল বাংলাদেশ নামক স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা হলেও চূড়ান্ত আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল একাত্তরের ১ মার্চ থেকেই। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ‘অপারশেন সার্চলাইট’র নামে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর আক্রমণ চালায়। রক্তের বন্যা বইয়ে দেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীজুড়ে। এ অন্যায়ের প্রতিরোধেই শুরু হয় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। লাখো শহীদের রক্ত ও অসংখ্য মা-বোনের সম্ভ্রম ও ত্যাগের বিনিময়ে ৯ মাস পর ধরা দেয় বিজয়ের নতুন সূর্য।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://dailyvorerpata.com/ad/apon.jpg
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]