মঙ্গলবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২ আশ্বিন ১৪২৯

শিরোনাম: করোনায় একজনের মৃত্যু    শিনজো আবের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন    বৈশ্বিক সংকট নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চায় বিএনপি: কাদের    ট্রফি ভেঙে ফেলা সেই ইউএনওকে ঢাকায় বদলি    পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি: মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৬৬    আগামী ৫ দিনে বৃষ্টিপাত বাড়ার আভাস দিল আবহাওয়া অফিস    পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর তারিখ ঘোষণা   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
সবজির দাম বেড়েছে
ভোরের পাতা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২২, ১১:৪১ এএম | অনলাইন সংস্করণ

শীতের মৌসুমে বাজারে আসা সবজির দাম সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারগুলোতে দাম বেড়েছে।


শুক্রবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মহাখালী কাঁচাবাজার, খিলক্ষেত বাজার, আজিমপুর কাঁচাবাজার ও হজ্জ ক্যাম্পের মুক্তিযোদ্ধা কাঁচা বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা ছোট ফুলকপির পিস বিক্রি করছেন ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। আর বড় ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগে ছোট ফুলকপি ৩০ টাকা এবং বড় ফুলকপি ৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছিল।

ফুলকপির পাশাপাশি দাম বেড়েছে পাকা টমেটোর। এক সপ্তাহ আগে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া পাকা টমেটো এখন ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। বাছাই করা ভালো মানের পাকা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৪০ টাকা।

দাম বাড়ার এ তালিকায় রয়েছে বেগুন। সপ্তাহের ব্যবধানে বেগুনের দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। শিমের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে শিমের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

তবে গাজরের দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। এতে এখন প্রতি কেজি গাজর বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ২০ থেকে ৩০ টাকা। করলার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৬০ থেকে ৭০ টাকা।

বাজারে নতুন আসা পুঁইশাকের মেচড়ি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি। শালগমের (ওলকপি) কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। লাউয়ের পিস বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। লালশাকের আঁটি ১০ থেকে ১৫ টাকা, পালংশাকের আঁটি বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে এসব সবজি ও শাকের দামে খুব একটা হেরফের হয়নি।

সবজির দামের বিষয়ে কারওয়ানবাজারের ব্যবসায়ী মো. মনির বলেন, আস্তে আস্তে শিম, ফুলকপি, পাকা টমেটোর সরবরাহ কমে আসছে। তাছাড়া বৃষ্টিতে কিছু সবজি নষ্ট হয়েছে। এ কারণে সবজির দাম বেড়েছে। আমাদের ধারণা সামনে সবজির দাম আর কমবে না বরং এখন দিন যত যাবে সবজির দাম বাড়বে।

খিলগাঁওয়ের ব্যবসায়ী রতন মিয়া বলেন, এক সপ্তাহে আগে যে ফুলকপি ৩০ টাকা বিক্রি করেছি, সেই ফুলকপি আজ ৩৭ টাকা পিস কিনে এনেছি। বিক্রি করছি ৪০ টাকা পিস। শুধু ফুলকপি নয়, আড়তে সব ধরনের সবজির দাম বেড়ে গেছে।

কারওয়ানবাজার থেকে সবজি কেনা মিজানুর রহমান বলেন, বাজারে সবকিছুর দাম অস্বাভাবিক। চাল, তেল, চিনি কোনো কিছু ক্রেতাদের নাগালে নেই। এখন সবজির দাম বাড়তে শুরু করেছে। বাজারে ভরপুর সবজি রয়েছে অথচ সবকিছুর দাম অস্বাভাবিক। এই ভরা মৌসুমে এতদামে সবজি কিনে খেতে হবে আগে কখনো ভাবিনি।

রামপুরা বাজার থেকে সবজি কেনা সফুরা বেগম বলেন, বাজারে ১০০ টাকা নিয়ে গেলে তেমন কোনো সবজি কেনা যায় না। দুটি সবজি কিনলেই টাকা শেষ হয়ে যায়। বেশিরভাগ সবজির দাম ৫০ টাকার ওপরে। এই সময়ে সবজির এত দাম হবে কেন?

তিনি বলেন, জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বাড়ছে তাতে আমাদের মতো গরিব মানুষ অনেক কষ্টে আছে। আমাদের সংসার কীভাবে চলছে তা শুধু আমরাই জানি। আমাদের কষ্ট কেউ দেখে না। প্রতিনিয়ত খরচ বাড়ছে, কিন্তু আয় তো বাড়ছে না।

বাজারে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৪৬ থেকে ১৫৩ টাকা লিটার। গত সপ্তাহে ছিল ১৪৩ থেকে ১৪৮ টাকা, বোতলজাত বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬৫ টাকায়, গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়, খোলা পাম অয়েল প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে  ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা লিটার, গত সপ্তাহে ছিল ১৩২ থেকে ১৩৬ টাকা এবং  পাম অয়েল সুপার বিক্রি হচ্ছে ১৩৮ থেকে ১৪২ টাকা লিটার গত সপ্তাহে ছিল ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা লিটার।

এদিকে দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ব্রয়লার মুরগির। বাজারে প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে  ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায়, সোনালী মুরগি ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, লেয়ার ২২০ থেকে ২২৫, দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৪৯০ থেকে ৫৩০ টাকা কেজি। দাম বেড়েছে গরুর মাংসের। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৮০ থেকে ৬২০ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ৫৬০ থেকে ৬০০ টাকা, খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০-৯০০ টাকা কেজি। প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০-১১৫ টাকায়।

দাম অপরিবর্তিত রয়েছে মাছেরও। বাজারে প্রতি কেজি রুই ও কাতলা মাছ সর্বোচ্চ ৪৫০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে, টাকি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকায় , শোল ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তেলাপিয়া ও পাঙ্গাশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৭০ টাকা কেজি। নলা মাছ ২০০ ও চিংড়ি ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া আকারভেদে  ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ১২০০ টাকা পযর্ন্ত।

কেজিতে ৩টাকা বেড়েছে আলুর দাম। বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকা, গত সপ্তাহে বিক্রি ছিল ১২ থেকে ১৮ টাকা, দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩৫ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ২০-২৫ টাকা, আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ৪০  থেকে ৬০ টাকা, আমদানি করা রসুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকা, দেশি আদা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১২০ টাকা, শুকনো মরিচ ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি বিক্রি করতে দেখা গেছে।



দাম কমেছে মোটা চালের তবে বেড়েছে মাঝারি চালের দাম। বাজারে প্রতি কেজি মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৪ থেকে ৪৮ টাকা, গত সপ্তাহে বিক্রি ছিল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা,  মাঝারি মানের চাল ৫০ থেকে ৫৮ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ৫০ থেকে ৫৬ টাকা, চিকন চাল বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৮ টাকা, খোলা আটা বিক্রি হচ্ছে ৩৩ থেকে ৩৬ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ৩৫ থেকে ৩৮ টাকা, প্যাকেটজাত বিক্রি হচ্ছে ৪০- ৪৫ টাকা। খোলা ময়দা বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল  ৪৫ থেকে ৪৮ টাকা এবং প্যাকেটজাত বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি।



ভোরের পাতা/কে 

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://dailyvorerpata.com/ad/apon.jpg
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]