সোমবার ১৭ জানুয়ারি ২০২২ ২ মাঘ ১৪২৮

শিরোনাম: ইভিএম চুরির বাক্স, ফলাফল কোনোভাবে মেনে নিতে পারি না: তৈমুর    শাবিপ্রবি বন্ধ ঘোষণা, সেই প্রভোস্টের পদত্যাগ    টাঙ্গাইল-৭ আসনের উপনির্বাচনে নৌকার প্রার্থী বিজয়ী    আইভীর হ্যাটট্রিক জয়     শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ-সাউন্ড গ্রেনেড হামলা, আহত ৩০    নাসিকে ৫০ শতাংশ ভোট পড়েছে: ইসি সচিব    নাসিক নির্বাচন: ১১৬ কেন্দ্রের ফল   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
পাহাড়ে হানিকুইনে হাঁসির ঝিলিক
জামালুদ্দিন হাওলাদার, চট্টগ্রাম থেকে
প্রকাশ: রোববার, ৯ জানুয়ারি, ২০২২, ৭:২১ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

পার্বত্য রাঙামাটির নানিয়ারচরের বিস্তৃর্ণ পাহাড় জুড়ে যেন লেগে আছে হানিকুইনের হাঁসির ঝিলিক।  জ্যৈষ্ঠমাস আনারসের মাস হলেও এই জেলার নানিয়ারচরে উৎপাদিত হচ্ছে উচ্চ ফলনশীল হানিকুইন নামক আগাম জাতের আনারস। যা দেশের অন্য কোথাও ফলন পাওয়া যাওয়ার কথা দেশের কৃষি বিভাগও জানাতে পারেনি।  

জনশ্রুতি রয়েছে, তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে পার্বত্য রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলা হচ্ছে আনারসের জন্মস্থান। আবার অনেকে বলে আনারসের রাজধানী। এই জেলার ১০ উপজেলার মধ্যে নানিয়ারচর উপজেলা আনারসের জন্য বিখ্যাত। উপজেলার প্রায় ৬০ভাগ মানুষ আনারসের আবাদ করে থাকেন।

স্থানীয়রা জানান, সবচেয়ে বেশি আনারসের চাষ করা হয় বাঙালি জনবসতি এলাকায়। আর এ আনারসের চাষ করে স্বাবলম্ভী হয়েছে ওই এলাকার মানুষ।

স্থানীয় আনারস চাষী আবদুস ছোবহান জানান, আনারস চাষে অনেক পরিশ্রম করতে হয়। যদি কারও অভিজ্ঞতা না থাকে তাহলে সে ভাল করে তা বলতে পারবেনা। ছোবহানের ভাষ্য, অক্টোবর মাসের আগেই আনারস চাষের জন্য পাহাড়ের ঢালুগুলো প্রস্তুত করতে হয়। প্রায় ১মাস লেগে যায় জমি ঠিকঠাক করে আনারস চাষের উপযোগি করে তুলতে। এর আগে আনারসের চারা তুলে তা প্রস্তুত করে রাখতে হয়। তার পরে সারিসারি করে পাহাড়ের বুকে লাইন ধরে রোপন করতে হয়। চারা রোপনের পর প্রায় ১২-১৩ মাস অপেক্ষার পর তাতে আনারস আসে। আনারস বাগানের সেবাযতœ ও পরিচর্ষা করতে হয়। তাতেই ভাল ফলন আসা করা যায়।

স্থানীয়রা বলেন, এখানকার অর্থনৈতিক ভারসাম্য অনেকটা আনারসের উপর নির্ভরশীল। হাইব্রিড জাতের আনারস বছরে ২বার ফলন আসে। তাই শীত মৌসমের আগেই বাজারে আনারস দেখতে পাওয়া যায়।

খোজ খবর নিয়ে জানাগেছে, নানিয়ারচরের বউ বাজার এলাকার শাহিন, ছোবহান ফারুক প্রচুর পরিমানে আনারসের চাষ করেন। রীতিমত আনারস চাষ করে তাদের ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন। তাদের আনারস দেশ এবং দেশের বাহিরেও রপ্তানি হচ্ছে। তারা ট্রাক ভর্তি করে আনারস ঢাকা ও চট্টগ্রাম পাইকারি হিসেবে চালান দিয়ে থাকেন। আবার যারা ছোট খাটো আনারসের বাগান করে থাকেন তারা স্থানীয় ভাবে খুচরা আনারস বিক্রি করে ফেলেন। এছাড়াও ঘিলাছড়ি ও ১৭ বা ১৮মাইল এলাকায় উপজাতিরা বেশ কিছু আনারস বাগান করেছেন।



আনারস চাষী ফারুক জানান, আনারস চাষে অনেক পরিশ্রম করতে হয়। পরিশ্রমের ফলে ভাল আনারস আবাদ করা সম্ভব। একটি আনারসে প্রায় ৫-৭ টাকা ব্যয় হয়। ভাল ফলন উৎপাদন হলে তা বিক্রি করা হয় ১০-১৫ টাকা।

কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাসের কারনে গত ২ বছর আনারসে তেমন লাভবান হতে পারেনি আনারস চাষীরা। অনেকে ব্যাংক লোন নিয়ে আনারস চাষে পুঁজি দিয়েছেন। কিন্তু করোনার জন্য লোকসান গুনতে হয়েছে। আর ব্যাংক সুদের বোঝা এখনো টানতে হচ্ছে।

নানিয়ারচরের আনারসে প্রাণ কেড়ে নিয়েছে আগত পর্যটকদের। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকরা ঘুরতে এসে একবার হলেও একটি আনারস খেয়ে যাবে। পর্যটকদের লোভ আনারসের প্রতি। তারা জানে নানিয়ারচরের আনারসে ফরমালিন নাই। অনেকে আবার ঘুরে ফিরে মুগদ্ধ হয়ে যাওয়ার সময় আনারস নিয়ে যায় পরিবার পরিজনের জন্য।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রতন কুমার পাল বলেন, রাঙ্গামাটি জেলার মধ্যে প্রায় ২১৩ হেক্টর জমিতে আনারসের আবাদ করা হয়। তবে নিজ নিজ মালিকানাধীন জমিতেই চাষারা এই সব আনারসের চাষ করে থাকেন। তারা যদি মনে করে কৃষি সম্প্রসারণের সহযোগিতা প্রয়োজন আছে তাহলে আমরা বিনামূল্যে সহযোগিতা দিয়ে থাকি। তবে  জেলার নানিয়ারচর উপজেলায় প্রচুর আনারস জন্মায়।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://www.dailyvorerpata.com/ad/Comp 1_3.gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]