মঙ্গলবার ১৭ মে ২০২২ ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

শিরোনাম: শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ    গম রপ্তানিতে ভারতের নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশের জন্য নয়    টাকার মান আরও ৮০ পয়সা কমলো    পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়-ইউজিসি পেল সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকার বাজেট    বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট: ৩ বছরে আয় ৩০০ কোটি ছাড়িয়েছে    ফখরুল সাহেব বিশ্বচোরের মুখপাত্র: তথ্যমন্ত্রী    সাতক্ষীরা আওয়ামী লীগ গোছানোর নতুন দায়িত্বে ড. এরতেজা হাসান   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
মার্চে তৃতীয় ঢেউ শুরুর আশঙ্কা, শীতে বাড়তে পারে করোনা সংক্রমণ
ভোরের পাতা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২১, ১০:২৮ এএম আপডেট: ২০.১১.২০২১ ১০:৪৬ এএম | অনলাইন সংস্করণ

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

শীতের আগমনের মধ্যে আবারো দেশের কোভিড-১৯ সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা, যা তৃতীয় ঢেউ হিসেবে চূড়ান্ত আঘাত হানতে পারে আগামী মার্চ মাসে। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাপকহারে টিকাদানের ফলে মৃত্যু কমলেও শীতে পশ্চিমা বিশ্বে আবারও হু হু করে সংক্রমণ বাড়ছে। এসব দেশ থেকে প্রবাসীরা শীতে বেড়াতে আসে। বাংলাদেশে এখনো খুব বেশি মানুষ টিকার আওতায় আসেনি। 

এদিকে শীতে বিয়েসহ নানা সামাজিক অনুষ্ঠান বেড়েছে। ফলে আবারও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে করোনা পরিস্থিতি। 

অন্যদিকে দ্রুত টিকার কভারেজ না বাড়লে এখানে তৃতীয় ঢেউয়ের আঘাতে প্রচুর প্রাণহানিরও আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

গতকাল শুক্রবার (১৯ নভেম্বর) সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ২৫৩ জনের দেহে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। গত এক দিনে প্রাণ হারিয়েছেন ৭ জন। 

এর আগের দিন মারা গিয়েছিলেন ৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে একজনের বয়স ছিল ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। বাকিদের বয়স ছিল ৪১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে।

এদিকে দেশে নমুনা পরীক্ষায় সংক্রমণ শনাক্তের হার গত ৪৫ দিন ধরে ৩ শতাংশের নিচে রয়েছে। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রটোকল অনুযায়ী, টানা ২১ থেকে ২৮ দিন শনাক্তের ৫ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরে নেওয়া যায়। সেই হিসেবে বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। 

তবে গত ফেব্রুয়ারিতেও দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে নতুন করে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ায় মে থেকে ফের করোনার তাণ্ডব শুরু হয়। 

এর আগে শুধু জুলাই মাসেই মৃত্যু হয় ৬ হাজার ১৮২ জনের, যা এখন পর্যন্ত এক মাসে সর্বোচ্চ মৃত্যু। সেপ্টেম্বর থেকে সংক্রমণের পাশাপাশি মৃত্যু কমছে। 

এদিকে ব্যাপকহারে টিকাদানের ফলে যুক্তরাষ্ট্রসহ অধিকাংশ পশ্চিমা দেশে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলেও শীত পড়তেই আবারও লাগাম ছাড়াচ্ছে সংক্রমণ। গত বছরের নভেম্বরেও যুক্তরাষ্ট্রে দৈনিক প্রায় দেড় লাখ রোগী শনাক্ত হয়। টিকাদানের ফলে সংক্রমণ ও মৃত্যু কমে আসে। 

চলতি বছরের ১৬ থেকে ১৮ জুলাই দুই দিনে দেশটিতে রোগী শনাক্ত হয় ৭৬ হাজার ৯০৪ জন। শীত আসতেই ফের করোনার তাণ্ডব শুরু হয়েছে দেশটিতে। 

গত এক দিনেই যুক্তরাষ্ট্রে ৯৯ হাজার ১৪৬ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছে ১ হাজার ১৪৭ জন। একইসঙ্গে যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, জার্মানি, তুরস্ক, ফ্রান্স, পোল্যান্ড, নেদারল্যান্ডসসহ অধিকাংশ পশ্চিমা দেশে করোনা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশেও করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, সেপ্টেম্বর থেকে দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমতে শুরু করেছে। তবে ভাইরাসের গতিপ্রকৃতি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে মার্চে তৃতীয় ঢেউয়ের পূর্বাভাস পাচ্ছি। বর্তমানে আমাদের দেশে একই গ্রুপের অন্যান্য ভাইরাস সক্রিয় থাকায় করোনাভাইরাস মানুষের শরীরে ঢোকার সুযোগ কম পাচ্ছে। মার্চ মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই ভাইরাসগুলো সক্রিয় থাকায় সংক্রমণ তুলনামূলক কম থাকবে। তবে স্বাস্থ্যবিধি না মানলে সংক্রমণ বাড়তে পারে, যা মার্চে গিয়ে ব্যাপক আকার ধারণ করবে। 

এ বিষয়ে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ডা. মোশতাক হোসেন বলেন, শীতকালে যেভাবে সামাজিক অনুষ্ঠান বাড়ছে, সেই সঙ্গে অধিকাংশ মানুষই স্বাস্থ্যবিধি মানছে না, তাতে শীতেই সংক্রমণ বেড়ে যেতে পারে। এখনই লাগাম টানতে না পারলে ফেব্রুয়ারির পর করোনার তৃতীয় ঢেউ আঘাত হানতে পারে। 

তিনি আরও বলেন, শীত আসতেই পশ্চিমা বিশ্বে সংক্রমণ বাড়ছে। তবে টিকার কারণে মৃত্যু কম। যারা মারা যাচ্ছেন তাদের ৮০ ভাগই টিকা নেননি। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে চলাফেরায় কোনো বাধা নেই। ফলে মানুষ এক দেশ থেকে আরেক দেশে যাচ্ছে। সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। এসব দেশ থেকে শীতকালে বাংলাদেশিদের দেশে আসার একটা প্রবণতা আছে। এতেও সংক্রমণ ঝুঁকি আছে।

মোশতাক হোসেন বলেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে থাকতে থাকতেই এখানে টিকার কভারেজ বাড়াতে হবে। সেই সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা, সামাজিক অনুষ্ঠানে নিয়ন্ত্রণ আরোপ ও শনাক্ত সব রোগীর আইসোলেশন নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় বিপদ আসন্ন। 



উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কায় নতুন করে আবারও প্রস্তুতির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে গত ৫ নভেম্বর সাত দফা নির্দেশনা দিয়ে দেশের সব সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের কাছে চিঠি পাঠায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। নির্দেশনায় সর্বস্তরে স্বাস্থ্যবিধি পালন ও মাস্ক ব্যবহারে উদ্বুদ্ধকরণ, হাট-বাজার, চায়ের দোকান বা জনসমাগম হয় এমন স্থানে ভিড় পরিহারের ব্যবস্থা, ভ্যাকসিন গ্রহণে উদ্বুদ্ধকরণ, বয়স্কদের ভ্যাকসিন সেন্টারে আসতে সহায়তা করা, স্বাস্থ্যবিধি পালনে প্রচারের ব্যবস্থা করা, সমাবেশ ও সামাজিক অনুষ্ঠান পরিহারে উদ্বুদ্ধ করা এবং করোনা প্রতিরোধে সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।



ভোরের পাতা/অ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


আরও সংবাদ   বিষয়:  করোনা   সংক্রমণ   শীত  







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://dailyvorerpata.com/ad/apon.jpg
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]