রোববার ২৪ অক্টোবর ২০২১ ৭ কার্তিক ১৪২৮

শিরোনাম: আজ জাতিসংঘ দিবস    দ. কোরিয়া সফর শেষে দেশে ফিরলেন সেনাপ্রধান    বিএফইউজের নেতৃত্বে ওমর ফারুক-দীপ আজাদ    দেশে ৬ কোটির বেশি করোনার টিকা প্রয়োগ    শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতিসংঘ গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর    ফেসবুকে ধর্মীয় উসকানিমূলক পোস্ট: ইবি শিক্ষার্থী গ্রেফতার    ওয়েস্ট ইন্ডিজদের লজ্জায় ডোবালো ইংল্যান্ড   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের পূর্ণতা শেখ হাসিনা-শেখ রেহানা
#শেখ হাসিনার আজীবন ছায়াসঙ্গী শেখ রেহানা: ড. ওয়ালি-উর রহমান। #বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ছড়িয়ে দিচ্ছেন শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা: ড. মো. আফজাল হোসেন। #শেখ হাসিনার অন্যতম শক্তি শেখ রেহানা: শাহদাব আকবর চৌধুরী লাবু।
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১১:০৪ পিএম আপডেট: ১৭.০৯.২০২১ ১১:১০ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

বঙ্গবন্ধু কন্যাদ্বয়ের জন্মদিন নিয়ে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। যদিও আমরা ব্যথিত ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে নিহত তাদের পরিবারের সকল সদস্যদের মৃত্যুতে। কিন্তু রাখে আল্লাহ মারে কে! বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়ন করার জন্য, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়ন করার জন্য তার দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন এই জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড থেকে। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ যখন ফের ক্ষমতায় আসলো তারপর থেকে এপর্যন্ত দীর্ঘ পরিশ্রম করেছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী এবং তার প্রত্যেকটা কাজে ছায়া হিসেবে তার পাশে আছেন ছোট বোন শেখ রেহানা এবং একটা শক্তি হিসাবে তার সাথে সব সময় একসাথে থাকেন এবং সেভাবেই সহযোগিতা করে আসছেন।

দৈনিক ভোরের পাতার নিয়মিত আয়োজন ভোরের পাতা সংলাপের ৪৬৫তম পর্বে শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এসব কথা বলেন আলোচকরা। ভোরের পাতা সম্পাদক ও প্রকাশক ড. কাজী এরতেজা হাসানের নির্দেশনা ও পরিকল্পনায় অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- সাবেক পররাষ্ট্র সচিব, বাংলাদেশ হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট ড. ওয়ালি-উর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আফজাল হোসেন, সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর ছেলে, ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক প্রতিনিধি শাহদাব আকবর চৌধুরী লাবু। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ভোরের পাতার বিশেষ প্রতিনিধি উৎপল দাস।

ড. ওয়ালি-উর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যার সঙ্গে আমার প্রথম দেখা হয় জেনেভাতে যখন বঙ্গবন্ধু এখানে আসলেন ১৯৭২ সালের আগস্ট মাসে। সে সময় তার সাথে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা দুজনই ছিলেন তার সাথে। প্রায় ২২-২৩ দিন ছিলেন তারা সেখানে। সে সময় আমি এবং আমার স্ত্রী বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতাসহ তাদের পরিবারের কি কি খাবার খাওয়াতে হবে সে দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলাম। তখন আমি একটা বিষয় খেয়াল করেছি যে ভাবি যেসময় বঙ্গবন্ধুর খাবারের কথা বলতেন তখন তার দুই কন্যাকে স্মরণ করতেন, তাদেরকে ডাকতেন। আমি যেটা দেখেছি যে, শেখ রেহানা অনেক নরম মনের মানুষ। অন্যদিকে শেখ হাসিনাকে দেখেছি তার মায়ের কাজে সব সময় হাত বুলাতেন। এই দুবোনের জন্মমাসটাও একই। হয়তো এটা কাকতালীয় কিন্তু আমি বলবো শেখ হাসিনার নিরন্তর ছায়াসঙ্গি শেখ রেহানা। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান শেখ রেহানা। যার পিতা একটি দেশের জাতির পিতা। যার বড়বোন চারবারের প্রধানমন্ত্রী অথচ ক্ষমতার বিন্দুমাত্র প্রভাব নেই তার জীবনে। ক্ষমতার মোহ তাকে ছুঁতে পারেনি, যেমন পারেনি বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবকে। বরং বড়বোন শেখ হাসিনাকে দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য উৎসর্গ করে দিয়ে তিনি সময় দিয়েছেন পরিবারের সদস্যদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে আধুনিক হিসেবে গড়ে তুলতে। নিজের ও বড়বোনের ছেলে-মেয়েদের গড়ে তুলেছেন মাতৃস্নেহে। শেখ হাসিনা আসলে শেখ রেহানার সঙ্গ সব সময় পছন্দ করতেন। যখন কোন অনুষ্ঠানে ছবি তোলা হতো তখন যদি শেখ রেহানা না থাকতো তখন শেখ হাসিনা আশপাশে যারা থাকতো তাদেরকে ডেকে বলতেন শেখ রেহানাকে ডেকে দিতে। আসলে এটাই এখানে আমাদের বুঝার বিষয় যে সেই ১৯৭২ সালের সময়ে তাদের দুই বোনকে আমি যেভাবে দেখেছি আজ এতো বছর পর তাদের মধ্যে যে একটা স্প্রিচুয়াল বন্ধন তার মধ্যে একবিন্দুও ফাটল ধরেনি বরং সময়ের তারতম্যে সেটা আরও অধিক শক্ত হয়েছে। 
ড. মো. আফজাল হোসেন বলেন,  বঙ্গবন্ধু কন্যাদ্বয়ের জন্মদিন নিয়ে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যদিও আমরা ব্যথিত ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে নিহত তাদের পরিবারের সকল সদস্যদের মৃত্যুতে। কিন্তু রাখে আল্লাহ মারে কে! বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়ন করার জন্য, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়ন করার জন্য তার দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন এই জগন্নতম হত্যাকাণ্ড থেকে। তারা চেয়েছিল বঙ্গবন্ধুর নাম এই বাঙলার মাটি থেকে চিরতরে মুছে ফেলার জন্য এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ঐতিহ্য মুছে ফেলে বাংলাদেশকে আবার পাকিস্তানি ভাবধারায় ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য। কিন্তু আল্লাহ্র ইচ্ছায় আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা বেঁচে আছেন। অত্যন্ত সৌভাগ্যবান আমি কারণ এই সেপ্টেম্বর মাসে আমার নিজেরও জন্মদিন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২৮ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেছেন আর শেখ রেহানা ১৩ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেছেন। শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার মধ্যে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক সব সময় বিদ্যমান আছে। একজন সাধারণের মতই জীবনযাপন করেন বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা। যেন একদম সাদাসিধে একজন নারী। চরিত্রে কখনও আদিখ্যেতা কিংবা অহংকার মনোবৃত্তি পোষণ করেননি। দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন নীরবে নিভৃতে। সংগ্রাম করে যাচ্ছেন জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে। শেখ হাসিনার মতো সুযোগ্য মায়ের যোগ্য উত্তরসূরি তিনিও। শেখ রেহানার ইতিবাচক ভূমিকার কারণেই শান্তির আলোকবর্তিকা হাতে বিশ্বময় শেখ হাসিনা। যদিও তিনি রাষ্ট্রীয় কোনো পদে বা কর্মকাণ্ডে জড়িত নন। কিন্তু আওয়ামী লীগের বিভিন্ন জটিল সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা তার সঙ্গে পরামর্শ করেন। শেখ হাসিনা ছোটবোন শেখ রেহানার মধ্যে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ছায়া দেখতে পান। দুই বোনের মধ্যে যে সম্পর্ক সেটার অন্যতম কারণ হচ্ছে পঁচাত্তরের তাদের পরিবারের সকল সদস্যকে হারিয়ে ফেলার পর আর কেউ ছিল না তাদের সুখ, দুঃখ ভাগাভাগি করার জন্য। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বাঙলার মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছেন শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। রাষ্ট্র পরিচালনা করার জন্য শেখ হাসিনা যখনি কোন সিদ্ধান্ত বা পরিকল্পনা নেন না কেন ভেতরে ভেতরে ছায়ায় থেকে সাহায্য করে যাচ্ছেন শেখ রেহানা।

শাহদাব আকবর চৌধুরী লাবু বলেন, বঙ্গবন্ধুর দুই তনয়া শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানার দুজনের জন্মমাস এই সেপ্টেম্বর মাসে। তাই আমি আমার বক্তব্যের শুরুতে শেখ হাসিনা আপা এবং শেখ রেহানাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে আসেন আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে সেই সময় যখন ইডেন হোটেলে সম্মেলন হয় সেই সম্মেলনে আমি উপস্থিত ছিলাম এবং সেই সম্মেলন নিয়ে অনেক ঘটনা এবং আমরা জানি যে এই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে তখন উনাকে দেশে আনার জন্য যারা মূল ভূমিকায় ছিলেন তাদের মধ্যে আমার মা সাজেদা চৌধুরী এবং আমার পিতা অন্যতম ভূমিকা পালন করেছিলেন। আপাকে আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। রেহানা আমার বড় ভাই, মেজ ভাই তাদের খুব কাছের আর আমার সাথে রেহানা আপার সাথে অতটা না থাকলেও হাসিনার আপার সাথে আমি খুব বেশি কাছে ছিলাম, সবসময় থাকতাম তার পাশে। একটা জিনিস আমরা মাঝে মাঝে ভাবি যে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হলো তখন মাত্র দুইজন মানুষ শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকার কারণে বেঁচে গেলেন এবং ছোট ভাই দশ বছরের রাসেলকেও সেসময় হত্যা করা হলো। ১৯৮১ সালে যখন আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং পরে শেখ রেহানা দেশে আসলেন তখন তাদের মধ্যে দেখেছি এত কষ্টের মধ্যে, যাদের জীবনে আর কিছু চাওয়ার নেই, সবাইকে হারিয়েছে তার মধ্যেও আমি হাসিনা আপাকে কাছ থেকে দেখে মাঝে মাঝে ভাবি যে তার মনের মধ্যে এত কষ্ট কিন্তু তার তার চেহারা দেখে তা বুঝা যেতোনা। কারণ তার স্বপ্ন ছিল যে তার পিতার বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন। বঙ্গবন্ধু আমাদের দেশটাকে স্বাধীন করেছেন আর তার পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য তখন থেকেই তিনি কাজে লেগে ছিলেন এবং দীর্ঘ ২১ বছর অনেক সংগ্রামের পর আমরা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে ছিলাম এবং বলা যায় যে পচাত্তরের পর থেকে ১৯৯৬ থকে ২০০১ আবার বাংলাদেশে একটা স্বর্ণযুগ ছিল এবং উন্নয়ন আবার শুরু হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের যে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের কারণে আওয়ামী লীগ তখন ক্ষমতায় আসতে পারেনি। কিন্তু ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ যখন ফের ক্ষমতায় আসলো তার পর থেকে এই পর্যন্ত দীর্ঘ পরিশ্রমের করেছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী এবং আমি যতদূর জানি যে তার প্রত্যেকটা কাজে ছায়া হিসেবে তার পাশে ছোট বোন সঙ্গে আছেন এবং একটা শক্তি হিসাবে তার সাথে সব সময় একসাথে থাকেন এবং সেভাবেই সহযোগিতা করে আসছেন।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


আরও সংবাদ   বিষয়:  ভোরের পাতা সংলাপ   শেখ হাসিনা   শেখ রেহানা  







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://www.dailyvorerpata.com/ad/Comp 1_3.gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]