রোববার ২৪ অক্টোবর ২০২১ ৭ কার্তিক ১৪২৮

শিরোনাম: আজ জাতিসংঘ দিবস    দ. কোরিয়া সফর শেষে দেশে ফিরলেন সেনাপ্রধান    বিএফইউজের নেতৃত্বে ওমর ফারুক-দীপ আজাদ    দেশে ৬ কোটির বেশি করোনার টিকা প্রয়োগ    শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতিসংঘ গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর    ফেসবুকে ধর্মীয় উসকানিমূলক পোস্ট: ইবি শিক্ষার্থী গ্রেফতার    ওয়েস্ট ইন্ডিজদের লজ্জায় ডোবালো ইংল্যান্ড   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
গ্রেপ্তারের পথে ছাত্রলীগের নিশি-শান্তারা, ব্যর্থ জয়-লেখক!
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১২:৪০ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

মারধরের শিকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল সংসদের সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ও হল ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফাল্গুনী দাস তন্বী চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি আদালতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে তিনি নিজ সংগঠনের পাঁচ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে এই মামলা করেন।

এদিকে, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য নিজ সংগঠনের শীর্ষ পদে থেকেও বিষয়টি মীমাংসা করতে না পারায় চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন বলে দাবি করেছেন, খোদ ছাত্রলীগেরই একাধিক নেতা। তারা দুইজন বিশেষ করে সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য চাইলেই বেনজীর হোসেন নিশি, জেসমিন শান্তাকে নিয়ে ফাল্গুনী দাস তন্বীর সাথে বিষয়টি সাংগঠনিকভাবেই শেষ করতে পারতেন। কিন্তু এককভাবে লেখক ভট্টাচার্যের অনিচ্ছার কারণে সেটি না হয়ে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। এক্ষেত্রে অভিযুক্ত মূল দুইজন আসামি এবং বাদী নিজেও লেখক ভট্টাচার্য গ্রুপে রাজনীতি করেন, তারপরও দায়িত্বশীল জায়গা থেকে তিনি এটির সমাধান না করে অনেকটা নির্ভার থেকে ছাত্রলীগকেই কলঙ্কিত করার সুযোগ দিয়েছেন বলেও জানান ছাত্রলীগের চারজন সহ-সভাপতি ও দুই জন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তারা সকলেই লেখক ভট্টাচার্যকে বলেছিলেন, বিষয়টি নিয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে। কিন্তু নিশি এবং শান্তার সাথে লেখকের কথিত বিশেষ সম্পর্কের কারণে সেটি তিনি সুকৌশলে এড়িয়ে গেছেন এবং সংগঠনের লোকজন বিষয়টি আদালতে নিয়ে গেছেন। 

এদিকে, আদালতের নির্দেশে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঘটনায় দীর্ঘ তদন্ত করে। প্রত্যক্ষদর্শী, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং মামলার সাক্ষীদের জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।  সেই প্রতিবেদনটি ভোরের পাতার হাতে এসেছে। এমনকি তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান গত ২৪ মে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন, মামলাটি তদন্তকালে বাদীর অভিযোগ যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। অভিযোগে বাদীর মানিত সাক্ষীসহ নিরপেক্ষ সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এরপর মহামান্য আদালতে মতামত তুলে ধরেছেন। 

সেখানে পিবিআই কর্মকর্তা লিখেছেন, ‘‘মামলাটি অনুসন্ধানকালে প্রাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সাক্ষীদের জবানবন্দি, সিসি টিভির ফুটেজ এবং ডাক্তারি সনদপত্র পর্যালোচনায় অত্র মামলার বিবাদী ১. বেনজীর হোসেন নিশি (২৯), ২. জিয়াসমিন শান্তা (২৮), ৩. মো. শাহজালাল (২৬), ৪. মো. এনামুল (২৮), ৫. শেখ তানসেন (২৪) গণ কর্তৃক পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বেআইনি জনতাবদ্ধে মামলার বাদীকে ডকিয়া আনিয়া মারধর করে আহত করত: মোবাইল ফোন চুরি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অপরাধ করায় উল্লেখিত বিবাদীদের বিরুদ্ধে পেনাল কোডের ১৪৪/৩২৩/৩৭৯/৫০৬/৩৪  ধারার অপরাধ প্রাথমিকভাবে সত্য বলিয়া প্রমাণিত হয়।’’

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র কয়েকজন আইনজীবীর সাথে ভোরের পাতার বিশেষ প্রতিবেদক উৎপল দাস কথা বলেন। আইনজীবীরা বলেন, পিবিআই তদন্ত প্রতিবেদনে সুস্পষ্টভাবে পেনাল কোডের কয়েকটি ধারায় অপরাধ সংগঠনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে আসামীদের গ্রেপ্তারী ওয়ারেন্ট বের হবে আদালত থেকে। তারপর তাদের গ্রেপ্তারও করা হবে।  এমনকি ৩৭৯ ধারাতে চুরির দায়ে আসামিদের তিন বছরের জেলও খাটতে হবে। এটা জামিনযোগ্যও নয়।  



এর আগে ২১ ডিসেম্বর রাতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেনজির হোসেন নিশি এবং শামসুন নাহার হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জেসমিন শান্তা তাকে ডেকে নিয়ে মারধর করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সিএমএম আদালতে তিনি মামলা করেন।  আদালত মামলা আমলে নিয়ে অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআই ও বিচার বিভাগের সমন্বয়ে দ্বৈত তদন্ত কমিশন গঠন করে দিয়েছেন এবং ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। মামলার পাঁচ আসামি হলেন- কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেনজির হোসেন নিশি, শামসুন্নাহার হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জিয়াসমিন শান্তা, ছাত্রলীগ নেতা শাহজালাল, এনামুল এবং তানসেন।

উল্লেখ্য, বিষয়টি নিয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং লেখক ভট্টাচার্য সাংগঠনিক কোনো উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। এমনকি লেখক ভট্টাচার্য  নিজ সংগঠনের একজন কর্মীকে পিটানোর অভিযোগে মামলার আসামি বেনজির হোসেন নিশি এবং জিয়াসমিন শান্তাকে নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক অনুষ্ঠান সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক সফরেও যাচ্ছেন নিয়মিত। 

ছাত্রলীগের একটি অংশ যারা সাংগঠনিকভাবেই বিষয়টার বিচার চেয়েছিলেন তারা বলছেন, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য ইচ্ছে করেই বিষয়টি সমাধান করেননি। অথবা তিনি সাংগঠনিকভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। আমাদের সংগঠনে এমন মারামারির ঘটনা আগেও ঘটেছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতারা বসেই সেটা শেষ করেছেন। এমন অনেক ইতিহাস আছে। কিন্তু জয়-লেখক সেটা করতে চূড়ান্তভাবেই ব্যর্থ হয়েছেন। 

মামলার আসামি ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি জিয়াসমিন শান্তা এবং বেনজির হোসেন নিশিকে সংগঠনের বেয়াদব হিসাবেই তার সহকর্মীরা নানা সময় আখ্যা দিয়েছেন। এসব বিষয়ে তাদের ফোন করা হলেও দুজনের ফোনই বন্ধ পাওয়া গেছে।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


আরও সংবাদ   বিষয়:  ছাত্রলীগ   জয়   লেখক  







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://www.dailyvorerpata.com/ad/Comp 1_3.gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]