শনিবার ২৭ নভেম্বর ২০২১ ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

শিরোনাম: মহাসড়কে টোল আদায়ে বিল পাস    'ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন পাস হবে না'    সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি    প্রথমবার বিশ্বকাপে বাংলাদেশের মেয়েরা    বিএনপি বেগম জিয়ার লাশ নিয়ে রাজনীতি করতে চায়: হানিফ    চট্টগ্রামে ফের ভূমিকম্প    সংসদীয় কমিটির সদস্য হলেন মাশরাফি   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
‘মাতৃসদনের দেবদারু’ হাতের নাগালে
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৯:৪২ এএম | অনলাইন সংস্করণ

নব্বই দশকের গুরুত্বপূর্ণ কবি রাগীব হাসানের ‘মাতৃসদনের দেবদারু’ কবিতার বইটি হাতের নাগালেই আছে। বইটি রাজধানী ঢাকার সেরা বইয়ের দোকানগুলোতেই পাওয়া যাচ্ছে। ‘মাতৃসদনের দেবদারু’ প্রকাশের পর অনেক কবিতা পাঠকেরই মনোযোগ কাড়তে সক্ষম হয়। বইটি নিয়ে লিখিত মন্তব্যও করেছেন কোনো কোনো বোদ্ধা কবি-সাহিত্যিক। তাদের মধ্যে রয়েছেন ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক কবি-গল্পকার-উপন্যাসিক-অনুবাদক সরকার মাসুদ ও জাত বোহেমিয়ান কবি বদরুল হায়দার। এরা দু’জনই আশির দশকের বাংলা কবিতার উল্লেখযোগ্য কবি। ‘মাতৃসদনের দেবদারু’ কবিতা বইটি লেখক দেশের অনেকগুরুত্বপূর্ণ কবির কাছে পৌঁছেও দিয়েছেন। 

নব্বই দশকের ভিন্নধারার এই কবির প্রথম কবিতার বই ‘সমন্বয়ের নানাজাতীয় তীরন্দাজ’ বের হয় ১৯৯৯ সালে বিখ্যাত প্রকাশনী র‌্যামন থেকে। এরপর লেখকের পরপর বেশ ক’টি কবিতার বই বের হয়েছে। ২০১৮ সালে বাংলালিপি প্রকাশনী থেকে বের হয় ‘মাতৃসদনের দেবদারু’। 

এ বইয়ের ব্যাপারে এক প্রশ্নের উত্তরে রাগীব হাসান বলেন, প্রায় ৯ বছরের যেসব কবিতা লেখা হয়, তার মধ্যে থেকে বাছাই করে বইটি বের করা হয়। এ বইটি প্রকাশকালীন তেমন কোনো জটিলতার মুখে পড়তে হয়নি। প্রকাশক যথেষ্ট আন্তরিকতা দিয়ে বইটি করেছেন। 

‘মাতৃসদনের দেবদারু’ প্রকাশের বয়স কয়েক বছর হয়ে এলো, এই সময়ের মধ্যে কতটা পাঠ প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন, এমন এক প্রশ্নের উত্তরে বইয়ের লেখক বলেন, আমার চলাচল সাম্প্রতিককালে নি:শব্দ হয়ে পড়েছে। তারপরেও যতটা সরব চলাচল রয়েছে এবং সাহিত্যের এক দু’জনের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ হয়, তাতে যে আলোচনার ঘুর্ণী তৈরি হয়, সেখানে ‘মাতৃসদনের দেবদারু’ কোনো স্থান পায়নি। প্রকৃত অর্থে সমসাময়িক কবিদের মধ্যে একজনও আমার ঘনিষ্ট কবি বন্ধু আর নেই। একজন কবি বন্ধুর কথা মাঝেমধ্যে আমি মনে আসত, তার সঙ্গেও যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছি। অবশ্য তার কাছে এ বইটি গিয়েছে, সে যে ধরনের কবিতা লেখে, আর আমি যে ধরনের লিখি, মনে হয় আমার কবিতা তার রুচিতে ধরে না। ফলে বন্ধুদের মধ্যে কারো কোনো নতুন কবিতার বই বের হলে বিচ্ছিন্ন আড্ডাতেও যে কিছু কথাবার্তা বইটিকে ঘিরে হওয়ার কথা, তার সামান্য বা যৎকিি তও হয়নি। তবে একটা বিষয় মনে হয়, পত্রপত্রিকায় বা কোনো লিটল ম্যাগাজিনে এর ভালো কোনো আলোচনা ছাপা হলে ‘মাতৃসদনের দেবদারু’র প্রতি হয়তো পাঠকের আগ্রহের জায়গাটা তৈরি হতো। এই আগ্রহ তৈরির কাজটি পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদকরা করলে অনেক কবিই উপকৃত হতে পারেন বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। 



রাগীব হাসানের ‘মাতৃসদনের দেবদারু’ পড়ে একটি লিখিত মন্তব্য করেছেন সরকার মাসুদ। শক্তিমান এই কবি তার লিখিত বক্তব্যে বলেছেন ‘‘শিল্প সাহিত্যে কণ্ঠস্বরের স্বাতন্ত্র একটা বিরাট ব্যাপার। কবিতাভাষায় নিজস্ব অর্জনের ক্ষেত্রে রাগীব হাসান পুরোপুরি সফল হয়েছেন এমন কথা বলা যাবে না। তবে এই পথে তিনি ইতোমধ্যে অনেকখানি অগ্রসর হতে পেরেছেন। রসজ্ঞ পাঠক, বিশেষত আধুনিক পাঠক, কবিতায় প্রধানত কি খোঁজেন? বিষয়বস্তু বা কেন্দ্রীয় ভাবনা কি এখানে মুখ্য না-কি বলবার ধরণটি? যদি অ্যাপ্রোচ একটা বড় বিষয় হয়, তাহলে বলবো কবি তাকে গ্রহণযোগ্য করে তোলে লেখকের স্টাইল। বহুযুগ পরে কাব্যভাষার গুরুত্ব হ্রাস পায়; তখন উজ্জ্বলতর হয়ে ওঠে কবির জীবনভাবনা। কিন্তু লেখকের জীবদ্দশায় তাকে, উপস্থাপনরীতির প্রশ্নে, আধুনিক কলা-কৌশল অবলম্বন করতেই হয়। বলা চলে, রাগীব হাসানের তূণে আধুনিক কাব্যকৌশলের প্রায় সবগুলো তীরই সংরক্ষিত আছে।’’

অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে ‘মাতৃসদনের দেবদারু’র কবি বলেন, বেশ ক’টি নতুন কবিতার বইয়ের পা-ুলিপি তৈরি হয়ে আছে। আগামী একুশের বই মেলায় এক সঙ্গে দুটি নতুন কবিতার বই বের হবার সম্ভাবনা আছে। তিনি কথা প্রসঙ্গে আরো বলেন, বেশ কিছুকাল আগে সমসাময়িক এক কবি। ঠাকুর কবি বলছিলেন, ‘রাগীব আপনি তো একটি বাগানের এক কোণায় বেড়ে উঠছেন’। ওই ঠাকুর কবি হয়তো বলতে চেয়েছেন, আমরা যেমন জলস্থল কাঁপিয়ে কবিতা লিখছি, বাগানের কেন্দ্রে আমরা দাঁড়িয়ে আছি, আজ আমার বা আমাদের নাম সর্বত্র-ই উচ্চাররিত হচ্ছে। আর এই অবস্থানের পাশে আমি গৌন, এবং গৌন থেকেও গৌন হয়ে একটি বাগানের প্রান্ত দাঁড়িয়ে আছি। ওই ঠাকুর কবির  এই উপলদ্ধিকে আমি অশ্রদ্ধা করতে চাই না। 

সম্প্রতি নতুন কবিতা লেখার বিষয়ে রাগীব হাসান বলেন, অজস্র কবিতা ধরা দিয়েছে। প্রায় রাতজুড়েই কবিতা লিখেছি। তার অনেকগুলোই যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়েও দিয়েছি। অল্প সময়ের মধ্যে প্রচুর লেখা দোষনীয় কি-না আমি ঠিক জানি না। তবে আমার প্রিয় এক কবি যিনি কম লেখার পক্ষে এবং লেখেনও কম। হঠাৎ হঠাৎ ফোনে কথা হয়। কবিতার পাশাপাশি প্রচুর গদ্য পড়েন, ফটোগ্রাফীতে ভীষণ উৎসাহ, কবিতা অনুবাদেও সিদ্ধহস্ত। তবে এই অনুবাদ  কর্মের দিকে খুব একটা যাননি। কবিতা লেখা এবং ছবি তোলাতেই উৎসাহ। 

পত্রপত্রিকায় একেবারেই কবিতা ছাপা হতে দেখা যায় না, এর কারণ জানতেই চাইলে ‘মাতৃসদনের দেবদারু’র কবি বলেন, সাহিত্য সম্পাদকরা ভুলেও কবিতা চান না, বা রাগীব হাসান নামে একজন কবিতা লেখার প্রয়াস চালান, এটা হয়তো তারা জানেন বলেও মনে হয় না; তাই পত্রপত্রিকায় ছাপা হতে দেখা যায় না। 

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://www.dailyvorerpata.com/ad/Comp 1_3.gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]