শুক্রবার ২২ অক্টোবর ২০২১ ৫ কার্তিক ১৪২৮

শিরোনাম: কুমিল্লার ঘটনায় অভিযুক্ত ইকবাল সন্দেহে একজন আটক    হেসে-খেলেই সুপার টুয়েলভে বাংলাদেশ    পাপুয়া নিউ গিনিকে ১৮২ রানের চ্যালেঞ্জ    করোনায় একদিনে আরও ১০ জনের মৃত্যু    বদরুন্নেসার সেই শিক্ষিকা দুই দিনের রিমান্ডে    ফেসবুক লাইভে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড    টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
বীর পাইলট নওশাদের জন্য প্রার্থনা
কামাল সিদ্দিকী বাবু
প্রকাশ: রোববার, ২৯ আগস্ট, ২০২১, ১০:১৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

জাতির একজন শ্রেষ্ঠ সন্তান হিসাবে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লিখিয়েছেন পাইলট নওশাদ। নিজের জীবন বিপন্ন করে ১২৪ জন বিমান যাত্রীর নিরাপদে ল্যান্ড করিয়ে নিজে চলে যান হাসপাতালের বেডে। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে দেশের এই সাহসী যোদ্ধা এখন জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। তার দ্রুত সুস্থতা চেয়ে উৎকণ্ঠা নিয়ে অপেক্ষা করছে পুরো জাতি। সকলের প্রার্থনায় নিশ্চয়ই তিনি সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন এই প্রত্যাশা পুরো জাতির। তবে স্রষ্টা কি শুনবেন জাতির এই প্রার্থনা?  

উড়ন্ত বিমানে মধ্য আকাশে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হন বোয়িং ৭৩৭-৮০০ মডেলের বিমানটির পাইলট ক্যাপ্টেন নওশাদ আতাউল কাইউম। এসময় কো- পাইলট বিমানে কোন ডাক্তার যাত্রী আছেন কি না সে বিষয়ে খোঁজ করতে থাকেন। কিন্তু বিমানে কোন ডাক্তার যাত্রী না থাকায় পাইলটের জীবন বাঁচাতে তিনি কাছাকাছি  বিমানবন্দরের জন্য ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তখন তাকে জানানো হয় নাগপুর রানওয়েতে তিনি বিমানটি ল্যান্ড করাতে পারেন। এরই মধ্যে নিজের অসুস্থতার ভেতরে বিমানের সব দায়িত্ব কো-পাইলটের নিকট হস্তান্তর করেন পাইলট নওশাদ। এরপর কো-পাইলটের সহায়তায় বিমানটি নাগপুরের মাটি স্পর্শ করা মাত্রই পাইলটকে নিয়ে যাওয়া হয় নিকটস্থ হোপ হাসপাতালে। সেখানে তাকে ভর্তি করে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা দিতে থাকেন ডাক্তাররা। কিন্তু পরবর্তীতে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে  লাইফ সার্পোটে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। ওমানের মাস্কাট থেকে ১২৪ জন যাত্রী নিয়ে বিজি-০২২ ফ্লাইটটি  চালিয়ে তিনি ঢাকায় আসছিলেন। বিমান ভারতের আকাশে থাকা অবস্থায় ক্যাপ্টেন নওশাদ ‘হার্ট অ্যাটাক’ করেন। তখন ভারতের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের কাছে জরুরি অবতরণের অনুরোধ জানান। একই সময়ে তিনি কো-পাইলটের কাছে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর করেন। আবেদন জরুরিভাবে মঞ্জুর করে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল। বিমানটিকে নিকটস্থ নাগপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করার নির্দেশ দিলে কো-পাইলটই বিমানটিকে সেখানে অবতরণ করান। বোয়িং ৭৩৭-৮০০ মডেলের বিমানটির ১২৪ জন যাত্রীর প্রত্যেকেই নিরাপদে ছিলেন। জরুরি অবতরণের পর পাইলট কাইউমকে নাগপুরের হোপ হাসপাতালে নেওয়া হয়।



বর্তমানে তিনি জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। এরই মধ্যে কয়েকটি অনলাইন মিডিয়া প্রচার করে তিনি মারা গেছেন। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই দাবি নাকোচ করে দিয়ে বলেছেন, তিনি এখন লাইফ সার্পেটে আছেন। যদিও তার বেঁচে থাকার বিষয়ে বা তিনি বিপদমুক্ত এমন কোন সংবাদ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দিতে পারেনি। তবে আমাদের প্রত্যাশা তিনি মৃত্যকে জয় করে আবার তার প্রিয়জন দেশবাসীর মাঝে ফিরে আসবেন। যেভাবে তিনি নিজের জীবন বিপন্ন করে প্রায় ১২৪ যাত্রীর জীবনরক্ষা করেছেন। 

নওশাদের পাইলট জীবনে এমন ঘটনা এই প্রথম এমনটি নয়। সেবারও তিনি  বিদেশ থেকে বিমান নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হন। বিমানটি রানওয়ে ছাড়ার পর পরই বিকট আওয়াজ হয়। বিমানের চাকা ব্ল্যাস্ট হয়ে যায়। ফলে বিকট শব্দ হয়। এই আওয়াজে যাত্রীর সচকিত হয়ে পড়েন। এসময় তিনি অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে বিমানটি ৬ ঘণ্টার ওপরে উড়িয়ে গন্তব্য পরিবর্তন করে চট্টগ্রামে না গিয়ে ঢাকাতে ল্যান্ড করান। চাকা ব্ল্যাস্ট হওয়া বিমান যেখানে ল্যান্ড করানো ঝুঁকিপূর্ণ সেখানে তিনি বিশেষ ব্যবস্থায় বিমানটিকে নিরাপদে ল্যান্ড করান। সে সময় তার বীরত্ব, একই সঙ্গে দায়বদ্ধতা এমনকি কৌশল কর্তব্যবোধ তাকে জাতির সাহসী সন্তানের আসনে বসায়। তার এই দায়িত্ববোধ সেদিন দেশের সকল মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচার করে। এমনকি তিনি জাতীয় বীর হিসাবে দেশবাসীর ভালোবাসায় সিক্ত হন। 

সেই পাইলট নওশাদ এখন জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। তবে আমাদের প্রত্যাশা তিনি সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন। নিজের দায়িত্ব একই সঙ্গে অসমাপ্ত কাজগুলো দক্ষতার সঙ্গে শেষ করবেন। এদিকে তার সুস্থতা কামনা করে বিবৃতি দিয়েছেন বিমানের এমডি ড. আবু সালেহ মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল এবং বাংলাদেশ পাইলট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুবুর রহমান। বিমানের এমডি জানিয়েছেন, তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডই তার বিষয়টি দেখভাল করছেন। আজ (গতকাল) বিকালে মেডিকেল বোর্ডের টিম মিটিং রয়েছে। সবদিক বিবেচনা করে তারা রিপোর্ট দিলেই আমরা তার স্বাস্থ্যের প্রকৃত অবস্থা জানতে পারব। আমরা সেই মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত না পাওয়া পর্যন্ত কিছুই বলতে পারছি না। তবে এতটুকু জানতে পেরেছি তার অবস্থার অবনতি হয়েছে। পাইলট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুবুর রহমানও একই কথা বলেছেন। পাইলট নওশাদ এখনো জীবিত। 

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, একজন জীবিত মানুষকে কেন আমরা মৃত বলে গুঞ্জন ছড়াচ্ছি? এটাকে তিনি আমাদের মানসিকতার দেওলিয়াত্ব বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নওশাদ লাইফ সাপোর্টে আছেন এপর্যন্ত ঠিক আছে। ডাক্তাররা এখনো কিছু জানাতে পারেনি। কিছুক্ষণের মধ্যে বোর্ডমিটিং হবে। সে এখন খারাপ অবস্থার মধ্যে আছে। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://www.dailyvorerpata.com/ad/Comp 1_3.gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]