রোববার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ ৪ আশ্বিন ১৪২৮

শিরোনাম: ই-কমার্স গ্রাহকদের নিয়ে পরামর্শ দিলেন হাইকোর্ট    আদালতে জেমস    খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ আরও বাড়ল    জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান হলেন শাফিন আহমেদ    বিএনপি দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে: ওবায়দুল কাদের    ইভ্যালির রাসেল দম্পতির বিরুদ্ধে আরেক মামলা    ডিআইজি প্রিজন্স পার্থ গোপাল কারাগারে   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
নির্লোভ তারুণ্যের অগ্রদূত শেখ কামাল
#একজন দূরদর্শী, সাহসী মানুষ ছিলেন শেখ কামাল: লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান। #ক্রীড়াঙ্গনে শেখ কামালের বিচরণ এখনো মানুষ স্মরণ করে: অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত। #বর্তমান প্রেক্ষাপটে কামালের আদর্শ যুব সমাজের জন্য আবশ্যকীয়: কাজী রিয়াজুল হক। #অল্প বয়সে একজন ভিসনারি ব্যক্তিত্বের অধিকারি ছিল শেখ কামাল: রকিবুল হাসান। #অসাধারণ মেধার অধিকারী ছিলেন শেখ কামাল: সৈয়দ আহমেদ সেলিম।
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ আগস্ট, ২০২১, ১১:৫৩ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ কামাল তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবনে অপূর্ব প্রাণশক্তিতে ভরপুর থেকে এক দুরন্ত তারুণ্যে নেতৃত্ব দিয়েছেন ক্রীড়া, সংস্কৃতিসহ সব অঙ্গনে। একজন দূরদর্শী, সাহসী মানুষ হিসেবে সে জানতো যে একসময় আমাদেরকে একটা যুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তান থেকে আমাদের স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে হবে। তিনি আমাদের জাতির জন্য যতটুকু দিতে দিয়েছেন, তাঁর এই অল্প বয়সে নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ডে শিকার হওয়ার জন্য আমরা জাতি হিসেবে সেটা থেকে বঞ্চিত হয়েছি।

দৈনিক ভোরের পাতার নিয়মিত আয়োজন ভোরের পাতা সংলাপের ৪২২তম পর্বে বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) আলোচক হিসেবে উপস্থিত হয়ে এসব কথা বলেন- সাবেক বাণিজ্য মন্ত্রী, সাবেক বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান এমপি, সংসদ সদস্য, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেডক্রস এন্ড রেডক্রিসেন্ট সোসাইটিজের গভনিংবডি সদস্য, অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক, স্বাধীন বাংলার জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রথম দলনেতা রকিবুল হাসান, জার্মান আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক লীগের সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ আহমেদ সেলিম। দৈনিক ভোরের পাতা সম্পাদক ও প্রকাশক ড. কাজী এরতেজা হাসানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাবেক তথ্য সচিব নাসির উদ্দিন আহমেদ।

লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেন, আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই ভোরের পাতাকে আজকে আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামালের ৭২তম জন্মদিন উপলক্ষে এই আলোচনার আয়োজন করেছেন এবং একই সঙ্গে আজকের আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দকে। শেখ কামাল সম্পর্কে কিছু বলার আগে আমি কিছু কথা বলতে চাই শুরুতে যে, আমরা যখন আজকে এই আলোচনা করছি এই আলোচনার সময়কালে আমরা মুজিববর্ষ পালন করছি, আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করছি। তাই আমি সবার আগে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ও তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি, ১৫ আগস্টের কালোরাতে বঙ্গবন্ধু মুজিবুর রহমান, পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামালসহ সকলকে এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। আজকের দিনটিতে আমাদের কামালকে নিয়ে আলোচনা করলে অবশ্যই স্বাভাবিক ভাবেই সেই দিনের কথা মনে পড়ে যায়, যখন আমরা ঢাকা কলেজে ১৯৬৬-৬৭’র সময় একসাথে পড়তাম। যদিও কামাল আমার থেকে এক বছরের জুনিয়র ছিল আমি ১৯৬৬ সালে এসএসসি পাস করে ঢাকা কলেজে ভর্তি হই ও ১৯৬৭ সালে শেখ কামাল ভর্তি হয়। বঙ্গবন্ধুর সন্তান বলেই কথা নয়, শেখ কামাল প্রচণ্ড ধরনের একজন হাস্যোজ্জ্বল মানুষ ছিলেন। আমি তখনকার কথা বলছি যখন তার বয়স আঠারো বছর। আমার মনে আছে যখন ঢাকা কলেজের ক্যান্টিনে সে প্রবেশ করতো তার সঙ্গে মিনিমাম ১০ থেকে ১৫ জন লোক থাকতো সবসময় তার সঙ্গে। ঢাকা কলেজের ক্যান্টিন তখন গরম হয়ে যেতো যে শেখ কামাল এসেছে। যেহেতু আমাকে সে তখন সম্পর্কে মামা বলে ডাকতো তখন অনেকবার এরকম হয়েছে যে, তার বন্ধুদেরকে সিঙ্গারা খাইয়ে চলে যাওয়ার সময় আমাকে বলত। ‘মামা, বিল দিয়ে দিও’। সে একজন ম্যান অফ স্প্রিট ছিল। সে সাহায্য করছে, চিন্তা করছে, দেশের কথা বলছে, ছাত্রলীগের সাংগঠন নিয়ে কথা বলছে। সব সময় এর মধ্যেই থাকতো। তার সঙ্গে বিভিন্ন সময় আমি তখন ঢাকা কলেজের ইউওটিসি ছিলাম। তখন ছিল ইউনিভার্সিটি অফিসারস ট্রেনিং কোর যেটাকে এখন বলা হয় বিএনসিসি বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর। আমি ঢাকা কলেজের ইউওটিসির প্রধান ছিলাম। তো কামাল আমাকে সবসময় বলতো, তুমি তো আর্মিতে যাবা, সেখানে ভালো করে ট্রেনিং নিয়ে আসো, আমাদের সামনে ট্রেনিং লাগবে। আমি এই কথাটা এইজন্যই বললাম যে, একজন দূরদর্শী, সাহসী মানুষ হিসেবে সে জানতো যে একসময় আমাদেরকে একটা যুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তান থেকে আমাদেরকে আমাদের স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে হবে। 



অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত বলেন, উদ্দীপ্ত যৌবনের দূত শেখ কামাল। আজকের জন্মদিনে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। সাথে সাথে সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করছি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্টে তাকেসহ সপরিবারে যাদেরকে হত্যা করা হয়েছে তাদেরকে। এছাড়া শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি, জাতীয় চার নেতাসহ মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন তাদেরকে। আসলে এই মাসটি আমাদের জন্য শোকের মাস। জাতীয় শোক দিবস পনেরই আগস্ট আরো কয়েকদিন পরে। তার মধ্যে একজন তরুণ, একজন যুবক মাত্র ২৬ বছর বয়সে দুনিয়া থেকে চলে যেতে হয়েছে। সেই অল্প বয়সেই তিনি আমাদের জন্য অনেক কিছু করে দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু যেমন আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছেন, স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমাদেরকে সেই স্বাধীনতা দিয়েছেন, তিনি সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। আজ তার রক্তধারায় জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যাচ্ছেন এবং তাঁর ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামাল তিনি সেই বয়সেই ২০ বছর হতে না হতেই মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। সেই সময়টিতে বাংলাদেশের যে কয়জন মেধাবী মুক্তিযোদ্ধাদের একটি ট্রেনিং লিস্ট হয়েছিল এবং ট্রেনিং লিস্টে ৬৩ জন ছিল। তার মধ্যে তিনি অন্যতম ছিলেন তার নিজের মেধার যোগ্যতায়। তিনি একজন ভালো সংগঠক ছিলেন। সাংস্কৃতিক ও খেলাধুলার অঙ্গনে তার বিচরণ এখনো মানুষ স্মরণ করে। আজকে বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ক্লাব আবাহনী ফুটবল ক্লাবের তিনি প্রতিষ্ঠাতা, স্পন্দনশীল গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা এবং সেই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা সাথে তার সম্পর্ক বাংলার বাণী থেকে শুরু করে সব কিছুর সঙ্গে তার নিবিড় সম্পর্ক ছিল। কিন্তু তিনি আমাদের জাতির জন্য যতটুকু দিতে পারতেন বলে আমরা মনে করছি আসলে এই অল্প বয়সে চলে যাওয়ার কারণে, এই নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ডে শিকার হওয়ার জন্য আমরা জাতি হিসেবে সেটা থেকে বঞ্চিত হয়েছি।

কাজী রিয়াজুল হক বলেন, শেখ কামালের বিচরণ অনেক ক্ষেত্রেই ছিল। আজকের প্রেক্ষাপটে যেখানে যুব সমাজ তার সংস্কৃতি ভুলে যাচ্ছে, যেখানে আজকের যুব সমাজ একেবারেই অন্য পথে অগ্রসর হচ্ছে সেখানে কামালের আদর্শটা এই যুব সমাজের জন্য ব্যাপকভাবে প্রয়োজন। শেখ কামাল ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পদ-পদবি তার ছিল না। তার চলন ও বলনে কোথাও সেই অহংকার বা আভিজাত্য ফুটে ওঠেনি। তিনি তার মতোই চলতেন, সবার সঙ্গে মিশতেন। তবে তিনি সাংস্কৃতিক নানা ক্ষেত্রে নিজেকে নীরবে ব্যস্ত রাখতেন। ‘স্পন্দন’ নামে এক শিল্পীগোষ্ঠী গড়ে তুলেছিলেন শেখ কামাল তার বন্ধু শিল্পীদের নিয়ে। নিয়মিত মঞ্চনাটক করতেন তিনি, কলকাতার মঞ্চেও অভিনয় করে প্রশংসিত হয়েছেন। এ ছাড়া তিনি ঢাকা থিয়েটারের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। অভিনেতা হিসেবেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যাঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত শেখ কামাল শৈশব থেকে ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, বাস্কেটবলসহ বিভিন্ন খেলায় প্রচণ্ড আগ্রহ রাখতেন। তিনি উপমহাদেশের অন্যতম ক্রীড়া সংগঠন ও আধুনিক ফুটবলের প্রবর্তক আবাহনী ক্রীড়াচক্রের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। শহীদ শেখ কামাল আমৃত্যু এই দেশের নান্দনিক ফুটবল ও ক্রিকেটসহ অন্যান্য দেশীয় খেলার মানোন্নয়নে অক্লান্ত শ্রম দিয়ে অপরিসীম অবদান রেখেছিলেন। নতুন নতুন খেলোয়াড় সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ শিবির গড়ে তুলতেন এবং তাদের সঙ্গে নিয়মিত অনুশীলন করতেন। আজকে যদি আমরা তার আদর্শটা এই ক্রীড়াঙ্গনে, সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তার আদর্শকে ধরে রাখতে পারতাম তাহলে এই অবক্ষয়টা দূর করে আমরা জাতি হিসেবে দেশ হিসেবে আরও সুনামের জায়গায় যেতে পারতাম। আমাদের এই যে বড় বড় উন্নয়ন, মেগা প্রোজেক্ট হচ্ছে সেখানে মাঝে মাঝে কিছু অবক্ষয়ের জন্য এই সব উন্নয়নে কালিমা লেপন হচ্ছে। 

রকিবুল হাসান বলেন,  শেখ কামালের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ষাট দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে। ও জেলায় জন্মগ্রহণ করেছে, বেড়ে উঠেছে আমি সেই একই জেলার। কিন্তু আমার লেখা পড়াটা ও বেড়ে উঠা হয়েছে ঢাকায় থেকে। কামালের সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা বাস্কেট বলের মতো ছিল। শাহীন স্কুলে তখন কামাল পড়াশুনা করতো আর আমি সেন্ট গ্রেগরিতে পড়াশুনা করতাম। তদাকিন্তু পূর্ব পাকিস্তানে বিভিন্ন ধরণের খেলাধুলা হতো, যেমন বেসবল, রাগবি, বাস্কেটবল। সেই সুবাধে শাহিন স্কুল তখন অনেক ভালো ছিল। আমি হয়তো তখন ক্লাস সেভেন কিংবা এইটে পড়ি। কামাল আমার থেকে এক বছরের একাডেমিকলি সিনিয়র ছিল। কারণ ক্রীড়াবিদদের মধ্যে কোন বয়সের সিনিউরিটি বা বয়সের প্রাধান্য থাকেনা। ক্রীড়াঙ্গন এমন একটা প্লাটফর্ম যেখানে অফুরন্ত ভালোবাসা, উদ্যম কাজ করে। তাই ওইসময় থেকেই আমাদের মধ্যে একটা বন্ধুত্বসুলভ সম্পর্ক চলে এসেছিল। সেসময় এক বাস্কেটবল টুর্নামেন্ট থেকে তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক শুরু। ধারাবাহিভাবে আমাদের মধ্যে তখন যোগাযোগ হতে থাকলো। ওই খেলার সুবাদে আমাদের মধ্যে দেখা হতো, আলাপ হতো। এইজন্যই আমি সব সময় বলি কামালের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল লাভ এন্ড হেইট। এই ভালোবাসা আবার এই শত্রুতা। ভালোবাসা ছিল যখন আমরা সামাজিকভাবে একত্রে হতাম তখন আর শত্রুতা হতো যখন আমরা খেলার মাঠে থাকতাম। খেলা শেষ আবার আমাদের মধ্যে চলতে থাকলো সম্পর্কটা। এভাবে একসময় আমরা ঢাকা কলেজে আসলাম, তখন ঢাকা কলেজে নির্বাচন করলাম ছাত্রলীগ থেকে, ক্রীড়া সম্পাদক হলাম। কামালের কাছ থেকেই কিন্তু আমি উৎসাহটা পেয়েছিলাম। মাত্র অল্প বয়সে একজন ভিসনারি ব্যক্তিত্বের অধিকারি ছিল কামাল। তার কাজকর্মের সঙ্গে এসবই দৃশ্যমান ছিল। কমবয়সী হলেও তিনি একজন ভালো সংগঠক, উদ্যোক্তা এবং নেতৃত্বদানকারী তরুণ হিসেবে পরিচিতি অর্জন করছিলেন। স্বাধীন বাংলাদেশের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে শেখ কামালের অবদান অনস্বীকার্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যাঙ্গনে তিনি ছিলেন সুপরিচিত সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংগঠক এবং অভিনেতা। আবাহনী ক্রীড়াচক্র প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি দেশের ক্রীড়াজগতে স্মরণীয় হয়ে আছেন। ‘স্পন্দন শিল্পীগোষ্ঠী’র প্রতিষ্ঠাও তাকে অমরত্ব দান করেছে। প্রকৃতপক্ষে শেখ কামাল ছিলেন একজন ক্রীড়া ও সংস্কৃতিমনা সুকুমার মনেবৃত্তির মানুষ। তিনি কখনও ব্যবসায়িক কার্যকলাপে জড়িত হননি, অনর্থক ছোটেননি অর্থের পেছনে। শেখ কামাল নিরহঙ্কার, নির্লোভ রাজনৈতিক, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। 

সৈয়দ আহমেদ সেলিম বলেন, সর্বপ্রথম আমি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও  শিশুসন্তানসহ সপরিবারে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে নির্মমভাবে যাদের হত্যা করা হয়েছে তাদের আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। শেখ কামালের সাথে আমার একটা খুব সুন্দর মুহূর্তে পরিচয় হয়েছিল। আমি ঢাকা কলেজে ভর্তি হতে গেলাম তখন প্রিন্সিপাল জালাল স্যারের রুমে ওনার সামনে বসা ছিলাম। এমন সময় ইংরেজির হেড নোমান স্যার একজন হালকা পাতলা লম্বাটে গড়নের ছাত্রকে নিয়ে ঢুকলেন এবং প্রিন্সিপাল স্যারকে বললেন, ‘স্যার, ও শেখ মুজিবুর রহমান সাহেবের ছেলে শেখ কামাল। আমাদের কলেজে ভর্তি হতে চায়।’ তখন জালাল স্যার ওকে বসতে অনেক কথা বললেন এবং প্রশ্ন করলেন, ‘পলিটিক্স করো নাকি?’ কামাল দুহাত নেড়ে বললো, ‘না স্যার, আমি পলিটিক্স করিনা।’ তখন জালাল স্যার বললেন, ‘পলিটিক্স করা খারাপ না, Politics is the noblest profession for the ablest man, but not now. Build up your carrier First." কামাল তখন মাথা নেড়ে শুধু বললো, ‘জি স্যার, জি স্যার।’ আমাদের দুজনকেই সেদিন ভর্তি করে নিলেন। আমার ২১ এবং কামালের ২২ রোল নাম্বার। কিন্তু ওর এমন একটা গুণ ছিল যে, অসাধারণ মেধার অধিকারী ছিল। শিক্ষা, সংগীত, সংস্কৃতি থেকে শুরু করে সকল ক্ষেত্রেই ওর বলিষ্ঠতা ছিল অসাধারণ। তো সেদিন থেকে আমরা একে অপরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে গেলাম, আমাদের মধ্যে  ‘দোস্ত, তুই তুইয়ের’ সম্পর্ক হয়ে গেল। তাছাড়া ওর আরেকটা মেধা ছিল যে প্রচারের ক্ষেত্রে ওর একটা সেনসিটিভ জ্ঞান ছিল। এমনভাবে সে প্রচার করতো যে একটা ছোট স্লোগানের মাধ্যমে সে অনেক কিছু এগিয়ে নিতে পারতো। প্রথম বছরে আমি রাজনীতিতে খুবই একটিভ ছিলাম কিন্তু দ্বিতীয় বছরে পড়াশুনার জন্য রাজনীতি থেকে একটু দূরে সরে গিয়েছিলাম। তখন কলেজ সংসদের ইলেকশনের আগে কামাল আমাকে বলল, দোস্ত বঙ্গবন্ধু এখন আগরতলা মামলায় জেলে আছে, আমাদের বাইরে খুবই শক্তিশালী হতে হবে। আমি তোর সহযোগিতা চাই আমাকে এবার পাস করতে হবে। আমি তখন ওকে বললাম যে চিন্তা করিস না, তোকে আমি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পাস করাবো। ও আমার কোথায় কতটুকু আশ্বস্ত হতে পারলো তখন আমি সেটা জানিনা কিন্তু পন্ডিত নেহেরু একটা কথা বলেছিলেন ‘পলিটিক্স ইস এ গেম অফ গেম্বল’। তাই আমি কিছু কলকাঠি নেড়ে চুপচাপ বসেছিলাম। ইলেকশনের আগের আগেরদিন কামাল আমাকে বলছে, ‘কিরে, কিছুই তো বুঝতে পারছিনা।’ আমি তখন তাকে বললাম আরও একটু অপেক্ষা কর সবুরে মেওয়া ফলে। বিকালেই দেখা গেল ওর প্রতিদ্বন্দ্বী তার নমিনেশন উঠিয়ে নিলো এবং দেখা গেল সেবার কামালই একমাত্র বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পাস করেছিল।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


আরও সংবাদ   বিষয়:  ভোরের পাতা সংলাপ   শেখ কামাল  







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/agrani.gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]