শনিবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২ আশ্বিন ১৪২৮

শিরোনাম: ফিনল্যান্ড পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা    কমেছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা    কমেছে মৃত্যু, বেড়েছে শনাক্ত     বাংলাদেশের নতুন কোচ অস্কার    সাতক্ষীরায় ধানক্ষেতে মিললো দুই যুবকের মরদেহ    ইভ্যালির রাসেল-শামীমা ৩ দিনের রিমান্ডে    বগুড়ায় বাসের ধাক্কায় চুরমার অটোরিকশা, নিহত ২   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
শহীদ শেখ কামাল এক নিষ্কলঙ্ক, নির্লোভ, নিরহংকার এবং বহুমূখী প্রতিভা সম্পন্ন তারুণ্যের প্রতিক
শাহাবউদ্দিন মোহাম্মদ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ আগস্ট, ২০২১, ৭:৫৩ পিএম আপডেট: ০৫.০৮.২০২১ ৮:০১ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

আজ ৫ই আগষ্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শহীদ শেখ কামালের ৭২তম জন্ম বার্ষিকী। তার প্রথম পরিচয় তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জ্যৈষ্ঠ সন্তান। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র এবং বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। সেই পাকিস্তান আমলেই শাহীন স্কুল এবং ঢাকা কলেজ থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিকে প্রথম বিভাগে কৃতিত্বের সঙ্গে পাশ করে ঢাকা বিশ্বববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞানে ভর্তি হন। স্বাধীনতার পূর্বেই প্রথম বিভাগে অনার্স এবং ১৯৭২ সালে প্রথম বিভাগে মাষ্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন ভারতের শিগুড়ির মুর্তি ক্যান্টনমেন্ট থেকে উচ্চতর প্রশিক্ষন ওয়ার কোর্স শেষে বাংলাদেশ সেনাবাহীনির প্রথম ওয়ার কোর্সে ৬১জন অফিসারের সাথে তিনিও কমিশনপ্রাপ্ত হন ।পরে ক্যাপ্টেন পদোন্নতি পেয়ে বাংলাদেশ মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি জেনারেল ওসমানীর এডিসি হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৬ই ডিসেম্বর আত্মসমর্পনের দিন জেনারেল ওসমানীর সঙ্গে  পূর্ব রণাঙ্গন পরিদর্শনের সময় তাদের হেলিকপ্টার গুলিবিদ্ধ হলে ছাতকের সন্নিকটে জরুরী অবতরন করেন।তার ব্যাচের সহকর্মীদের অনেকে পরবর্তিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে উচ্চ পদে আসীন হলেও স্বাধীনতার পর তিনি সেনাবাহিনী থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে মাষ্টার ডিগ্রি শেষ করার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা জীবনে ফিরে যান। তিনি  একাধারে ক্রিড়া সংগঠক, সংস্কৃতি কর্মি ছিলেন, তিনিই বংলাদেশের আধুনিক ফুটবলের অগ্রদুত। তিনিই প্রথম বিদেশী কোচ এনে আবাহনী ক্রিড়া চক্র প্রতিষ্টা করেন। যে আবাহনী আজ বাংলাদেশের ক্রিড়া জগতের অন্যতম পথিকৃত। 

তিনি পাইওনিয়ার ক্রিকেট ও স্পন্দন শিল্পি গুষ্টির প্রতিষ্টাতা । যে শিল্পি গুষ্টিতে ছিলেন বাংলাদেশের পপ সম্রাট নামে খ্যাত আজম খান, ফেরদৌস ওয়াহিদ, ফিরোজ সাঁইয়ের মতো গুনি শিল্পিরা। তিনি একাধারে সেঁতার, তানপুরা ও তবলা বাজাতে পারতেন এবং ফুটবলের অনুরাগী হলেও তিনি ক্রিকেট, হকি এবং ভলিবল খেলায় পারদর্শী ছিলেন । তিনি ঢাকা থিয়েটারের সাথে যুক্ত ছিলেন। তার দৃঢ় ব্যক্তিত্বময় চারিত্রিক বৈশিষ্টের কথা বিস্তারীত জানা যায় প্রয়াত কথাসাহিত্যিক ও চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপচার্য অধ্যাপক আবুল ফজলের "শেখ মুজিব তাকে যেমন দেখেছি" বইটিতে। তিনি বইটি লিখেছেন ও প্রকাশ করেছিলেন ১৯৭৬ সালে জিয়ার সামরিক দূঃশাসনের সময়। ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা সত্বেও কামাল ভাই সরকারী ও দলীয় কোন উচ্চপদ দখল করেননি। কোন অবৈধ, অনৈতিক ব্যবসা, টাকা পাচার বা দখলবাজীর সাথে নিজেকে জড়িত করেননি। তিনি তারই ঘনিষ্ট পরিচিত বিশ্বাসঘাতক তৎকালীন উপ-সেনাপ্রধান জেঃ জিয়াউর রহমানের ছেলেদের মতো ক্ষমতার অপব্যবহার করে "হাওয়া ভবন"এর মতো কোন "খাওয়া ভবন" বানিয়ে লুটতরাজ করেননি, কমিশন, লাইসেন্স-পারমিটের ব্যবসা করেননি। তিনি কি না করতে পারতেন ? ইচ্ছে করলে তিনি সমগ্র গুলশান-বনানী-ধানমন্ডি দখল করতে পারতেন । বৃহৎ ইন্ডাষ্ট্রী, শপিংমল, মার্কেট এবং আবাসন প্রকল্পের মালিক হতে পারতেন। ইউরোপ-আমেরিকা-ভারত-দুবাইয়ে টাকা পাচার করে আলীশান বাড়ী-ঘর বানাতে পারতেন। কিন্ত দেশপ্রেমিক এই নিরহন্কার যুবকের চরিত্র ছিল তার মহান পিতা বঙ্গবন্ধুর মতোই নির্মল।



ধনসম্পদের প্রতি তার কোন বিন্দুমাত্র লোভ ছিলনা। তিনি ব্যস্ত ছিলেন শিল্প, সংস্কৃতি ক্রীড়ার মানউন্নয়ন নিয়ে। এদেশের যুবসমাজকে মাদক-ছিনতাই-লুটতরাজ আর হঠকারী ধবংসাত্মক সন্ত্রাসী রাজনীতি থেকে দুরে রাখতে শিল্প, সংস্কৃতি ও খেলাধুলার দিকে আকর্ষিত করাই ছিল তার উদ্দেশ্য, তার রাজনীতি এবং এর জন্য তিনি সরকারী বা দলীয় কোন উচ্চপদ দখল করেননি। তাই তিনি ব্যবসা-বানিজ্য বা নিজের আখের গোছানোর দিকে নজর না দিয়ে, নজর দিয়েছিলেন আবাহনী ক্রিড়াচক্রের মত একের পর এক বিভিন্ন ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সংগঠন গড়ে তোলার কাজে। সামান্যতম কোন অন্যায়ের সাথে জড়িত না হয়েও এই কির্তিমান দেশপ্রেমিক যুবককে জঘন্য মিথ্যা অপপ্রচারের শিকার হতে হয় । জঘন্য কলন্ক তিলক নিয়ে তাকে সপরিবারে নির্মমভাবে বিনাদোষে-বিনাবিচারে নিহত হতে হয় , স্বাধীনতা ও মানবতা বিরোধী অপশশক্তির হাতে। সেই সময় ঘাতকের নিয়ন্ত্রীত মিডিয়া (একটি টিভি ও একটি রেডিও) এক তরফা ব্যবহার করে খুনিরা বঙ্গবন্ধু পরিবারের বিরোদ্ধে জঘন্য মিথ্যাচার করে জনগনকে বিভ্রান্ত করে

হত্যাকান্ড, মানিলন্ডারিং, গ্রেনেড হামলা দুরের কথা এক পয়সার দূর্নীতিও তার বিরোদ্ধে কেউ আজ পর্যন্ত প্রমান করতে পারেনি ।তিনি কখনো কোন জাতীয় নেতার বিরোদ্ধে একটি অপ্রীতিকর হিংসাত্বক শব্দ ব্যবহার করেননি। আওয়ামী লীগের অনেক কট্রর বিরোধী ও সমলোচকদের সাথেও তার ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক ছিল বন্ধুত্ব ও সৌহা্দ্যপুর্ন।তার শাহাদাতের পর  ঢাকা শহরে তাদের ধানমন্ডির ৩২নম্বর ও টুঙ্গীপাড়ার পৈত্রিক  বাড়ী ছাড়া কোথাও তার অন্য কোন বাড়ী বা জায়গা পাওয়া যায়নি,, দেশ-বিদেশে তার কোন ব্যান্ক একাউন্ট পাওয়া যায়নি। অথচ তাকে হত্যার পর হত্যাকারীরা ও তাদের সমর্থক, পৃষ্টপোষকরাই ২১ বছর ক্ষমতায় ছিল, কিন্ত তারা কিছুই তার বিরোদ্ধে খুঁজে পায়নি । আজ দূঃখ লাগে শেখ কামালের পিছে পিছে যারা রাতদিন ঘুরে বেড়াতো, তার সেই সমস্ত দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ট বন্ধুরা, পরবর্তিতে আওয়ামী লীগ-বিএনপি-জাতীয় পার্টি এই তিন দলের, এই তিন সরকারের উচ্চপদে আসীন হয়েছে। জিয়া-এরশাদ-খালেদা-শেখ হাসিনার কেবিনেটে প্রভাবশালী মন্ত্রী হয়েছেন, এমপি, হয়েছেন। সামরিক-বেসামরিক প্রশাসনে, পররাষ্ট্র্র বিভাগে, আন্তর্যাতিক সংস্হায় উচ্চপদে আসীন হয়েছে। দেশের বড়, বড় শিল্প কারখানার মালিক হয়েছে, বিদেশ থেকে বড়, বড় পিএইচডি ডিগ্রি নিয়ে অধ্যাপক বুদ্ধিজীবি হয়েছে কিন্ত কেউই তাদের ঘনিষ্ট বন্ধু শহীদ শেখ কামালের বিরোদ্ধে জঘন্য মিথ্যাচারের জবাব দিতে খন্ডন করতে যথাযথ ভাবে এগিয়ে আসেনি। 

আজ দেশের অন্যতম এই কীর্তিমান পুরুষের ৭২তম জন্মদিনে তাকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরন করছি এবং কামনা করছি প্রতিটি বাঙ্গালী যুবক যেন তার মতো আদর্শবান, নিরহন্কার ও দেশপ্রেমিক সৎ নাগরিক হিসাবে নিজেদের গড়ে তোলে। শেখ কামাল হতে পারে বাংলাদেশের যুব সমাজের রোল মডেল, আইকন। তাই শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের প্রতি বিনীত আবেদন থাকবে এই কীর্তিমান পুরুষের জীবনী যেন প্রাথমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পাঠ্য পুস্তকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়।  আল্লাহ সকল শহীদকে নিশ্চয় বেহেশতে নসীব করেন। জয়বাংলা- জয়বঙ্গবন্ধু, জয় শহীদ শেখ কামাল।

লেখক: সাবেক সভাপতি, জার্মান আওয়ামী লীগ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/agrani.gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]