রোববার ২৪ অক্টোবর ২০২১ ৭ কার্তিক ১৪২৮

শিরোনাম: আজ জাতিসংঘ দিবস    দ. কোরিয়া সফর শেষে দেশে ফিরলেন সেনাপ্রধান    বিএফইউজের নেতৃত্বে ওমর ফারুক-দীপ আজাদ    দেশে ৬ কোটির বেশি করোনার টিকা প্রয়োগ    শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতিসংঘ গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর    ফেসবুকে ধর্মীয় উসকানিমূলক পোস্ট: ইবি শিক্ষার্থী গ্রেফতার    ওয়েস্ট ইন্ডিজদের লজ্জায় ডোবালো ইংল্যান্ড   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশে’র সুবর্ণজয়ন্তী স্মরণ করলেন রবিশঙ্কর-হ্যারিসনের উত্তরসূরিরা
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ আগস্ট, ২০২১, ১০:২৫ এএম | অনলাইন সংস্করণ

মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন অনেক বিদেশী বন্ধু। পাশে দাঁড়ানোর অসাধারণ একটি উদ্যোগের নাম “দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ”। সেই কনসার্টটির সুবর্ণজয়ন্তীর দিনে ঐতিহাসিক সেই মুহূর্তকে স্মরণ করেছেন সেই আয়োজনের মূল দুই উদ্যোক্তা সংগীত তারকা রবিশঙ্কর আর জর্জ হ্যারিসনের উত্তরসূরিরা।

নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ১৯৭১ সালের ১ অগাস্ট হয়েছিল বিখ্যাত সেই কনসার্ট। তখনকার পূর্ব পাকিস্তানে স্বাধীনতার জন্য প্রাণপণে লড়ছে মুক্তিকামী বাঙালি, আর সীমান্তের ওপারে ভারত সীমান্তে মানবেতর জীবনযাপন করছে এক কোটি শরণার্থী।

তাদের দুর্দশা দেখে কিছু করতে উদ্যোগী হন বিশ্ব বিখ্যাত সেতারবাদক পণ্ডিত রবি শঙ্কর। নিজের ভাবনার কথা তিনি প্রকাশ করেন দীর্ঘদিনের বন্ধু বিটলস তারকা জর্জ হ্যারিসনের কাছে। হ্যারিসনের আমন্ত্রণে সেই কনসার্টে অংশ নেন বব ডিলান, রিঙ্গো স্টার, বিলি প্রেস্টন, লিওন রাসেল ও গিটারিস্ট এরিক ক্ল্যাপটনসহ আরও অনেকে।

সেই কনসার্ট থেকেই বাংলাদেশের নাম রাতারাতি পৌঁছে যায় পৃথিবীর বহু মানুষের কাছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সেই কনসার্টের ৫০ বছর পূর্ণ হল ১ অগাস্ট।

সেই কনসার্টের একটি ভিডিওর অংশ টুইটারে পোস্ট করে রবি শঙ্করের মেয়ে সুরকার ও সেতারবাদক আনুশকা শঙ্কর এক টুইটে লিখেছেন, “৫০ বছর আগে আজকের এই দিনে বাংলাদেশের জরুরি ত্রাণ সহায়তার জন্য বাবা ও জর্জ হ্যারিসন কনসার্ট ফর বাংলাদেশের আয়োজন করেছিলেন। বেনিফিট কনসার্টের যে ধারণা আজ আমাদের মধ্যে রয়েছে, সেই সময় তার মানদণ্ড তারা তৈরি করে দিয়েছিলেন।”

রবি শঙ্করের তৃতীয় স্ত্রী সুকন্যা শঙ্করের সংসারে জন্ম নেওয়া আনুশকার শৈশব কেটেছে দিল্লি ও লন্ডনে। দুই সন্তানকে নিয়ে যুক্তরাজ্যেই থিতু হয়েছেন তিনি।  

গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড জয়ী যুক্তরাষ্ট্রের গায়িকা নোরা জোনস আনুশকার সৎ বোন। শুভেন্দ্র শঙ্কর নামে তার আরেক সৎ ভাই ছিলেন; রবি শঙ্কর মারা যাওয়ার দুই দশক আগে শুভেন্দ্র মারা যান।

নিজের সংগীত চর্চার পাশাপাশি রবি শঙ্কর ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যুক্ত আছেন আনুশকা, এ ফাউন্ডেশনের আয়োজনে নিয়মিত বিভিন্ন আয়োজনে পারফর্ম করেন তিনি।

সুবর্ণজয়ন্তীর বছরে ভারত সরকারের আয়োজনে কনসার্ট ফর বাংলাদেশের পুনঃমঞ্চায়নের একটি পরিকল্পনার খবরও বেরিয়েছিল কিছুদিন আগে। রবিশঙ্করের মেয়ে আনুশকা আর জর্জ হ্যারিসনের ছেলে ধানি হ্যারিসনের সেই আয়োজনে যুক্ত থাকার কথা বলা হয়েছিল সেই খবরে।

‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’র সাত বছর পর জর্জ হ্যারিসন ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী ওলিভিয়া হ্যারিসনের সংসারে জন্ম নেওয়া ধানিও বাবার পথ ধরে সংগীতে মনোনিবেশ করেছেন। যুক্তরাজ্যের পরিচিত গায়ক, সুরকারদের একজন তিনি।

২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের লস এঞ্জেলসে মারা গেছেন জর্জ হ্যারিসন। ২০১০ সাল থেকে তার উত্তরাধিকারদের পক্ষ থেকে তার নামে একটি টুইটার অ্যাকাউন্ট সচল রাখা হয়েছে। কনসার্ট ফর বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তীর দিনে সেই অ্যাকাউন্ট থেকেও বিশেষ দিনটিকে স্মরণ করা হয়েছে।

রোববার এক টুইটে লেখা হয়, “৫০ বছর আগে আজকের এই দিনে বাংলাদেশের জরুরি ত্রাণ সহায়তায় অর্থ সংগ্রহের জন্য জর্জ হ্যারিসন ও রবি শঙ্কর কনসার্ট ফর বাংলাদেশের আয়োজন করেছিলেন। জাতিসংঘ শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) সঙ্গে সেই লিগ্যাসি আজও অব্যাহত আছে।”

সেই বেনিফিট কনসার্ট থেকে পাওয়া অর্থ একটি চেকের মাধ্যমে পাঠানো হয় জাতিসংঘ শিশু তহবিলে (ইউনিসেফ)। দুই লাখ ৪৩ হাজার ৪১৮ ডলার ৫০ সেন্টের ওই চেকের একটি অংশে লেখা ছিল ‘বাংলাদেশের শরণার্থী শিশুদের ত্রাণের জন্য’।

এছাড়া ক্যাপিটল রেকর্ডস কনসার্ট ফর বাংলাদেশ লাইভ অ্যালবামের আগাম বিক্রি বাবদ ৩৭ লাখ ৫০ হাজার ডপলারের আরেকটি চেক অ্যাপলকে দেয়। পরে অ্যালবাম বিক্রি থেকে আরও অর্থ আসে। 

কিন্তু ওই কনসার্ট যে দাতব্য উদ্দেশ্যে করা হয়েছে তা আগে থেকে নিবন্ধন না করায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার কর অব্যাহতি দিতে অস্বীকার করে। ফলে ওই টাকার একটি বড় অংশ ইন্টারনাল রেভিনিউ সার্ভিসের অ্যাকাউন্টে পড়ে থাকে। 

১৯৭২ সালে ইউনিসেফের মাধ্যমে ২০ লাখ ডলার শরণার্থীদের কাছে পৌঁছায়। আর ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত ১ কোটি ২০ লাখ ডলারের মত বাংলাদেশে পাঠানো হয় বলে লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল।

সত্তরের দশকের শুরুতে বিশ্বে স্নায়ুযুদ্ধের ওই সময়টায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার অবস্থান নিয়েছিল পাকিস্তানের পক্ষে। তখন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেই বিশ্বখ্যাত শিল্পীদের অংশগ্রহণে সেই কনসার্ট বাংলাদেশের পক্ষে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কনসার্ট ফর বাংলাদেশের আয়োজনে একাত্তরের পুরো জুন আর জুলাইয়ের অর্ধেক সময় বিভিন্ন শিল্পীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কাটান জর্জ হ্যারিসন।



তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বিখ্যাত শিল্পীদের একজন বব ডিলান কনসার্টে অংশ নিতে সম্মত হন। প্রাক্তন বিটলস সদস্য রিঙ্গো স্টারও রাজি হন কনসার্টে অংশ নিতে। এগিয়ে আসেন আরও দুই বিখ্যাত মার্কিন গায়ক বিলি প্রেস্টন ও লিওন রাসেল এবং তখনকার দিনের অন্যতম সেরা গিটারিস্ট এরিক ক্ল্যাপটন।

ব্রিটিশ রক ব্যান্ড ব্যাডফিঙ্গার, জার্মান মিউজিশিয়ান ক্লাউস ভুরম্যান, মার্কিন ড্রামার জিম কেল্টনার, জিম হর্নসের নেতৃত্বে ‘হলিউড হর্নস’ দলের সদস্যরা, গিটারিস্ট জেসি এড ডেভিস, কার্ল রেডল এবং আরও অনেক শিল্পী অংশ নেন বাংলাদেশের জন্য কনসার্টে।

আর কনসার্টের প্রথম অংশে ভারতীয় সংগীতপর্বে রবি শঙ্করের সঙ্গে অংশ নেন বিখ্যাত দুই ভারতীয় শিল্পী, ওস্তাদ আলী আকবর খান আর আল্লাহ রাখা।

কনসার্টের বিকালের ভাগের শেষ গানটি ছিল জর্জ হ্যারিসনের ‘বাংলাদেশ’। ওই গানের শুরুর কথায় পণ্ডিত রবি শঙ্করের সঙ্গে তার কথোপকথনটিই যেন ফুটে ওঠে।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://www.dailyvorerpata.com/ad/Comp 1_3.gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]