রোববার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ ৪ আশ্বিন ১৪২৮

শিরোনাম: ই-কমার্স গ্রাহকদের নিয়ে পরামর্শ দিলেন হাইকোর্ট    আদালতে জেমস    খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ আরও বাড়ল    জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান হলেন শাফিন আহমেদ    বিএনপি দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে: ওবায়দুল কাদের    ইভ্যালির রাসেল দম্পতির বিরুদ্ধে আরেক মামলা    ডিআইজি প্রিজন্স পার্থ গোপাল কারাগারে   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
ভিকারুননিসার অধ্যক্ষের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণে শঙ্কিত অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা
রতন বালো
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই, ২০২১, ১১:১৭ পিএম আপডেট: ২৭.০৭.২০২১ ১১:২১ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ নিয়ে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। অধ্যক্ষ ও বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা কামরুন নাহার এবং অভিভাবক ফোরামের উপদেষ্টা মীর শাহাবুদ্দিন টিপুর একটি ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার পর থেকে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত দেড় বছর যাবত করোনা ভাইরাসের কারণে সারা দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় কোন ক্লাস হচ্ছে না। শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছেন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। অতিদ্রুত চলমান অচলাবস্থার অবসান না ঘটলে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ক্ষুণেœর আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফোনালাপ নিয়ে দেশের শিক্ষাবিদরা তাদের মতামত জানিয়েছেন। 

কথা হয় দেশের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে। তিনি যেমনটি বলছিলেন। ‘ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ও অভিভাবক ফোরামের উপদেষ্টা মীর শাহাবুদ্দিন টিপুর ফোনালাপ কতটা সত্য, কতটা মিথ্যা এটা জানার বিষয়। যদি সত্য হয় তাহলে বলতে হবে এটা একেবারেই অনাকাক্সিক্ষত। দৈনিক ভোরের পাতার এ প্রতিবেদককে তিনি বলেন, ‘অনলাইনের মাধ্যমে যা জানা গেছে তাতে মনে হয়েছে বিষয়টি নিয়ে নিজেদের শালীনতা তারা বজায় রাখতে পারেননি। তারপরেও বিষয়টি নিয়ে এখনই উপসংহারে আসার সুযোগ নেই। উভয়ে ঔদ্ধত্য আচরণ করেছেন কিনা সেটি প্রমাণের বিষয়। ফোনালাপ সত্য হলে উভয়েরই শাস্তি হওয়া উচিৎ বলে মন্তব্য করেন ড. আজাদ। একই সঙ্গে তিনি চলমান সংকটে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে হতাশা বা শঙ্কা তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। করোনার কারণে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এমনিতেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।  

কথা হয় বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর এ এন রাশেদার সঙ্গে। তিনিও ঘটনাটি নিয়ে এভাবেই নিজের মতামত জানালেন। ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কাজ হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়ানো। এই শিক্ষকরাই যদি কোন অভিভাবকদের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন সেটি কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এমনিতেই করোনা মহামারির কারণে শিক্ষা ব্যবস্থা সংকটের মধ্যে রয়েছে। এ সময়ে সবাই বিপদগ্রস্ত।’ বিপদগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের মন ভালো রাখার জন্য শিক্ষকদের আচরণ ভালো হওয়া উচিত। কিন্তু শিক্ষকরা যদি ঔদ্ধত্য দেখান বা অশালীন আচরণ করেন তাহলে শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। আমি মনে করি ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ও অভিভাবক ফোরামের উপদেষ্টা মীর শাহাবুদ্দিন টিপুর মধ্যে যে ফোনালাপ তা কোনভাবেই মেনে নেওয়ার মত নয়। শিক্ষক ও অভিভাবকের ব্যবহার হবে মানবিক, মিথ্যাকে এড়িয়ে সত্য কথাটিই বলতে হবে। কারণ, শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের কাছ থেকেই শিখবেন। তাই শিক্ষার্থীদের প্রতি সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণের বিকল্প নেই। 



প্রফেসর রাশেদা বলেন, যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও অভিভাবকের আচরণ ভুল হয়, তাহলে দু’পক্ষই দোষী। একটা ক্লাসে ৮০ জন করে শিক্ষার্থী ক্লাস করেন।  এক্ষেত্রে সপ্তাহে একদিন করে হলেও স্কুল বা কলেজে যাওয়ার সুযোগ থাকলে অত্যন্ত পক্ষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষার আগ্রহ বলবৎ থাকে। করোনাতে এমনিই ক্লাস হয় না। তাই আমি মনে করি অধ্যক্ষ ও অভিভাবকের আচরণ আরও সুন্দর হতে হবে। বিষয়টি সৌজন্যতার খাতিরেই মেনে চলতে হবে। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ও বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা কামরুন নাহার ও অভিভাবক ফোরামের উপদেষ্টা মীর শাহাবুদ্দিন টিপুর ফোনালাপ নিয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এভাবেই তার মতামত দিলেন। ভাইরাল হওয়া বিষয়টি তাদের একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার বলে মনে করছেন তিনি। 

দৈনিক ভোরের পাতার সঙ্গে আলাপকালে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর নেহাল আহমেদ বলেন, সত্য ও মিথ্যার বিষয়ে প্রমাণ করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতি নির্ধারক মহল। ফোনালাপ তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার কিনা তাও মন্ত্রণালয় দেখবে। তিনি এ বিষয়ে আর কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে দৈনিক ভোরের পাতার সঙ্গে আলাপকালে একজন অভিভাবক এ বিষয়ে নিজের নাম না প্রকাশ করে বলেন, অধ্যক্ষের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করলে তাকে গালি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জানতে দৈনিক ভোরের পাতা অধ্যক্ষ কামরুন নাহারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে অধ্যক্ষ নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং তিনি বলেন, অভিভাবক ফোরাম নামে অভিভাবকদের একটি সংগঠন নানাভাবে তাকে হেয় করার চেষ্টা করছে। আর গালি দেওয়ার ফোনকল রেকর্ডটি এডিট করা। অভিভাবকদের সঙ্গে ফোনে কথা হয়নি বলেও দাবি তার। 

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ কামরুন নাহারের বলেন, আমার সাথে কোন অভিভাবকের ফোনে কথা হয়নি। তাই গালাগাল করার প্রশ্নই আসে না। অধ্যক্ষ আরও বলেন, অভিভাবক ফোরাম নামে একটি সংগঠন আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে। তারা বিভিন্ন অজুহাতে ক্যাম্পাসে ব্যবসা করার ফন্দি করছেন। তাদের ব্যবসার অনুমতি না দেওয়ায় তারা নানা অপপ্রচারে মেতেছে। যাদের ভেতরে টিপু, মজিদ, রানাসহ অনেকে নানাভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। 

এদিকে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অভিভাবক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মজিদ সুজন দৈনিক ভোরের পাতাকে বলেন, অধ্যক্ষের সঙ্গে মীর শাহবুদ্দিন টিপু নামের এক অভিভাবক টেলিফোনে কথা বলতে গেলে তিনি তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। অভিভাবক হিসাবে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তার কাছে অফিস করার বিষয়ে জানতে চাই। এসময় তিনি উত্তেজিত হয়ে গালাগালি শুরু করেন। এমনকি নিজের রাজনৈতিক প্রভাবের কথা জানাতে ভুল করেননি অধ্যক্ষ। 

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/agrani.gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]